১১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানব পাচারের অন্যতম রোড কক্সবাজার : বারবার আটক হলেও থেমে নেই মানব পাচার

মানব পাচারের অন্যতম রোড কক্সবাজার, বারবার আটক হলেও থেমে নেই মানব পাচার। প্রশাসনকে ফাঁকি বিদেশে বেশি বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক পাচারকারি চক্র কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত পয়েন্ট কে কাজে লাগিয়ে পাচার করছেন মালেশিয়া কিংবা মধ্যে প্রাচ্চের বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষদের লক্ষ্যকরে পাচারের চেষ্টা করছে চক্রটি। পাচারকারীরা টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে আদায় করছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ।
১৮ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতে
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া পাহাড়ের চূড়া থেকে অপহরণের শিকার নারী ও শিশুসহ৬৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড।
অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের বেশ কয়েকটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে বলে জানা যায়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ১১ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও মানবপাচার চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে উঠে এসেছে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
সুত্রমতে গত রোববার সাগরপথে ১০০ জন মিয়ানমার নাগরিক পাচারের সময় অভিযান চালিয়ে তা প্রতিহত করে বিজিবি। আটক করা হয় চক্রের ৪ সদস্যকে। মঙ্গলবার রাতে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কচ্ছপিয়া ও বড়ইতলি এলাকা থেকে আরও ৮ পাচারকারীকে আটক করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় ১১ জন ভুক্তভোগীকে। আটক ব্যক্তিরা হলেন : মোঃ আব্দুর রশিদ (৩৫), মোঃ মিজানুর রহমান (২০), মোঃ আবু তৈয়ব (২৫), মোঃ ইদ্রিস (৩৫), জাহেদ (১৮), মোঃ জুবায়ের (৩৩), নুরুল আবছার (১৮), মোঃ ইসমাইল (৩২), মোঃ ইমরান (২৮), নুর মোহাম্মদ (৪০), মাহমুদউল্লাহ (৩০) ও খুরশিদা বেগম (৩৪)। আটক ব্যক্তিরা উখিয়া, টেকনাফ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
বিজিবির অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত হোসেন, সাইফুল ও নিজাম নামের তিন ব্যক্তি এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতা। তাদের অধীনে রয়েছে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত দালাল ও দস্যুদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। চক্রটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগসাজশে কাজ করছে।
টেকনাফস্থ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বিজিবি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। জুলাই মাসে ১৫ জন, আগস্টে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে গতরাতের ৬৬ জন সহ ৮৮ জন আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ-এই তিন দেশে বিস্তৃত এই চক্রকে দমন করতে সব বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ থেকে নিজেকে ও সমাজকে রক্ষায় সতর্ক থাকুন। বিদেশ যাওয়ার আগে তথ্য যাচাই করুন এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

মানব পাচারের অন্যতম রোড কক্সবাজার : বারবার আটক হলেও থেমে নেই মানব পাচার

আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মানব পাচারের অন্যতম রোড কক্সবাজার, বারবার আটক হলেও থেমে নেই মানব পাচার। প্রশাসনকে ফাঁকি বিদেশে বেশি বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক পাচারকারি চক্র কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত পয়েন্ট কে কাজে লাগিয়ে পাচার করছেন মালেশিয়া কিংবা মধ্যে প্রাচ্চের বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষদের লক্ষ্যকরে পাচারের চেষ্টা করছে চক্রটি। পাচারকারীরা টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে আদায় করছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ।
১৮ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতে
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া পাহাড়ের চূড়া থেকে অপহরণের শিকার নারী ও শিশুসহ৬৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড।
অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের বেশ কয়েকটি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে বলে জানা যায়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে ১১ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও মানবপাচার চক্রের ১২ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে উঠে এসেছে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
সুত্রমতে গত রোববার সাগরপথে ১০০ জন মিয়ানমার নাগরিক পাচারের সময় অভিযান চালিয়ে তা প্রতিহত করে বিজিবি। আটক করা হয় চক্রের ৪ সদস্যকে। মঙ্গলবার রাতে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কচ্ছপিয়া ও বড়ইতলি এলাকা থেকে আরও ৮ পাচারকারীকে আটক করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় ১১ জন ভুক্তভোগীকে। আটক ব্যক্তিরা হলেন : মোঃ আব্দুর রশিদ (৩৫), মোঃ মিজানুর রহমান (২০), মোঃ আবু তৈয়ব (২৫), মোঃ ইদ্রিস (৩৫), জাহেদ (১৮), মোঃ জুবায়ের (৩৩), নুরুল আবছার (১৮), মোঃ ইসমাইল (৩২), মোঃ ইমরান (২৮), নুর মোহাম্মদ (৪০), মাহমুদউল্লাহ (৩০) ও খুরশিদা বেগম (৩৪)। আটক ব্যক্তিরা উখিয়া, টেকনাফ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
বিজিবির অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত হোসেন, সাইফুল ও নিজাম নামের তিন ব্যক্তি এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতা। তাদের অধীনে রয়েছে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত দালাল ও দস্যুদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। চক্রটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগসাজশে কাজ করছে।
টেকনাফস্থ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বিজিবি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। জুলাই মাসে ১৫ জন, আগস্টে ৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে গতরাতের ৬৬ জন সহ ৮৮ জন আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ-এই তিন দেশে বিস্তৃত এই চক্রকে দমন করতে সব বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, মানবপাচারের মতো জঘন্য অপরাধ থেকে নিজেকে ও সমাজকে রক্ষায় সতর্ক থাকুন। বিদেশ যাওয়ার আগে তথ্য যাচাই করুন এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন।