০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ির নদী ও খালে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, মৎস্য বিভাগের নীরব

ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন খাল ও হালদা নদীর সংযোগ অংশে বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাতের আঁধারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নদী ও খালে বিষ ঢেলে মাছ মেরে সকালে তা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছে।
বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর নাজিরহাট ও রোসাঙ্গিরী অংশ, ধুরুং খালের পাইন্দং অংশ, তেলপারই খাল, ভূজপুর রাবারড্যাম সংলগ্ন এলাকা ও যোগিনীঘাটা এলাকায় নিয়মিত এভাবে মাছ নিধন চলছে।
নাজিরহাটের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আবুল খায়ের জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করছে। অন্যদিকে যোগিনীঘাটের নুরুল আলম অভিযোগ করেন, হালদায় মাছ শিকার নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের চোখের সামনে দিন-রাত বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধ্বংস করা হচ্ছে।
এদিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে হালদার প্রাকৃতিক মাছের বংশবিস্তার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়লেও উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এই চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা নদী গবেষক ড. মোঃ মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারাটা খুবই ক্ষতিকর একটা বিষয়। শুধু শাখা খালের জন্য না আমাদের দেশের নদীর জীব বৈচিত্র ও মাছ শূন্য হওয়ার পিছনের অন্যতম কারণ হচ্ছে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন। এখানে দুই ধরনের বিষ আছে একটা হচ্ছে Insecticide (ইন্সেক্টিসাইড)। এটি হলো এক ধরনের কীটনাশক, যা পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ বা ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি পানিতে মিশিয়ে দিলে মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, চিংড়ি পর্যন্ত মারা যায়।
অন্যটি হলো Rooten / Rotenone (রুটেন বা রোটেনন) বা Fast Action / Fast Traction। এটি পানিতে দিলে খুব দ্রুত মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সহজে মারা যায়। অনেকে এটিই অবৈধভাবে খালে বা নদীতে মাছ মারার জন্য ব্যবহার করে। এগুলো ব্যবহার করে মাছ মারা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, কারণ এতে শুধু মাছ নয়, পানির অন্যান্য প্রাণী ও পরিবেশও ধ্বংস হয়ে যায়। এ ধরনের নিধনকৃত মাছ খাওয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে মৎস অধিদপ্তর বা উপজেলা মৎস্য অফিসের দায়িত্ব এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আজিজুল ইসলামকে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন কেটে দেন।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

ফটিকছড়ির নদী ও খালে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন, মৎস্য বিভাগের নীরব

আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন খাল ও হালদা নদীর সংযোগ অংশে বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাতের আঁধারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নদী ও খালে বিষ ঢেলে মাছ মেরে সকালে তা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছে।
বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর নাজিরহাট ও রোসাঙ্গিরী অংশ, ধুরুং খালের পাইন্দং অংশ, তেলপারই খাল, ভূজপুর রাবারড্যাম সংলগ্ন এলাকা ও যোগিনীঘাটা এলাকায় নিয়মিত এভাবে মাছ নিধন চলছে।
নাজিরহাটের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আবুল খায়ের জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করছে। অন্যদিকে যোগিনীঘাটের নুরুল আলম অভিযোগ করেন, হালদায় মাছ শিকার নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের চোখের সামনে দিন-রাত বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধ্বংস করা হচ্ছে।
এদিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে হালদার প্রাকৃতিক মাছের বংশবিস্তার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়লেও উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এই চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা নদী গবেষক ড. মোঃ মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারাটা খুবই ক্ষতিকর একটা বিষয়। শুধু শাখা খালের জন্য না আমাদের দেশের নদীর জীব বৈচিত্র ও মাছ শূন্য হওয়ার পিছনের অন্যতম কারণ হচ্ছে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন। এখানে দুই ধরনের বিষ আছে একটা হচ্ছে Insecticide (ইন্সেক্টিসাইড)। এটি হলো এক ধরনের কীটনাশক, যা পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ বা ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি পানিতে মিশিয়ে দিলে মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, চিংড়ি পর্যন্ত মারা যায়।
অন্যটি হলো Rooten / Rotenone (রুটেন বা রোটেনন) বা Fast Action / Fast Traction। এটি পানিতে দিলে খুব দ্রুত মাছের শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সহজে মারা যায়। অনেকে এটিই অবৈধভাবে খালে বা নদীতে মাছ মারার জন্য ব্যবহার করে। এগুলো ব্যবহার করে মাছ মারা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, কারণ এতে শুধু মাছ নয়, পানির অন্যান্য প্রাণী ও পরিবেশও ধ্বংস হয়ে যায়। এ ধরনের নিধনকৃত মাছ খাওয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।
তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে মৎস অধিদপ্তর বা উপজেলা মৎস্য অফিসের দায়িত্ব এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আজিজুল ইসলামকে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন কেটে দেন।

এমআর/সবা