নোয়াখালী জেলার চাটখিলের উত্তর অঞ্চলের একমাত্র বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাসী মোহাম্মদপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাসেদুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা পরিবেশসহ শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৭ সালের শেষের দিকে তিনি রাসেদুল ইসলাম এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কোন তোয়াক্কা না করে তিনি একাই সব কিছু করে আসছেন। তিনি তখন থেকে তিনি ক্লাস না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে এ সব দূর্নীতির অভিযোগ উঠায় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ কামালপুর মোঃ হাসেম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বিএসসিকে অডিট করার দায়িত্ব প্রদান করেন। গত ৩ মাস তিনি বিদ্যালয় নিয়ে সব বিষয় অডিট করে অডিট রিপোর্ট কমিটির সভাপতি নিকট জমা দিয়েছেন। অডিট রিপোর্টে বিদ্যালয়ের হিসাব নিকাশে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। এতে প্রায় ৫৪ লাখ টাকার গড়মিল দেখা যায়। কমিটির সভাপতি আনিছ আহম্মেদ জানান, অডিট রিপোর্টের পর প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাবে জানিয়েছেন, তিনি বিদ্যালয়ের কোন অর্থ আত্মসাৎ করেন নি। তবে হিসাব নিকাশে কিছু অনিয়ম হয়েছে বলে স্বীকার করেন। এ জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। সভাপতি আনিস আরো জানান, তিনি অডিট রিপোর্টটি যাচাই বাছাই করার জন্য পুনরায় ৭ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির রিপোর্ট পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে আবু হেনা মোস্তফা কামাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর দেওয়া দূর্নীতির অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয় অভিযোগকারীদের উপস্থিতিতে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ^াস জানিয়েছেন। অভিযোগকারী আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনিছ আহম্মেদ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন বলে জানান।
তিনি আরো জানান, একটি প্রভাবশালী মহল প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দূর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিচার না হওয়ায় এলাকার লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক রাসেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের সামনে স্কুলের বাজারে কয়েকটি দোকান এবং বাজারের কিছু জায়গা এলাকার কয়েক ব্যক্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন। তার কারণে এটা করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপ-প্রচার ও তাকে হয়রানী করছেন।






















