ওএমএস দোকানে চাল ও আটা কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। বাজারে চাল ও আটার দাম বেশি হওয়ায়, অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ ওএমএস দোকানে ভিড় করে, কারণ এখানে চাল ও আটা অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায়। নিম্ন আয়ের এসকল মানুষ একটু সাশ্রয়ের আশায় ওএমএস দোকানে চাল-আটা কিনতে ভীড় করছেন। তবে কাউকে কাউকে আবার পণ্য না পেয়ে খালি হাতেও ফিরতে হচ্ছে। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে টানা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে বিক্রি। এদিকে, রাজধানীর রামপুরা, হাজীপাড়া ও মালিবাগ ঘুরে কয়েকটি ওএমএসের দোকানে চাল-আটা কিনতে মানুষের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। পশ্চিম রামপুরা হাতিরঝিল এলাকায় ওএমএস ডিলার মো. তারিকুল আনোয়ারের দোকানের সামনে মানুষের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা খুব কম সময়ে লাইনে দাঁড়িয়ে চাহিদা মতো ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা কিনতে পারছেন। রামপুরার ওয়াপদা রোড এলাকা থেকে চাল-আটা কিনতে আসা সালেহা নামের এক নারী জানান, অন্য এলাকার চেয়ে এখানে পণ্য কিনতে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় না, তাই তিনি হাজীপাড়া নূর মসজিদে কাছে থাকা সত্ত্বেও উলনে এ দোকানে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও ন্যায্য মূল্যে চাল-আটা ক্রয় করেন।

এদিকে, সবুজ বাংলার প্রতিবেদক ডিলার তারিকুল আনোয়ারের সঙ্গে কথা বলে জানতে চান সপ্তাহে কয়দিন আপনার দোকানে পণ্য বিক্রি করা হয়। তিনি জানান, তার দোকানে সপ্তাহে ২ দিন ৩ টন চাল ও আটা ক্রেতাদের মাঝে বিক্রি করা হয়। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৩০ টাকা দরে ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা ২৪ টাকা দরে আটা ক্রয় করতে পারেন।
লাইনে দাঁড়ানো মুন্নী আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। ওএমএসের দোকান থেকে কম দামে চাল-আটা কিনতে পারি। তাই সকাল সকাল এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। বর্তমানে বাজারে তো মোটা চালও ৬০ টাকার নিচে কিনতে পাওয়া যায় না। আর আটা খোলা তাও বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে সে কারণে একটু কষ্ট হলেও সংসারের ব্যয় কমাতে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল-আটা কিনে তবেই বাসায় ফেরা। মান্না নামের পঞ্চাশ বছর বয়সী একজন ক্রেতা জানান, গত রমজানে লোকজন কম ছিল তখন এতো দীর্ঘ লাইন হতো না। আমরা গরীব মানুষ। কষ্ট হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে বাজারের চেয়ে অর্ধেক দামে চাল-আটা কিনতে পেরে বেজায় খুশি।
এদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে সঙ্গে অনেক মধ্যবিত্ত মানুষও এ সকল ওএমএস দোকানে ভীড় জমান। তবে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলে অন্য কথা, তারা জানান, এখান আর গরীবেরাই শুধু আসেন এমনটা নয়, ধনীরাও আসেন। অনেক বাড়িওয়ালা নিজে আসেন অথবা লোক পাঠিয়ে চাল-আটা ক্রয় করেন। যেহেতু ওএমএস দোকানে পণ্য কিনতে ধনী-গরিবের কোন ভেদাভেদ নেই। যে কেউ কিনতে পারেন। তাই ভীড় একটু বেশিই হয় এ সকল দোকানে। তবে ক্রেতাদের দাবি সরকার যদি সরবরাহ আরো বাড়াতো তাহলে তাদের জন্য ভালো হতো। ২ দিনের জায়গায় সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন দোকান খোলার দাবি জানান তারা।
এদিকে, ৫৫ বছরের একজন মহিলা জানান, সংসারের চাকা সচল রাখতে এ দোকানে আসতে হয়। অন্যদিকে, মুখ ঢেকে রাখা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সবুজ বাংলা প্রতিবেদকে জানান, দ্রব্যমূল্যের দাম যেহারে বাড়ছে সে হারে তো আর আয় বাড়েনি। ৩ বাচ্চা ও স্বামী-স্ত্রীসহ মোট ৫ জনের সংসার স্বামীর আয়ে চলে না। মাস ফুরাতে না ফুরাতে টানা-টানি লেগে যায়। তাই সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরাতে একটু কষ্ট হলেও চাল আটা নিয়ে তবেই বাসায় ফিরি। কথা বলতে চাইলে মনুজা বেগম নামে এক মধ্যবয়সী মহিলা হাসি দিয়ে বলেন, ২ বাচ্চাকে স্কুলে রেখে আমি বাজারের চেয়ে কম মূল্যে চাল আটা কেনার জন্য এখানে এসেছি। স্বামী গার্মেন্সে চাকরি করেন। তার আয়ে সংসরে চলে না বিধায় এ দোকানে আসা। তিনি আরো বলেন, সংসার চালাতে গিয়ে কতরকম সেক্রিফাইস যে করতে হয়, তা বলার উপায় নেই। তার উপর যদি পরিবারের কোনো সদস্যের ওসুখ-বেসুখ হয় তাহলো তো কষ্ট আরো বেড়ে যায়। এটা শুধু কয়েকজন সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তা নয়, বর্তমান প্রেক্ষাপট এমনই আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংসার চলে না।
এমআর/সব


























