০৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএসএমএমইউ হাসপাতালে আসবাবপত্র কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম

➤ ক্রয় কমিটির সদস্য সচিবকে না জানিয়ে বিল উত্তোলন
➤ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এখনো হয়নি তদন্ত
➤ অভিযোগকারীকেই উল্টো দোষারোপ চেয়ারম্যানের
➤ কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাব দিয়েছেন ভুক্তভোগী
➤ সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি চিকিৎসক মহলের

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারের মালামাল এবং চেয়ারম্যানের কক্ষের আসবাবপত্র কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ না করে ক্রয় কমিটির প্রধানকে না জানিয়ে শুধুমাত্র নিজস্ব লোক দিয়ে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনাকাটার কারণে বিভাগীয় চিকিৎসকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৪-জানুয়ারির ফেইজ-বি ফাইনাল পরীক্ষার পরীক্ষক কমিটি গঠনেও অনিয়ম হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে গত বছরের ৪ এপ্রিল থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিএসএমএমইউ’র ভাইস চ্যান্সেলরের দপ্তরে ৩টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোনো তদন্তই হয়নি। বরং তদন্ত না করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্বার্থান্বেষী একটি মহল অভিযোগকারীকেই উল্টো দোষারোপ করছেন। কর্তৃপক্ষের এমন চিঠির জবাবও দিয়েছেন ভুক্তভোগী। নীতি বিবর্জিত এমন কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ডেন্টাল অনুষদসহ অন্যান্য বিভাগের সাধারণ চিকিৎসকরা। সম্প্রতি হাসপাতালের ডেন্টাল অনুষদ ঘুরে ও ভাইস চ্যান্সেলরের দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের ডেন্টাল অনুষদটি ছিল পুরাতন ভবনের এ ব্লকে। পরবর্তীতে রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিতে ২০২৩ সালের মার্চে হাসপাতালের সম্প্রসারিত নতুন ভবনের সপ্তম তলা থেকে এগারো তলা পর্যন্ত ৫টি ফ্লোরে ডেন্টাল অনুষদটির পাঁচটি বিভাগ স্থানাস্তর করা হয়। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অদ্যাপক ডা. নাজিয়া মেহনাজের চেম্বারের আসবাবপত্র কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম জাকির হোসেন সিকদার দায়িত্বে থাকার পরও তাকেও অবহিত করেননি বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজিয়া মেহনাজ। বরং কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের লোকবল দিয়ে জরুরি প্রয়োজনীয় ওটির মালামাল ও নিজের চেম্বারের

আসবাবপত্র ক্রয় করেন। এ নিয়ে পুরো ডেন্টাল অনুষদজুড়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিসির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ এপ্রিল বিএসএমএমইউ’র পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের ওটি’র মালামাল ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানের অফিসের আসবাবপত্র ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজিয়া মেহনাজের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন ওই বিভাগের ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম জাকির হোসেন সিকদার। তিনি তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১১ সালের ২৩ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে আমি (ডা. জাকির) বিভাগীয় ক্রয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। গত বছরের ২ জুলাই বিভাগের অফিস সহকারী শাহানা পারভীন ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য আবেদন করেন। আমি ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব। অথচ আমাকে বিষয়টি অবহিত না করে বিভাগীয় প্রধান ডা. নাজিয়া মেহনাজ দুর্নীতির উদ্দেশ্যে জিনিসপত্র ক্রয় করেন। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়া দেখানোর জন্য ডা. নাজিয়া মেহেনাজ ও অধ্যাপক ডা. আলী আসগর মোড়ল সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০২৩ সালের ২ জুলাই হতে ২২ জুলাই পর্যন্ত এক পাতার ভুয়া কার্যবিবরণিতে ৬টি ধাপে কার্যাদেশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ১৬ জুলাই কার্যাদেশ প্রদান করেন! সর্বোপরি ৩১ জুলাই আসবাবপত্রগুলো বুঝে নেন।

উল্লেখ্য, স্মারক নং-বিএসএমএমইউ/২০২৩/১০০২১, তারিখ-২৫ জুলাই ২০১৩ ইং অনুযায়ী একটি নতুন আদেশে তাকে (ডা. নাজিয়া) বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব করা হয়। অথচ ২ জুলাই তারিখ থেকেই তিনি (ডা. নাজিয়া) নিজেই নিজেকে ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব দেখিয়ে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন; যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত। ক্রয় কার্যক্রমের কোথাও আমাকে সম্পৃক্ত না করেও তিনি আসবাবপত্রের বিল প্রদান করেন। পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ না করে এভাবে আসবাবপত্র ক্রয়ে বিভাগীয় চিকিৎসকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভাইস চ্যান্সেলরের দপ্তরে গত ১৩ নভেম্বর দাখিল করা আরেকটি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের ২৩ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে আমি (ডা. জাকির) বিভাগীয় ক্রয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। গত ১ জুলাই বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স জোহরা খাতুন বিভাগীয় চাহিদানুযায়ী একটি ডেন্টাল ইউনিটের মূল্যবান মেশিনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ের জন্য আবেদন করেন। আমাকে বিষয়টি অবহিত না করে বিভাগীয় প্রধান ডা. নাজিয়া মেহনাজ সম্পূর্ণ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির উদ্দেশ্যে পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ না করে তার দেবর আক্তার হোসাইনের প্রতিষ্ঠান এমএমএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে উক্ত মেশিন ওটিতে স্থাপন করেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ও আইনি প্রক্রিয়া দেখানোর জন্য ডা. নাজিয়া মেহেনাজ ও অধ্যাপক ডা. আলী আসগর মোড়ল সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে গত ১ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ১ পাতার কার্যবিবরণীতে ৬টি ধাপে কার্যাদেশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ২৭ জুলাই কার্যাদেশ প্রদান করেন। এসব প্রক্রিয়ায় কমিটির অন্য কোনো সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ক্রয় কার্যক্রমের কোথাও আমাকে সম্পৃক্ত না করেও তিনি বিল প্রদানের জন্য বিলের কপিতে স্বাক্ষরের জন্য আমার কাছে পাঠান। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিলে স্বাক্ষর করা আপনার নেতৃত্বের প্রতি অসম্মান করার শামিল। তাই এই রকম অনিয়ম করে আপন দেবরকে দিয়ে কার্যসম্পাদন করার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি আপনার সদয় অবগতি ও পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।

এদিকে বিএসএমএমইউ’র ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে প্লাম্বার পদে চাকরি করেন মোহাম্মদ আলী নামের তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মচারী ও ডেন্টাল অনুষদের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করেন শাহান পারভীন। তারা চাকরিজীবী হয়েও হাসপাতালের ডেন্টাল অনুষদসহ অন্যান্য বিভাগের দরজা-জানালাসহ জরুরি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনাকাটার কাজ করছেন। যা বিধি বহির্ভূত বলে জানান হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। তারা দু’জনই চাকরির পাশাপাশি কথিত টেন্ডারের মাধ্যমে হাসপাতালের মালামাল ক্রয় ও সরবরাহ করে বিধি ভঙ্গ করে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসব বিষয়ে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে মোহাম্মদ আলী ফোন রিসিভ করেও কোনো বক্তব্য দেননি। তবে শাহানা পারভীন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিএসএমএমইউ’র উপাচার্যের দপ্তরে দাখিলকৃত আরো একটি অভিযোগে বলা হয়, বিএসএমএমইউ’র ডেন্টাল অনুষদের অন্তর্গত পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম, জানুয়ারি-২০২৪ এর ফেইজ-বি ফাইনাল পরীক্ষার পরীক্ষক নিয়োগে অনিয়ম করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক ডিনের দপ্তরে পরীক্ষকগণের তালিকা পাঠানো হয়। তালিকায় পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বর্তমান চেয়ারম্যান ডা. নাজিয়া মেহনাজ নিজেই সভাপতি ও সদস্য সচিব দুইটি পদেই স্বাক্ষর করেন এবং সদস্য হিসাবে সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. কামাল আবদুল্লাহ শান্ত স্বাক্ষর করেন। অথচ ডা. মো. কামাল আবদুল্লাহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেছেন গত ১৭ অক্টোবর। অর্থাৎ যোগদানের এক মাস আগেই তিনি বিভাগীয় পরীক্ষক কমিটির সদস্য হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন। যা কোনোমতেই বিধিসম্মত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিভাগীয় পরীক্ষক কমিটি পূর্ণগঠন করে পরীক্ষক নিয়োগের জন্য উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপক।

বিএসএমএমইউ’র পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. নাজিয়া মেহনাজ বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি কেউ এগুলো করে থাকে, তাহলে আমার মনে হয়- কেউ পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে এগুলো করতে পারে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিএসএমএমইউ’তে কেনাকাটার কোনো সুযোগ নেই। বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে সব নিয়ম মেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই ডেন্ট্রিস্ট্রি বিভাগে ওটি চিকিৎসায় ডেন্টাল ইউনিটের মালামাল এবং চেয়ারম্যানের কক্ষের আসবাবপত্র কেনাকাটা করেছি। এটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অবগত আছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালের রেজিস্টার্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন বলেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এসব বিষয়ে জানতে একাধিকবার বিএসএমএমইউ’র ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আলী আজগর মোড়ল এবং ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হকের অফিসে সরাসরি ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এসব বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলর স্যারের বরাবর অভিযোগ এসেছে। স্যার প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা আর হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় গত ২৪ জুন ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসক কর্তৃপক্ষের দপ্তরে লিখিতভাবে এর জবাব দিয়েছেন বলে ভিসির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিএসএমএমইউ’র কোনো অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা নিয়োগ, ক্রয়-বিক্রয়সহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টতা খুব বেশি থাকে না। এরপরও হাসপাতালটিতে সরকার অর্থায়ন করে উল্লেখ করে তারা জানান, স্বাস্থ্যখাতে অবশ্যই অনিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বিএসএমএমইউ হাসপাতালে আসবাবপত্র কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম

আপডেট সময় : ০৮:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪

➤ ক্রয় কমিটির সদস্য সচিবকে না জানিয়ে বিল উত্তোলন
➤ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এখনো হয়নি তদন্ত
➤ অভিযোগকারীকেই উল্টো দোষারোপ চেয়ারম্যানের
➤ কর্তৃপক্ষের চিঠির জবাব দিয়েছেন ভুক্তভোগী
➤ সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি চিকিৎসক মহলের

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারের মালামাল এবং চেয়ারম্যানের কক্ষের আসবাবপত্র কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ না করে ক্রয় কমিটির প্রধানকে না জানিয়ে শুধুমাত্র নিজস্ব লোক দিয়ে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনাকাটার কারণে বিভাগীয় চিকিৎসকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২৪-জানুয়ারির ফেইজ-বি ফাইনাল পরীক্ষার পরীক্ষক কমিটি গঠনেও অনিয়ম হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে গত বছরের ৪ এপ্রিল থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিএসএমএমইউ’র ভাইস চ্যান্সেলরের দপ্তরে ৩টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোনো তদন্তই হয়নি। বরং তদন্ত না করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্বার্থান্বেষী একটি মহল অভিযোগকারীকেই উল্টো দোষারোপ করছেন। কর্তৃপক্ষের এমন চিঠির জবাবও দিয়েছেন ভুক্তভোগী। নীতি বিবর্জিত এমন কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ডেন্টাল অনুষদসহ অন্যান্য বিভাগের সাধারণ চিকিৎসকরা। সম্প্রতি হাসপাতালের ডেন্টাল অনুষদ ঘুরে ও ভাইস চ্যান্সেলরের দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের ডেন্টাল অনুষদটি ছিল পুরাতন ভবনের এ ব্লকে। পরবর্তীতে রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিতে ২০২৩ সালের মার্চে হাসপাতালের সম্প্রসারিত নতুন ভবনের সপ্তম তলা থেকে এগারো তলা পর্যন্ত ৫টি ফ্লোরে ডেন্টাল অনুষদটির পাঁচটি বিভাগ স্থানাস্তর করা হয়। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলাকালে পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অদ্যাপক ডা. নাজিয়া মেহনাজের চেম্বারের আসবাবপত্র কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম জাকির হোসেন সিকদার দায়িত্বে থাকার পরও তাকেও অবহিত করেননি বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজিয়া মেহনাজ। বরং কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের লোকবল দিয়ে জরুরি প্রয়োজনীয় ওটির মালামাল ও নিজের চেম্বারের

আসবাবপত্র ক্রয় করেন। এ নিয়ে পুরো ডেন্টাল অনুষদজুড়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিসির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ এপ্রিল বিএসএমএমইউ’র পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের ওটি’র মালামাল ও বিভাগীয় চেয়ারম্যানের অফিসের আসবাবপত্র ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজিয়া মেহনাজের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন ওই বিভাগের ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম জাকির হোসেন সিকদার। তিনি তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১১ সালের ২৩ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে আমি (ডা. জাকির) বিভাগীয় ক্রয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। গত বছরের ২ জুলাই বিভাগের অফিস সহকারী শাহানা পারভীন ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যানের রুমে আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য আবেদন করেন। আমি ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব। অথচ আমাকে বিষয়টি অবহিত না করে বিভাগীয় প্রধান ডা. নাজিয়া মেহনাজ দুর্নীতির উদ্দেশ্যে জিনিসপত্র ক্রয় করেন। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়া দেখানোর জন্য ডা. নাজিয়া মেহেনাজ ও অধ্যাপক ডা. আলী আসগর মোড়ল সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২০২৩ সালের ২ জুলাই হতে ২২ জুলাই পর্যন্ত এক পাতার ভুয়া কার্যবিবরণিতে ৬টি ধাপে কার্যাদেশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ১৬ জুলাই কার্যাদেশ প্রদান করেন! সর্বোপরি ৩১ জুলাই আসবাবপত্রগুলো বুঝে নেন।

উল্লেখ্য, স্মারক নং-বিএসএমএমইউ/২০২৩/১০০২১, তারিখ-২৫ জুলাই ২০১৩ ইং অনুযায়ী একটি নতুন আদেশে তাকে (ডা. নাজিয়া) বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব করা হয়। অথচ ২ জুলাই তারিখ থেকেই তিনি (ডা. নাজিয়া) নিজেই নিজেকে ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব দেখিয়ে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন; যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত। ক্রয় কার্যক্রমের কোথাও আমাকে সম্পৃক্ত না করেও তিনি আসবাবপত্রের বিল প্রদান করেন। পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ না করে এভাবে আসবাবপত্র ক্রয়ে বিভাগীয় চিকিৎসকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভাইস চ্যান্সেলরের দপ্তরে গত ১৩ নভেম্বর দাখিল করা আরেকটি অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের ২৩ জুন থেকে ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে আমি (ডা. জাকির) বিভাগীয় ক্রয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছি। গত ১ জুলাই বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স জোহরা খাতুন বিভাগীয় চাহিদানুযায়ী একটি ডেন্টাল ইউনিটের মূল্যবান মেশিনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ের জন্য আবেদন করেন। আমাকে বিষয়টি অবহিত না করে বিভাগীয় প্রধান ডা. নাজিয়া মেহনাজ সম্পূর্ণ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির উদ্দেশ্যে পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ না করে তার দেবর আক্তার হোসাইনের প্রতিষ্ঠান এমএমএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে উক্ত মেশিন ওটিতে স্থাপন করেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ও আইনি প্রক্রিয়া দেখানোর জন্য ডা. নাজিয়া মেহেনাজ ও অধ্যাপক ডা. আলী আসগর মোড়ল সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে গত ১ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ১ পাতার কার্যবিবরণীতে ৬টি ধাপে কার্যাদেশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং ২৭ জুলাই কার্যাদেশ প্রদান করেন। এসব প্রক্রিয়ায় কমিটির অন্য কোনো সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ক্রয় কার্যক্রমের কোথাও আমাকে সম্পৃক্ত না করেও তিনি বিল প্রদানের জন্য বিলের কপিতে স্বাক্ষরের জন্য আমার কাছে পাঠান। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিলে স্বাক্ষর করা আপনার নেতৃত্বের প্রতি অসম্মান করার শামিল। তাই এই রকম অনিয়ম করে আপন দেবরকে দিয়ে কার্যসম্পাদন করার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি আপনার সদয় অবগতি ও পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো।

এদিকে বিএসএমএমইউ’র ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে প্লাম্বার পদে চাকরি করেন মোহাম্মদ আলী নামের তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মচারী ও ডেন্টাল অনুষদের পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করেন শাহান পারভীন। তারা চাকরিজীবী হয়েও হাসপাতালের ডেন্টাল অনুষদসহ অন্যান্য বিভাগের দরজা-জানালাসহ জরুরি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র কেনাকাটার কাজ করছেন। যা বিধি বহির্ভূত বলে জানান হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। তারা দু’জনই চাকরির পাশাপাশি কথিত টেন্ডারের মাধ্যমে হাসপাতালের মালামাল ক্রয় ও সরবরাহ করে বিধি ভঙ্গ করে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এসব বিষয়ে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে মোহাম্মদ আলী ফোন রিসিভ করেও কোনো বক্তব্য দেননি। তবে শাহানা পারভীন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিএসএমএমইউ’র উপাচার্যের দপ্তরে দাখিলকৃত আরো একটি অভিযোগে বলা হয়, বিএসএমএমইউ’র ডেন্টাল অনুষদের অন্তর্গত পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম, জানুয়ারি-২০২৪ এর ফেইজ-বি ফাইনাল পরীক্ষার পরীক্ষক নিয়োগে অনিয়ম করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক ডিনের দপ্তরে পরীক্ষকগণের তালিকা পাঠানো হয়। তালিকায় পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বর্তমান চেয়ারম্যান ডা. নাজিয়া মেহনাজ নিজেই সভাপতি ও সদস্য সচিব দুইটি পদেই স্বাক্ষর করেন এবং সদস্য হিসাবে সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. কামাল আবদুল্লাহ শান্ত স্বাক্ষর করেন। অথচ ডা. মো. কামাল আবদুল্লাহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেছেন গত ১৭ অক্টোবর। অর্থাৎ যোগদানের এক মাস আগেই তিনি বিভাগীয় পরীক্ষক কমিটির সদস্য হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন। যা কোনোমতেই বিধিসম্মত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিভাগীয় পরীক্ষক কমিটি পূর্ণগঠন করে পরীক্ষক নিয়োগের জন্য উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপক।

বিএসএমএমইউ’র পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. নাজিয়া মেহনাজ বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি কেউ এগুলো করে থাকে, তাহলে আমার মনে হয়- কেউ পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে এগুলো করতে পারে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিএসএমএমইউ’তে কেনাকাটার কোনো সুযোগ নেই। বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে সব নিয়ম মেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই ডেন্ট্রিস্ট্রি বিভাগে ওটি চিকিৎসায় ডেন্টাল ইউনিটের মালামাল এবং চেয়ারম্যানের কক্ষের আসবাবপত্র কেনাকাটা করেছি। এটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অবগত আছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালের রেজিস্টার্ডসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন বলেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এসব বিষয়ে জানতে একাধিকবার বিএসএমএমইউ’র ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. আলী আজগর মোড়ল এবং ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হকের অফিসে সরাসরি ও মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. দীন মো. নুরুল হকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এসব বিষয়ে ভাইস চ্যান্সেলর স্যারের বরাবর অভিযোগ এসেছে। স্যার প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে তদন্ত কমিটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা আর হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় গত ২৪ জুন ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসক কর্তৃপক্ষের দপ্তরে লিখিতভাবে এর জবাব দিয়েছেন বলে ভিসির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিএসএমএমইউ’র কোনো অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা নিয়োগ, ক্রয়-বিক্রয়সহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টতা খুব বেশি থাকে না। এরপরও হাসপাতালটিতে সরকার অর্থায়ন করে উল্লেখ করে তারা জানান, স্বাস্থ্যখাতে অবশ্যই অনিয়মের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।