ঢাকার মগবাজার রেলক্রসিংয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন কক্সবাজারের রামুর মেয়ে উষা বড়ুয়া (২৮)। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সকালবেলা কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের মাঝে গভীর শোক নেমে এসেছে।
নিহত উষা বড়ুয়া রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের মেরংলোয়া গ্রামের বাসিন্দা রতন বড়ুয়ার মেয়ে। কয়েক বছর আগে তিনি জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে আসেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছিলেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি ছিলেন পরিবারের ভরসাস্থল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ছোট বোনকে নিয়ে রামপুরার ভাড়া বাসায় যাচ্ছিলেন উষা। মগবাজার রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় অসাবধানতাবশত ট্রেনের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ছোট বোনটি সামান্য দূরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
অকালপ্রয়াত উষা বড়ুয়ার মৃত্যুতে কক্সবাজারের রামুতে তার গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীরা জানান, তিনি ছিলেন বিনয়ী, পরিশ্রমী ও স্বপ্নবাজ এক তরুণী। তার হাসি ও মিষ্টভাষী আচরণে সবাই মুগ্ধ হতো। উষার সহকর্মীরাও শোকে ভেঙে পড়েছেন। তারা বলেছেন, কর্মক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সবার প্রিয়।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জীবিকার তাগিদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু রেলক্রসিং এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। উষার মৃত্যুর পর আবারও রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।
উষা বড়ুয়ার অকাল মৃত্যুতে শুধু তার পরিবার নয়, সমগ্র এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়েছে রামুর মেরংলোয়া গ্রাম। উষার বাবার আকাশচুম্বী আক্ষেপ—“মেয়েটা তো জীবনটাকে গুছিয়ে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য তাকে সুযোগ দিল না।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উষার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোক ও আবেগঘন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তার জন্য দোয়া করছেন এবং পরিবারকে এই শোক বহন করার শক্তি কামনা করেছেন।
এমআর/সবা

























