অবশেষে টস জিতলেন অধিনায়ক লিটন দাস। টানা ৯ ম্যাচ পর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে সিদ্ধান্ত জানানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। পূর্ণকালীন অধিনায়ক হয়ে প্রথম টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন লিটন। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জেতা ম্যাচের একাদশ থেকে মাত্র একটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। শরিফুল ইসলামের জায়গায় একাদশে জায়াগ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ।
‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’- বাংলাদেশ দলে ইনজুরিপ্রবণ ক্রিকেটারদের জন্য এই ম্যানেজমেন্টটা এখন বেশ ভালোভাবেই অনুসরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে, তাসকিন আহমেদের ক্ষেত্রে। ইনজুরিতে পড়ে প্রায়ই দলের বাইরে থাকতে হয় এই পেসারকে। এ কারণে, দুর্দান্ত বোলিং করার পরও দেখা যায় পরের ম্যাচে তাসকিনকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফরেই এই দৃশ্য দেখা গেছে বেশি। টেস্ট খেলতে পারেননি ইনজুরির কারণে। এমনকি ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটাও খেলতে পারেননি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দলে ফিরে আসেন। এসেই বাজিমাত করেন। ৪৭ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট এবং ওই ম্যাচটি ৭৭ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। শেষ ওয়ানডে ম্যাচটিও খেলেছিলেন তিনি। নিয়েছিলেন ২ উইকেট; কিন্তু হেরে যায় বাংলাদেশ। গতকালের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ওভারে যদিও শেখ মেহেদীর করা চতুর্থ বলে ফখর জামানের ক্যাচ মিস করেছিলেন, কিন্তু সেই আক্ষেপ মিটিয়ে নিজের প্রথম ওভারেই পাকিস্তানের মারকুটে ওপেনার সাইম আইয়ুবকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন। সাইমকে তাসকিন বানান মোস্তাফিজুর রহমানের ক্যাচ। শেষ ওভারে এসে তাসকিনের পরপর তিন বলে পড়লো তিন উইকেট। যদিও এতে হ্যাটট্রিক লেখা হবে না তাসকিনের নামের পাশে। কারণ, তার করা ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউট হয়েছিলেন সালমান মির্জা। তবে প্রথম ও তৃতীয় বলে তিনি ফিরিয়ে দেন ফাহিম আশরাফ ও আব্বাস আফ্রিদিকে। তাতেই ১১০ রানে প্যাকেট হয়ে যায় সফরকারী পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ৩.৩ ওভার বল করে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তাসকিন।
তবে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভার বোলিং করে সবচেয়ে কম রান দেওয়া বাংলাদেশি এখন ফিজ। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার ফিজের। এর আগে রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান ও মোস্তাফিজ নিজে ৪ ওভারে ৭ রান দিয়েছিলেন।
ম্যাচশেষে পাকিস্তান কম রান করাকেই কাঠগড়ায় দাড় করালেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী খান আগা, ‘এই রান যথেষ্ট ছিল না। আমরা ভালো শুরু করেছিলাম, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকি। আমরা বসে আলোচনা করব এবং পরের ম্যাচে আরও ভালো খেলতে হবে। বাংলাদেশে এলে সবসময়ই এমন ধরনের পিচ আশা করতে হয়। বাংলাদেশে ভালো পিচ খুব কমই পাওয়া যায়। আমাদের আরও স্ট্রাইক রোটেট করতে হতো। বোলাররা ভালো বল করেছে, কিন্তু যখন আপনি ১১০ রান ডিফেন্ড করছেন, তখন ভুলের কোনো সুযোগ নেই। এটাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের স্বভাব, আমাদের উন্নতি করে যেতে হবে এবং জয়-পরাজয় তারই অংশ।
ম্যাচসেরা পারভেজ হোসেন ইমন বলেন, ‘দলের জয়ে অবদান রাখতে পারায় আমি খুব খুশি। আমরা পজিটিভ ছিলাম এবং স্কোরিং বল খোঁজার চেষ্টা করেছিলাম। যখন আমি ছক্কা মারছিলাম, তখন সেটা উপভোগ করছিলাম।’
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, ‘আমরা উইকেট সম্পর্কে জানি, কারণ আমরা মিরপুরে অনেক ক্রিকেট খেলেছি। এই পিচে ব্যাটিং সহজ নয়। আমরা যেভাবে ব্যাট করেছি, সেটা ভালো ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বল ভালোভাবে ব্যাটে আসছিল, সম্ভবত শিশিরের কারণে। আমরা ভালো বল করেছি এবং শুরুতেই উইকেট নিয়েছি। কোনো দিন অসাধারণ ক্যাচ হবে, আবার কোনো দিন ভালো খেলোয়াড়েরাও ক্যাচ ফেলতে পারে। আমরা জানি, মিরপুরে ফিজ কীভাবে বল এক্সিকিউট করতে পারে। সাকিব ও তাসকিনও ভালো বল করেছে। এটা ভালো লক্ষণ-শেষ কয়েকটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দেখা গেছে, টপ ফোর ব্যাটসম্যানরা লম্বা ইনিংস খেলেছে এবং রান দিয়েছে। হৃদয় এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞ এবং ক্রিকেটটা ভালোভাবে বোঝে, আর ইমনও ভালো ব্যাট করেছে।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ১৯.৩ ওভারে ১১০ (ফখর ৪৪, সাইম ৬, হারিস ৪, সালমান আগা ৩, হাসান নাওয়াজ ০, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৩, খুশদিল ১৭, আফ্রিদি ২২, আশরাফ ৫, সালমান মির্জা ০, আবরার ০*; মেহেদী ৪-০-৩৭-১, তাসকিন ৩.৩-০-২২-৩, তানজিম ৪-০-২০-১, মোস্তাফিজ ৪-০-৬-২, শামীম ১-০-২-০, রিশাদ ৩-০-১৯-০)
বাংলাদেশ: ১৫.৩ ওভারে ১১২/৩ (তানজিদ ১, পারভেজ ৫৬*, লিটন ১, হৃদয় ৩৬, জাকের ১৫*; সালমান ৩.৩-০-২৩-২, সাইম ২-০-১৬-২, ফাহিম ৩-০-২৯-০, আবরার ৪-০-২০-১, আব্বাস ২-০-১৬-১, নাওয়াজ ১-০-৮-০)


























