০১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় উত্তপ্ত বিহার

➣ এবার মোদিকে ‘হিটলার’ বলল কংগ্রেস
➣ ড্রাম-থালা নিয়ে নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বললেন মোদি
➣ মিঠুন চক্রবর্তীর রোড শোতে বোতল নিক্ষেপ

ভারতে লোকসভা নির্বাচনে পঞ্চম দফা ভোটের পর গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে রণক্ষেত্রে রূপ নিল বিহারের সারণ এলাকা। এ দিন দফায় দফায় বিজেপি ও আরজেডি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় একে অন্যকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পুলিশবাহিনী পৌঁছে। সহিংসতা যাতে অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য দু’দিন সেখানকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।

 

গত সোমবার পঞ্চম দফার ভোট শেষ হওয়ার আগে ছপরার একটি বুথে গিয়েছিলেন লালুপ্রসাদ যাদবের মেয়ে তথা সারণের আরজেডি প্রার্থী রোহিণী আচার্য। সেই সময়েই বিজেপি ও আরজেডির কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি তখনকার মতো থেমে গেলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভের আঁচ জ্বলছিল। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। দফায় দফায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সারণ। অভিযোগ, এই সংঘর্ষ চলাকালে দু’পক্ষই পরস্পরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। স্থানীয়দের অভিযোগ, বুথে জোর করে ঢুকে পড়েছিলেন রোহিণী। শুধু তা-ই নয়, তাঁর সমর্থকরা ভোটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন।

 

এদিকে ভারতের বিহার রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে নয়া দল ‘জন সুরাজ পার্টি’ গড়লেও লোকসভা ভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নেননি ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। যদিও ধারাবাহিকভাবে অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে নানা পূর্বাভাস দিয়ে চলেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকে বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবারের লোকসভা ভোটেও ‘ক্লিন সুইপ’ করবে অর্থাৎ নিরঙ্কুশ জয় পাবে। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ৩০৩টি আসনে জিতেছিল। এবারও তাদের প্রাপ্ত আসন এর আশপাশেই থাকবে। কিংবা ৩০৩ ছাড়িয়েও যেতে পারে। এমন পূর্বাভাসের কারণ কী? পিকের জবাব, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের প্রচণ্ড ক্ষোভ রয়েছে, এমন কথা দেশের কোনো প্রান্ত থেকেই শুনিনি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কটূক্তিকর মন্তব্যের জেরে বিজেপি প্রার্থী অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচারে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ঘটনায় মানহানি হয়েছে বলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

গতকাল কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনতে সংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ‘বিজেপি নেতারা সুপরিকল্পিতভাবে প্রচার করে মোদিকে ঈশ্বরের অবতার হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার মোদি নিজেও বলছেন তিনি পরমাত্মার প্রেরিত দূত। একইভাবে হিটলারের প্রচারকরা তাকে ঈশ্বরের দূত বলত। বিশ্বের সমস্ত স্বৈরতান্ত্রিক নেতাদের এটা সাধারণ লক্ষণ। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এভাবেই তারা দেবত্ব জাহির করেন।’

 

এদিকে গত মঙ্গলবার বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র, প্রভু জগন্নাথকে ‘মোদির ভক্ত’ বলার পর বিতর্ক তৈরি হয়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকসহ বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ প্রকাশের পর সম্বিত বিষয়টিকে ‘মুখ ফস্কে’ বেরিয়ে গেছে বলে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। শ্রীনতে বলেন, এটা মুখ ফস্কে বেরিয়ে যাওয়া কথা নয়, বরং এটা পরিকল্পিত প্রচার। রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার সময় বিজেপি একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে দেখানো হয় রামলালার হাত ধরে মোদি মন্দিরে নিয়ে যাচ্ছেন। তাকে বিষ্ণু অবতার বলা হয় রামমন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে। গিরিরাজ সিংও মোদিকে অবতার বলেন। এই একই জিনিস হিটলারের সময়েও হতো। তাকেও ঈশ্বরের দূত বলা হতো। গোয়েবলস সেই প্রচার চালাতেন। উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন বলেন, তার ভেতরে দৈবশক্তি রয়েছে। গত ১০ বছরে মোদি কী কাজ করেছেন তার হিসেব না দিয়ে আগামী এক হাজার বছরের স্বপ্ন দেখানো, আসলে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশল।’

 

 

দুই দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে মোদি দাবি করেছিলেন, তার সরকারের কাজের প্রভাব হাজার বছর থাকবে। তার পরেই তার সঙ্গে হিটলারের তুলনা করে তাকে আক্রমণ করেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। মোদিকে তিনি ‘নরেন্দ্র হিটলার মোদি’ সম্বোধন করেন। ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, আজ আমরা এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে মোদি-অমিত শাহকে হিটলার এবং গোয়েবলসের সঙ্গে তুলনা করেছি। মোদি শুধুই সংখ্যার চমক দেখিয়ে মানুষকে ভোলাতে চেয়েছেন। কখনো বলেছেন বছরে দুই কোটি চাকরি হবে। কখনো বলেছেন, বিদেশ থেকে কালো টাকা এনে সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ নগদ দেওয়া হবে। আবার নোট বাতিলের পরে সমস্যা মেটাতে ৫০ দিন সময় চেয়েছিলেন। এমনকি কৃষকদের সমস্যা না বুঝেই ২০২২ সালের মধ্যে চাষিদের আয় দ্বিগুণ করার কথা বলেছিলেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় প্রথমে ‘অমৃতকাল’ এবং তারপরে ‘ভিশন-২০৪৭’-এর গল্পকথা শুনিয়েছেন। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসবের কোনোটাই কাজ করেছে না। তাই একেবারে হিটলারের মতো হাজার বছরের কথা শুনিয়েছেন! এবার মানুষ মোদির মিথ্যে ধরে ফেলেছেন। তাই তার এই মিথ্যে স্বপ্নে তারা ভুলবেন না।’

 


গতকাল নিজের কেন্দ্র বারাণসীতে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ২০-২৫ জন নারী একত্রিত হন। ড্রাম-থালা বাজাতে বাজাতে ভোটকেন্দ্রে যান। গানও গাইবেন। আমরা যদি প্রত্যেকটা ভোটকেন্দ্রে এরকম ৮ থেকে ১০টা মিছিল করতে পারি, তা হলেই ভোটের হার বেড়ে যাবে। এর আগে করোনা মহামারির সময়ে বাড়িতে বাড়িতে থালাবাসন বাজানোর এমনই আহ্বান জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। রাজনৈতিক মহলের মত, ভোটের হার কমতে থাকায় দৃশ্যতই চিন্তিত মোদি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আত্মতুষ্টির জেরে বিজেপি কর্মীদের অনেকে নিষ্ক্রিয়। ফলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত যাচ্ছেন না। তাতেই চাপ বাড়ছে বিজেপি নেতৃত্বের।

 

নারীদের ক্ষমতায়নে সরকার কী কী করেছে তার খতিয়ানও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন মোদি। কংগ্রেস সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, গত দশ বছরে এই প্রথম সরকারের নীতি এবং সিদ্ধান্তের একেবারে সামনে জায়গা করে নিয়েছেন নারীরা। আপনারাই বলুন, যখন নারী ছাড়া কোনো সংসারই চলে না, তখন আপনাদের ছাড়া একটা সরকারই বা চলবে কী ভাবে? গত ষাট বছরে এই সহজ কথাটাই সরকারগুলো বোঝেনি। কংগ্রেস-এসপি সরকাররা কী দিয়েছে নারীদের? শুধু অবহেলা আর নিরাপত্তাহীনতা। ইন্ডিয়া জোটের মানসিকতা বরাবরই নারীবিরোধী। এই জোটের শরিকরা সংসদে নারী আসন সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছিল। যখনই এদের সরকার এসেছে, নারীদের জীবন কঠিন হয়েছে।

 

গত মঙ্গলবার মেদিনীপুরে প্রচারে গিয়েই রীতিমতো ঝামেলায় পড়েন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মেদিনীপুরের কালেক্টরেট মোড় থেকে রিং রোড পর্যন্ত রোড শো করার কথা ছিল মিঠুনের। তবে অভিযোগ, শিবপুরা মোড়ের কাছে আসতেই বাঁধে ঝামেলা। ওই মোড়ের কাছে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় বিজেপির। বিজেপি শিবিরের দাবি, মিঠুনের রোড শোতে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল শিবিরের এক যুব নেতাকে কাঠগড়ায় তুলেছে পদ্ম শিবির। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ঝামেলার শুরুতেই তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা বোতল ছুড়তে শুরু করে। সেই সময় পুলিশের সামনেই ইট নিক্ষেপ করা হয়। এ গোলযোগের কারণে কয়েক মিনিটের জন্য মিঠুনের র‌্যালি আটকে যায়। আজ সকালে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় উত্তপ্ত বিহার

আপডেট সময় : ০৬:১১:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪

➣ এবার মোদিকে ‘হিটলার’ বলল কংগ্রেস
➣ ড্রাম-থালা নিয়ে নারীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বললেন মোদি
➣ মিঠুন চক্রবর্তীর রোড শোতে বোতল নিক্ষেপ

ভারতে লোকসভা নির্বাচনে পঞ্চম দফা ভোটের পর গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকালে রণক্ষেত্রে রূপ নিল বিহারের সারণ এলাকা। এ দিন দফায় দফায় বিজেপি ও আরজেডি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় একে অন্যকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পুলিশবাহিনী পৌঁছে। সহিংসতা যাতে অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য দু’দিন সেখানকার ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।

 

গত সোমবার পঞ্চম দফার ভোট শেষ হওয়ার আগে ছপরার একটি বুথে গিয়েছিলেন লালুপ্রসাদ যাদবের মেয়ে তথা সারণের আরজেডি প্রার্থী রোহিণী আচার্য। সেই সময়েই বিজেপি ও আরজেডির কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি তখনকার মতো থেমে গেলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভের আঁচ জ্বলছিল। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। দফায় দফায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সারণ। অভিযোগ, এই সংঘর্ষ চলাকালে দু’পক্ষই পরস্পরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। স্থানীয়দের অভিযোগ, বুথে জোর করে ঢুকে পড়েছিলেন রোহিণী। শুধু তা-ই নয়, তাঁর সমর্থকরা ভোটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন।

 

এদিকে ভারতের বিহার রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে নয়া দল ‘জন সুরাজ পার্টি’ গড়লেও লোকসভা ভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নেননি ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। যদিও ধারাবাহিকভাবে অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে নানা পূর্বাভাস দিয়ে চলেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকে বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবারের লোকসভা ভোটেও ‘ক্লিন সুইপ’ করবে অর্থাৎ নিরঙ্কুশ জয় পাবে। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ৩০৩টি আসনে জিতেছিল। এবারও তাদের প্রাপ্ত আসন এর আশপাশেই থাকবে। কিংবা ৩০৩ ছাড়িয়েও যেতে পারে। এমন পূর্বাভাসের কারণ কী? পিকের জবাব, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের প্রচণ্ড ক্ষোভ রয়েছে, এমন কথা দেশের কোনো প্রান্ত থেকেই শুনিনি। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কটূক্তিকর মন্তব্যের জেরে বিজেপি প্রার্থী অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রচারে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ঘটনায় মানহানি হয়েছে বলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

গতকাল কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনতে সংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ‘বিজেপি নেতারা সুপরিকল্পিতভাবে প্রচার করে মোদিকে ঈশ্বরের অবতার হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার মোদি নিজেও বলছেন তিনি পরমাত্মার প্রেরিত দূত। একইভাবে হিটলারের প্রচারকরা তাকে ঈশ্বরের দূত বলত। বিশ্বের সমস্ত স্বৈরতান্ত্রিক নেতাদের এটা সাধারণ লক্ষণ। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এভাবেই তারা দেবত্ব জাহির করেন।’

 

এদিকে গত মঙ্গলবার বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র, প্রভু জগন্নাথকে ‘মোদির ভক্ত’ বলার পর বিতর্ক তৈরি হয়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকসহ বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ প্রকাশের পর সম্বিত বিষয়টিকে ‘মুখ ফস্কে’ বেরিয়ে গেছে বলে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। শ্রীনতে বলেন, এটা মুখ ফস্কে বেরিয়ে যাওয়া কথা নয়, বরং এটা পরিকল্পিত প্রচার। রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার সময় বিজেপি একটি ছবি প্রকাশ করে, যেখানে দেখানো হয় রামলালার হাত ধরে মোদি মন্দিরে নিয়ে যাচ্ছেন। তাকে বিষ্ণু অবতার বলা হয় রামমন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে। গিরিরাজ সিংও মোদিকে অবতার বলেন। এই একই জিনিস হিটলারের সময়েও হতো। তাকেও ঈশ্বরের দূত বলা হতো। গোয়েবলস সেই প্রচার চালাতেন। উত্তর কোরিয়ার কিম জং উন বলেন, তার ভেতরে দৈবশক্তি রয়েছে। গত ১০ বছরে মোদি কী কাজ করেছেন তার হিসেব না দিয়ে আগামী এক হাজার বছরের স্বপ্ন দেখানো, আসলে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশল।’

 

 

দুই দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে মোদি দাবি করেছিলেন, তার সরকারের কাজের প্রভাব হাজার বছর থাকবে। তার পরেই তার সঙ্গে হিটলারের তুলনা করে তাকে আক্রমণ করেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। মোদিকে তিনি ‘নরেন্দ্র হিটলার মোদি’ সম্বোধন করেন। ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, আজ আমরা এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে মোদি-অমিত শাহকে হিটলার এবং গোয়েবলসের সঙ্গে তুলনা করেছি। মোদি শুধুই সংখ্যার চমক দেখিয়ে মানুষকে ভোলাতে চেয়েছেন। কখনো বলেছেন বছরে দুই কোটি চাকরি হবে। কখনো বলেছেন, বিদেশ থেকে কালো টাকা এনে সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ নগদ দেওয়া হবে। আবার নোট বাতিলের পরে সমস্যা মেটাতে ৫০ দিন সময় চেয়েছিলেন। এমনকি কৃষকদের সমস্যা না বুঝেই ২০২২ সালের মধ্যে চাষিদের আয় দ্বিগুণ করার কথা বলেছিলেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় প্রথমে ‘অমৃতকাল’ এবং তারপরে ‘ভিশন-২০৪৭’-এর গল্পকথা শুনিয়েছেন। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসবের কোনোটাই কাজ করেছে না। তাই একেবারে হিটলারের মতো হাজার বছরের কথা শুনিয়েছেন! এবার মানুষ মোদির মিথ্যে ধরে ফেলেছেন। তাই তার এই মিথ্যে স্বপ্নে তারা ভুলবেন না।’

 


গতকাল নিজের কেন্দ্র বারাণসীতে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ২০-২৫ জন নারী একত্রিত হন। ড্রাম-থালা বাজাতে বাজাতে ভোটকেন্দ্রে যান। গানও গাইবেন। আমরা যদি প্রত্যেকটা ভোটকেন্দ্রে এরকম ৮ থেকে ১০টা মিছিল করতে পারি, তা হলেই ভোটের হার বেড়ে যাবে। এর আগে করোনা মহামারির সময়ে বাড়িতে বাড়িতে থালাবাসন বাজানোর এমনই আহ্বান জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। রাজনৈতিক মহলের মত, ভোটের হার কমতে থাকায় দৃশ্যতই চিন্তিত মোদি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আত্মতুষ্টির জেরে বিজেপি কর্মীদের অনেকে নিষ্ক্রিয়। ফলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত যাচ্ছেন না। তাতেই চাপ বাড়ছে বিজেপি নেতৃত্বের।

 

নারীদের ক্ষমতায়নে সরকার কী কী করেছে তার খতিয়ানও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন মোদি। কংগ্রেস সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরো বলেন, গত দশ বছরে এই প্রথম সরকারের নীতি এবং সিদ্ধান্তের একেবারে সামনে জায়গা করে নিয়েছেন নারীরা। আপনারাই বলুন, যখন নারী ছাড়া কোনো সংসারই চলে না, তখন আপনাদের ছাড়া একটা সরকারই বা চলবে কী ভাবে? গত ষাট বছরে এই সহজ কথাটাই সরকারগুলো বোঝেনি। কংগ্রেস-এসপি সরকাররা কী দিয়েছে নারীদের? শুধু অবহেলা আর নিরাপত্তাহীনতা। ইন্ডিয়া জোটের মানসিকতা বরাবরই নারীবিরোধী। এই জোটের শরিকরা সংসদে নারী আসন সংরক্ষণের বিরোধিতা করেছিল। যখনই এদের সরকার এসেছে, নারীদের জীবন কঠিন হয়েছে।

 

গত মঙ্গলবার মেদিনীপুরে প্রচারে গিয়েই রীতিমতো ঝামেলায় পড়েন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মেদিনীপুরের কালেক্টরেট মোড় থেকে রিং রোড পর্যন্ত রোড শো করার কথা ছিল মিঠুনের। তবে অভিযোগ, শিবপুরা মোড়ের কাছে আসতেই বাঁধে ঝামেলা। ওই মোড়ের কাছে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় বিজেপির। বিজেপি শিবিরের দাবি, মিঠুনের রোড শোতে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়াফুল শিবিরের এক যুব নেতাকে কাঠগড়ায় তুলেছে পদ্ম শিবির। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ঝামেলার শুরুতেই তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা বোতল ছুড়তে শুরু করে। সেই সময় পুলিশের সামনেই ইট নিক্ষেপ করা হয়। এ গোলযোগের কারণে কয়েক মিনিটের জন্য মিঠুনের র‌্যালি আটকে যায়। আজ সকালে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।