বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে গোলাগুলির খবর প্রকাশের পর তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বাংলাদেশি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও বিএসএফ দাবি করেছে, ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন’। একইসঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে বাংলাদেশের অন্তত ছয়টি সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার (১৯ মে) খবর প্রকাশ করে। তবে বিএসএফের একটি সূত্র এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া’ বলে উল্লেখ করেছে।
বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (১৮ মে) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনাহাট সীমান্ত এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সীমান্তটির উত্তরে ভারতের মেঘালয় এবং দক্ষিণে বাংলাদেশের সিলেট জেলা অবস্থিত।
প্রতিবেদনগুলোতে বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হকের দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিএসএফ গুলি চালালে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়।
তবে বিএসএফের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, “বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। ওই এলাকায় কোনও গুলির ঘটনা ঘটেনি। বাস্তবে এর কিছুই ঘটেনি, সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিএসএফ কাজ করছে। আজ বিজিবি এই খবর প্রকাশ করেছে, হয়তো আগামীকাল তারাই আবার সেটি অস্বীকার করবে।”
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামজুড়ে বিস্তৃত এই সীমান্তে বিএসএফ মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে সীমান্তে ‘পুশ-ইন’, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও উত্তেজনা বেড়েছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















