০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোদির রাশিয়া সফরে জ্বলছে পশ্চিমারা : ক্রেমলিন

◉ ইউক্রেন যুদ্ধের পরেও উচ্চ আয়ের তালিকায় রাশিয়া, বিস্মিত বিশ্ব

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনের পর প্রথম সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ায়। আর তার এই সফরকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্ব হিংসায় জ্বলছে বলে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল থেকে রাশিয়া সফর শুরু হয়েছে মোদির। এই সফর শেষ হবে আজ। এ বিষয়ে পেসকভ বলেছেন, পশ্চিমার হিংসাত্মক জ্বলুনি নিয়ে খুব নিবিড়ভাবে মোদির রাশিয়া সফর পর্যবেক্ষণ করছে। গত রোববার পেসকভ বলেন, তারা (পশ্চিমারা) হিংসায় জ্বলছে…এর মানে তারা ঘনিষ্ঠভাবে এটি পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের অর্থ হলো, তারা এটিকে খুব গুরুত্ব দেয়।’

মস্কোয় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকে পারস্পরিক গুরুত্বের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় আলোচনা হবে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা জানিয়েছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ঘটনাগুলো সম্ভবত তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। এদিকে মোদির রাশিয়া সফরের আগে সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে উন্নত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার একটি দুর্দান্ত সুযোগ এটি। এটি যেকোনো সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে নিবিড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি উপায়… সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি হলো- রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে বেড়েছে… শীর্ষ নেতৃস্থানীয় স্তরে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য সামনাসামনি বসার একটি দুর্দান্ত সুযোগ।

জয়শঙ্কর বলেন, আমাদের দুটি দেশের একসঙ্গে কাজ করার শক্তিশালী ইতিহাস আছে। আমরা একটি বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়েছি। গত বছর যখন আমি মস্কো গিয়েছিলাম, তখন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি বার্তা নিয়ে গিয়েছিলাম যে, আমরা বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা এটি দেরি না তাড়াতাড়ি করব…এটি নিয়মিত হতে থাকবে। এদিকে রাশিয়া এখন উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নতি দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণের পর থেকে রাশিয়া বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখোমুখি হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ কয়েকটি দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও রাশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর দেশের নাগরিকদের গড় আয় অনুযায়ী একটি তালিকা তৈরি করে। এই তালিকায় রাশিয়া আগে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশে ছিল, কিন্তু এখন তারা উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। বিশ্বব্যাংক দেশগুলোকে চারটি বিভাগে ভাগ করে: উচ্চ আয়, উচ্চ-মধ্য আয়, নিম্ন-মধ্য আয় এবং নিম্ন আয়। এই তালিকায় ভারতের অবস্থান এখনও নিম্ন-মধ্য আয়ে, যদিও তারা একসময় নিম্ন আয়ের দেশ ছিল।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এক দেশের নাগরিকদের বার্ষিক গড় আয় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হলে সেই দেশ উচ্চ-মধ্য আয়ের তালিকায় স্থান পায়। রাশিয়া এই মানদণ্ড পূরণ করে এখন উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এই উন্নতির কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা পুতিন সরকারের নীতি এবং যুদ্ধের সময় দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধের সময়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের সাধারণ নাগরিকদের আয় বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বেকারদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করেছে।

তবে রাশিয়ার এই উন্নতি নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে। দেশটিকে এখন উচ্চ হারে কর আদায় করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করের বোঝা মূলত উচ্চবিত্ত নাগরিকদের ওপর পড়বে, মধ্যবিত্তদের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার এই নীতি থেকে ভারতসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষা নেওয়া উচিত। রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতি প্রমাণ করে যে, সঠিক নীতি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাধা পেরিয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মোদির রাশিয়া সফরে জ্বলছে পশ্চিমারা : ক্রেমলিন

আপডেট সময় : ০৯:০৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

◉ ইউক্রেন যুদ্ধের পরেও উচ্চ আয়ের তালিকায় রাশিয়া, বিস্মিত বিশ্ব

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনের পর প্রথম সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ায়। আর তার এই সফরকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা বিশ্ব হিংসায় জ্বলছে বলে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। গতকাল থেকে রাশিয়া সফর শুরু হয়েছে মোদির। এই সফর শেষ হবে আজ। এ বিষয়ে পেসকভ বলেছেন, পশ্চিমার হিংসাত্মক জ্বলুনি নিয়ে খুব নিবিড়ভাবে মোদির রাশিয়া সফর পর্যবেক্ষণ করছে। গত রোববার পেসকভ বলেন, তারা (পশ্চিমারা) হিংসায় জ্বলছে…এর মানে তারা ঘনিষ্ঠভাবে এটি পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের অর্থ হলো, তারা এটিকে খুব গুরুত্ব দেয়।’

মস্কোয় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠকে পারস্পরিক গুরুত্বের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় আলোচনা হবে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রা জানিয়েছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ঘটনাগুলো সম্ভবত তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। এদিকে মোদির রাশিয়া সফরের আগে সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে উন্নত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার একটি দুর্দান্ত সুযোগ এটি। এটি যেকোনো সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে নিবিড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি উপায়… সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি হলো- রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে বেড়েছে… শীর্ষ নেতৃস্থানীয় স্তরে এটি প্রধানমন্ত্রী মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য সামনাসামনি বসার একটি দুর্দান্ত সুযোগ।

জয়শঙ্কর বলেন, আমাদের দুটি দেশের একসঙ্গে কাজ করার শক্তিশালী ইতিহাস আছে। আমরা একটি বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিয়েছি। গত বছর যখন আমি মস্কো গিয়েছিলাম, তখন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি বার্তা নিয়ে গিয়েছিলাম যে, আমরা বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমরা এটি দেরি না তাড়াতাড়ি করব…এটি নিয়মিত হতে থাকবে। এদিকে রাশিয়া এখন উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে দেশটির অর্থনৈতিক উন্নতি দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে আক্রমণের পর থেকে রাশিয়া বিভিন্ন বিধিনিষেধের মুখোমুখি হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ কয়েকটি দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও রাশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর দেশের নাগরিকদের গড় আয় অনুযায়ী একটি তালিকা তৈরি করে। এই তালিকায় রাশিয়া আগে উচ্চ-মধ্য আয়ের দেশে ছিল, কিন্তু এখন তারা উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। বিশ্বব্যাংক দেশগুলোকে চারটি বিভাগে ভাগ করে: উচ্চ আয়, উচ্চ-মধ্য আয়, নিম্ন-মধ্য আয় এবং নিম্ন আয়। এই তালিকায় ভারতের অবস্থান এখনও নিম্ন-মধ্য আয়ে, যদিও তারা একসময় নিম্ন আয়ের দেশ ছিল।

বিশ্বব্যাংকের মতে, এক দেশের নাগরিকদের বার্ষিক গড় আয় ১১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা হলে সেই দেশ উচ্চ-মধ্য আয়ের তালিকায় স্থান পায়। রাশিয়া এই মানদণ্ড পূরণ করে এখন উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এই উন্নতির কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা পুতিন সরকারের নীতি এবং যুদ্ধের সময় দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধের সময়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের সাধারণ নাগরিকদের আয় বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের বেকারদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করেছে।

তবে রাশিয়ার এই উন্নতি নতুন চ্যালেঞ্জের জন্ম দিয়েছে। দেশটিকে এখন উচ্চ হারে কর আদায় করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করের বোঝা মূলত উচ্চবিত্ত নাগরিকদের ওপর পড়বে, মধ্যবিত্তদের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার এই নীতি থেকে ভারতসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিক্ষা নেওয়া উচিত। রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতি প্রমাণ করে যে, সঠিক নীতি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাধা পেরিয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।