১১:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা, রাতে ভাঙা হয় কালভার্ট

সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ বাহিনীর অভিযানে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। কোথাও রাস্তার ওপর বড় ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও ভেঙে ফেলা হয়েছে কালভার্ট ও নালার স্ল্যাব।

সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নবর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় জঙ্গল সলিমপুরের একটি অংশের সন্ত্রাসীরা। তাই আগের রাতেই তারা বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে সড়ক অবরোধ করা হয় এবং একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া একটি নালার স্ল্যাবও তুলে ফেলা হয়।

চট্টগ্রাম নগরের প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকা জুড়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে এ এলাকার বিস্তার। প্রশাসনিকভাবে এটি সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও নগরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এর গুরুত্ব বেশি।

দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার ঘরে প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। তাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে এখানে বসতি গড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বসতি। এখনও পাহাড় কেটে চলছে প্লট বাণিজ্য। এসব দখল ও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে এলাকায় শক্তিশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে এবং তারা সশস্ত্র পাহারায় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

জঙ্গল সলিমপুরে বর্তমানে দুইটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় বলে জানা গেছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্যটির নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন।

গত জানুয়ারিতে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় করা মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে ছিন্নমূল ও আলীনগর নামে দুটি গ্রাম রয়েছে। ছিন্নমূল অতিক্রম করার পর আলীনগরে ঢোকার আগে রাস্তায় একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। পরে যৌথ বাহিনী ট্রাক সরিয়ে সামনে এগোয়। কিছু দূর পর একটি কালভার্ট ভাঙা পাওয়া যায়, যা সম্ভবত আগের রাতে ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে সেটি ইট-বালু দিয়ে ভরাট করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। অভিযান শুরুর আগে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে বসানো হয় তল্লাশি চৌকি, যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।

বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শু/সবা

বাকৃবি শিক্ষক সমিতির দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় সলিমপুরের সন্ত্রাসীরা, রাতে ভাঙা হয় কালভার্ট

আপডেট সময় : ০৮:২৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যৌথ বাহিনীর অভিযানে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। কোথাও রাস্তার ওপর বড় ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও ভেঙে ফেলা হয়েছে কালভার্ট ও নালার স্ল্যাব।

সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নবর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় জঙ্গল সলিমপুরের একটি অংশের সন্ত্রাসীরা। তাই আগের রাতেই তারা বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য রাস্তার ওপর ট্রাক রেখে সড়ক অবরোধ করা হয় এবং একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া একটি নালার স্ল্যাবও তুলে ফেলা হয়।

চট্টগ্রাম নগরের প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকা জুড়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে এ এলাকার বিস্তার। প্রশাসনিকভাবে এটি সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও নগরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এর গুরুত্ব বেশি।

দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার ঘরে প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। তাদের অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে এখানে বসতি গড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বসতি। এখনও পাহাড় কেটে চলছে প্লট বাণিজ্য। এসব দখল ও বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে এলাকায় শক্তিশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে এবং তারা সশস্ত্র পাহারায় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

জঙ্গল সলিমপুরে বর্তমানে দুইটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় বলে জানা গেছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্যটির নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন।

গত জানুয়ারিতে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় করা মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেন, “জঙ্গল সলিমপুরে ছিন্নমূল ও আলীনগর নামে দুটি গ্রাম রয়েছে। ছিন্নমূল অতিক্রম করার পর আলীনগরে ঢোকার আগে রাস্তায় একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। পরে যৌথ বাহিনী ট্রাক সরিয়ে সামনে এগোয়। কিছু দূর পর একটি কালভার্ট ভাঙা পাওয়া যায়, যা সম্ভবত আগের রাতে ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে সেটি ইট-বালু দিয়ে ভরাট করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। অভিযান শুরুর আগে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে বসানো হয় তল্লাশি চৌকি, যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।

বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শু/সবা