কক্সবাজারের আলোচিত নৌবাহিনীর ইনানী জেটিটি ঘূর্ণিঝড় দানা’র প্রভাবে জোয়ারের পানির তোড়ে বার্জের ধাক্কায় ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে।
বুধবার গভীর রাতে ইনানী সমুদ্র সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন, কক্সবাজার পর্যটক সেলের ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসাইন।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় দানা’র প্রভাবে জোয়ারের পানির তোড়ে বার্জের ধাক্কায় ইনানী সৈকতের নৌবাহিনীর জেটিটি ভেঙে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
স্থানীয় জেলে সিদ্দিক বলেন, রাতে সাগর খুব উত্তাল ছিল। এসময় জেটিতে থাকা বাজটি বারবার জেটিতে আঘাত করছিল। হঠাৎ একটা বিকট শব্দ শুনা যায়। পরে দেখি জেটি দুই খণ্ডিত হয়ে গেছে। এখান থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে জাহাজ চলাচলের কথা ছিল।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ইনানীর তারাকা মানের হোটেল রয়েল টিউলিপের সামনে কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠক ও সংগঠনের পক্ষে তুমুল প্রতিবাদের পরেও ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক নৌশক্তি মহড়ার জন্য সমুদ্র সৈকত দ্বিখণ্ডিত করে জেটিটি নির্মাণ করে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী।
বাংলাদেশ পরিবেশন আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, পরিবেশ প্রতিবেশ বিনষ্ট করে, সমুদ্র সৈকতকে দ্বিখণ্ডিত করে, একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। আমরা এর প্রতিবাদে মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ করলে, নৌবাহিনী পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ৭ই ডিসেম্বর নৌ বাহিনীর মহড়া শেষ হয়ে গেলে আমরা এই ব্রিজটি ভেঙে ফেলব। ২০২২ সালে এটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, একই ৭ ডিসেম্বর নৌ-মহড়া শেষ হলেও জেটিটি অপসারণ করা হয়নি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন৷ ( বাপা) সাংগঠনিক সম্পাদক,
পরিবেশবিদ এইচ এম নজরুল বলেন, ইনানীর তারকা মানের হোটেল ও বিভিন্ন জাহাজ ব্যবসায়ীরা সুবিধা নিয়ে এটি ব্যবহার করে আসছিল। ঘূর্ণিঝড় দানা ভেঙে দিয়ে প্রমাণ করল প্রকৃতির ছাড় দেয় ছেড়ে দেয় না। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা নির্মিত এই ব্রিজটি ভেঙে ফেলার জোর দাবি জানাচ্ছি।
























