১১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লাইটারেজ জাহাজে ডিজেলের সংকট

চট্টগ্রাম বন্দর-এর বহির্নোঙরে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটারেজ জাহাজে ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের এ সংকটে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) থেকে জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে অনেক জাহাজ বহির্নোঙরে যেতে পারছে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ বহির্নোঙরে অলস অবস্থায় অপেক্ষা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কয়েক দিনের মধ্যে বহির্নোঙর এলাকায় পণ্য খালাস কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। এতে দেশের আমদানি বাণিজ্য ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্দর ও জাহাজ মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে প্রায় দেড় হাজার লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহৃত হয়। এসব জাহাজের স্বাভাবিক চলাচলের ওপর বহির্নোঙরসহ দেশের পণ্য পরিবহন নেটওয়ার্ক অনেকটাই নির্ভরশীল।

চট্টগ্রাম বন্দরে আগত বড় জাহাজগুলোর একটি বড় অংশ ড্রাফটজনিত কারণে সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে না। এসব জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করে। পরে ছোট আকারের লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে বন্দরের জেটি কিংবা দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে পাঠানো হয়।

লাইটারেজ জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, জ্বালানি ডিপোগুলো আগের মতো ডিজেল সরবরাহ করছে না। এমনকি নদীপথে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার ব্যবসায়ীরাও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। ফলে অনেক জাহাজ বরাদ্দ পেলেও মাদার ভেসেলের কাছে যেতে পারছে না।

একজন লাইটারেজ জাহাজ অপারেটর বলেন, আগে যে পরিমাণ তেল পাওয়া যেত এখন তার অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মজুদ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তেল চাই না—শুধু জাহাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি চাই। কিন্তু সেটিও এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসের জন্য ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল থেকে নিয়ম অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বরাদ্দ পাওয়ার পরও জ্বালানির অভাবে অনেক জাহাজ নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে পারছে না। এতে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জাহাজজটের আশঙ্কাও বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খাদ্যশস্য, সার, কয়লা, ক্লিংকার, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্য পরিবহন করা হয়। এসব জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু বন্দর কার্যক্রম নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

শিপিং ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব হলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ বা জাহাজ ভাড়া গুনতে হতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারমূল্যের ওপর পড়বে।

বিডব্লিউটিসিসির আহ্বায়ক হাজী সফিক আহমেদ বলেন, বহির্নোঙরের কার্যক্রম পুরোপুরি লাইটারেজ জাহাজের ওপর নির্ভরশীল। এই জাহাজগুলো চলতে না পারলে বন্দরের অধিকাংশ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। তাই দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব জাহাজে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে কয়েক দিনের মধ্যে বহির্নোঙর এলাকায় পণ্য খালাস কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে দেশের আমদানি বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও বাজার সরবরাহ ব্যবস্থায়।

শু/সবা

বাকৃবি শিক্ষক সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

লাইটারেজ জাহাজে ডিজেলের সংকট

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর-এর বহির্নোঙরে আমদানিকৃত পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটারেজ জাহাজে ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের এ সংকটে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) থেকে জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানির অভাবে অনেক জাহাজ বহির্নোঙরে যেতে পারছে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ বহির্নোঙরে অলস অবস্থায় অপেক্ষা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কয়েক দিনের মধ্যে বহির্নোঙর এলাকায় পণ্য খালাস কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। এতে দেশের আমদানি বাণিজ্য ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্দর ও জাহাজ মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে প্রায় দেড় হাজার লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহৃত হয়। এসব জাহাজের স্বাভাবিক চলাচলের ওপর বহির্নোঙরসহ দেশের পণ্য পরিবহন নেটওয়ার্ক অনেকটাই নির্ভরশীল।

চট্টগ্রাম বন্দরে আগত বড় জাহাজগুলোর একটি বড় অংশ ড্রাফটজনিত কারণে সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে না। এসব জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করে। পরে ছোট আকারের লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করে বন্দরের জেটি কিংবা দেশের বিভিন্ন নদীবন্দরে পাঠানো হয়।

লাইটারেজ জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, জ্বালানি ডিপোগুলো আগের মতো ডিজেল সরবরাহ করছে না। এমনকি নদীপথে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার ব্যবসায়ীরাও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না। ফলে অনেক জাহাজ বরাদ্দ পেলেও মাদার ভেসেলের কাছে যেতে পারছে না।

একজন লাইটারেজ জাহাজ অপারেটর বলেন, আগে যে পরিমাণ তেল পাওয়া যেত এখন তার অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মজুদ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তেল চাই না—শুধু জাহাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি চাই। কিন্তু সেটিও এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসের জন্য ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল থেকে নিয়ম অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বরাদ্দ পাওয়ার পরও জ্বালানির অভাবে অনেক জাহাজ নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করতে পারছে না। এতে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জাহাজজটের আশঙ্কাও বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন অসংখ্য লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খাদ্যশস্য, সার, কয়লা, ক্লিংকার, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন আমদানি পণ্য পরিবহন করা হয়। এসব জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে শুধু বন্দর কার্যক্রম নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

শিপিং ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব হলে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ বা জাহাজ ভাড়া গুনতে হতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারমূল্যের ওপর পড়বে।

বিডব্লিউটিসিসির আহ্বায়ক হাজী সফিক আহমেদ বলেন, বহির্নোঙরের কার্যক্রম পুরোপুরি লাইটারেজ জাহাজের ওপর নির্ভরশীল। এই জাহাজগুলো চলতে না পারলে বন্দরের অধিকাংশ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। তাই দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব জাহাজে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে কয়েক দিনের মধ্যে বহির্নোঙর এলাকায় পণ্য খালাস কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে দেশের আমদানি বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও বাজার সরবরাহ ব্যবস্থায়।

শু/সবা