নীলফামারীতে হাম-রুবেলা টিকা পাচ্ছে ২ লাখের বেশি শিশু » দৈনিক সবুজ বাংলা
০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীতে হাম-রুবেলা টিকা পাচ্ছে ২ লাখের বেশি শিশু

হাম ও রুবেলার মতো উচ্চ সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নীলফামারীতে শুরু হতে যাচ্ছে ব্যাপক পরিসরের টিকাদান কর্মসূচি। এ লক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত জেলার সব উপজেলা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্ধারিত কেন্দ্রের মাধ্যমে এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি।

সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ২ লাখ ১০ হাজার ২৬৯ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, “হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। অবহেলা করলে এটি মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

এসময় তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ধরনের গুজব বা ভ্রান্ত ধারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ক্যাম্পেইন সফল করতে জেলা জুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে টিকা সংরক্ষণ, সরবরাহ ও নিরাপদ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কোনো শিশুই যেন টিকার বাইরে না থাকে—সে লক্ষ্যেই কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডা. আতিউর রহমান (এমওসিএস), ডা. মিজানুর রহমান (এসআইএমও)সহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে নীলফামারীতে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে এই টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

 

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে হাম-রুবেলা টিকা পাচ্ছে ২ লাখের বেশি শিশু

নীলফামারীতে হাম-রুবেলা টিকা পাচ্ছে ২ লাখের বেশি শিশু

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

হাম ও রুবেলার মতো উচ্চ সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নীলফামারীতে শুরু হতে যাচ্ছে ব্যাপক পরিসরের টিকাদান কর্মসূচি। এ লক্ষ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত জেলার সব উপজেলা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্ধারিত কেন্দ্রের মাধ্যমে এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি।

সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, এবারের ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ২ লাখ ১০ হাজার ২৬৯ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে দিতে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, “হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। অবহেলা করলে এটি মারাত্মক জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

এসময় তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ধরনের গুজব বা ভ্রান্ত ধারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ক্যাম্পেইন সফল করতে জেলা জুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে টিকা সংরক্ষণ, সরবরাহ ও নিরাপদ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কোনো শিশুই যেন টিকার বাইরে না থাকে—সে লক্ষ্যেই কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডা. আতিউর রহমান (এমওসিএস), ডা. মিজানুর রহমান (এসআইএমও)সহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

স্বাস্থ্য বিভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে নীলফামারীতে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে এই টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

 

শু/সবা