নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আট শিক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দিয়েও চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। অভিযোগ উঠেছে, কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নিলেও তা যথাযথভাবে জমা দেননি। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হন তারা।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন শুক্রবার (৩ জুলাই) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে কথা বলে দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি জানান, অনলাইনে ফরম পূরণে জটিলতা দেখা দিলে অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার তার কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন। কিন্তু পরীক্ষার আগে তিনি প্রবেশপত্র পাননি। পরে জানা যায়, তার ফরমই জমা দেওয়া হয়নি। একইভাবে আরও সাতজন শিক্ষার্থীর ফরমও জমা হয়নি।
কলেজের অধ্যক্ষ মামুদুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বোর্ডের বিধি অনুযায়ী চলতি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পুলিশকে ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর আইনি ধারায় মামলা এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডের অভ্যন্তরে কোনো কর্মকর্তা বা জালিয়াত চক্র জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শু/সবা
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
























