০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

খরচা ছাড়াই ভোটের মাঠে ছিল ১০ রাজনৈতিক দল

◉ সবচেয়ে বেশি আওয়ামী লীগের, ব্যয় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা
◉ সবচেয়ে কম মুসলিম লীগের, খরচ হয় ৪ হাজার টাকা
◉ ২৮ দলের মোট খরচ ছিল ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার ১৮৭ টাকা
◉ নির্বাচনে ইসি খরচ করেছে প্রায় ২৩শ কোটি টাকা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মোট ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে সম্মিলিতভাবে খরচ করেছে ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার ১৮৭ টাকা। এর মধ্যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচন উপলক্ষে একাই ব্যয় করেছে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৮ টাকা। কিন্তু এর মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেয়া ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো ব্যয় করেনি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া নির্বাচনী ব্যয় বিবরণীতে দলগুলো নিজেই এই তথ্য জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো ব্যয় করেনি সেগুলো হচ্ছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (প্রতীক-গামছা), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (প্রতীক-কুঁড়েঘর), বিকল্পধারা বাংলাদেশ (প্রতীক-কুলা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (প্রতীক-বটগাছ), গণফোরাম (প্রতীক-উদীয়মান সূর্য), গণফ্রন্ট (প্রতীক-মাছ), ইসলামী ঐক্যজোট (প্রতীক-মিনার), বাংলাদেশ কংগ্রেস (প্রতীক-ডাব), তৃণমূল বিএনপি (প্রতীক-সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (প্রতীক-নোঙর)।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া খরচের তালিকার মন্তব্য কলামে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি লিখেছে- দলটি থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের কোনো প্রকার আর্থিক সাহায্যে কিংবা কোন খরচ দলের পক্ষে করা হয় নাই। প্রার্থীরা নিজ নিজ উদ্যোগে নির্বাচনী ব্যয়ভার বহন করেছেন। বিকল্পধারা বলেছে, তারা অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করেনি। বরং দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে আয় দেখিয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। খেলাফত আন্দোলন, গণফ্রন্ট পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পার্টি বলেছে, প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগে নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনা করেছে। গণফোরাম পার্টি বলেছে, প্রার্থীদের দলের পক্ষ থেকে কোনো বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়নি এবং কোন অর্থ সংগ্রহ করাও হয়নি।

নির্বাচন কমিশনে দেয়া তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, জাতীয় পার্টি- জেপি নির্বাচনে ব্যয় করেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এই দলের প্রতীক ছিল বাইসাইকেল। বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) এর নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এই দলের প্রতীক ছিল চাকা। কবুতর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া গণতন্ত্রী পার্টির নির্বাচনে মোট ব্যয় ১৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এরমধ্যে দলের সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ১১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী সভাপতি ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বিকল্পধারা বাংলাদেশের কোনো ব্যয় না থাকলেও দলটি নির্বাচনে আয় করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ২৫০ টাকা। কাঁঠাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। মশাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের নির্বাচনী ব্যয় ৩০ লাখ টাকা। গোলাপ ফুল নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া জাকের পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ১৭ লাখ ৭২ হাজার ২২৯ টাকা। ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের নির্বাচনী ব্যয় ২৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। আম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬০ টাকা। চেয়ার প্রতীক নিয়ে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৬৩ লাখ ১৫ হাজার ৮৫০ টাকা। হাতঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৭০ হাজার টাকা। মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নির্বাচনী ব্যয় ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। হাত (পাঞ্জা) নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৪ হাজার টাকা। ছড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৪ লাখ ২১ হাজার ৭শ টাকা। টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট বিএনএফ-এর নির্বাচনী ব্যয় ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা। একতারা নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে, ইসির ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অংশগ্রহণ করা দলগুলোর নির্বাচনী ব্যয় প্রকাশের ব্যাপারে ইসিকে বারবার চাপ দিয়ে আসছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

খরচা ছাড়াই ভোটের মাঠে ছিল ১০ রাজনৈতিক দল

আপডেট সময় : ১০:২৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অগাস্ট ২০২৪

◉ সবচেয়ে বেশি আওয়ামী লীগের, ব্যয় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা
◉ সবচেয়ে কম মুসলিম লীগের, খরচ হয় ৪ হাজার টাকা
◉ ২৮ দলের মোট খরচ ছিল ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার ১৮৭ টাকা
◉ নির্বাচনে ইসি খরচ করেছে প্রায় ২৩শ কোটি টাকা

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের মোট ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে সম্মিলিতভাবে খরচ করেছে ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮ হাজার ১৮৭ টাকা। এর মধ্যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচন উপলক্ষে একাই ব্যয় করেছে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৮ টাকা। কিন্তু এর মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেয়া ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো ব্যয় করেনি। নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া নির্বাচনী ব্যয় বিবরণীতে দলগুলো নিজেই এই তথ্য জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো ব্যয় করেনি সেগুলো হচ্ছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (প্রতীক-গামছা), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (প্রতীক-কুঁড়েঘর), বিকল্পধারা বাংলাদেশ (প্রতীক-কুলা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (প্রতীক-বটগাছ), গণফোরাম (প্রতীক-উদীয়মান সূর্য), গণফ্রন্ট (প্রতীক-মাছ), ইসলামী ঐক্যজোট (প্রতীক-মিনার), বাংলাদেশ কংগ্রেস (প্রতীক-ডাব), তৃণমূল বিএনপি (প্রতীক-সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (প্রতীক-নোঙর)।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া খরচের তালিকার মন্তব্য কলামে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি লিখেছে- দলটি থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের কোনো প্রকার আর্থিক সাহায্যে কিংবা কোন খরচ দলের পক্ষে করা হয় নাই। প্রার্থীরা নিজ নিজ উদ্যোগে নির্বাচনী ব্যয়ভার বহন করেছেন। বিকল্পধারা বলেছে, তারা অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করেনি। বরং দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে আয় দেখিয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। খেলাফত আন্দোলন, গণফ্রন্ট পার্টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন পার্টি বলেছে, প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগে নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনা করেছে। গণফোরাম পার্টি বলেছে, প্রার্থীদের দলের পক্ষ থেকে কোনো বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়নি এবং কোন অর্থ সংগ্রহ করাও হয়নি।

নির্বাচন কমিশনে দেয়া তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, জাতীয় পার্টি- জেপি নির্বাচনে ব্যয় করেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এই দলের প্রতীক ছিল বাইসাইকেল। বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) এর নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এই দলের প্রতীক ছিল চাকা। কবুতর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া গণতন্ত্রী পার্টির নির্বাচনে মোট ব্যয় ১৫ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এরমধ্যে দলের সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ১১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী সভাপতি ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বিকল্পধারা বাংলাদেশের কোনো ব্যয় না থাকলেও দলটি নির্বাচনে আয় করেছে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ২৫০ টাকা। কাঁঠাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। মশাল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের নির্বাচনী ব্যয় ৩০ লাখ টাকা। গোলাপ ফুল নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া জাকের পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ১৭ লাখ ৭২ হাজার ২২৯ টাকা। ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের নির্বাচনী ব্যয় ২৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। আম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৪৬০ টাকা। চেয়ার প্রতীক নিয়ে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৬৩ লাখ ১৫ হাজার ৮৫০ টাকা। হাতঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৭০ হাজার টাকা। মোমবাতি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের নির্বাচনী ব্যয় ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। হাত (পাঞ্জা) নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৪ হাজার টাকা। ছড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৪ লাখ ২১ হাজার ৭শ টাকা। টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট বিএনএফ-এর নির্বাচনী ব্যয় ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা। একতারা নিয়ে নির্বাচন করা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নির্বাচনী ব্যয় ছিল ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে, ইসির ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অংশগ্রহণ করা দলগুলোর নির্বাচনী ব্যয় প্রকাশের ব্যাপারে ইসিকে বারবার চাপ দিয়ে আসছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।