সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ারকাট’ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শতাধিক আমানতকারী এই মানববন্ধনে অংশ নেন।
আমানতকারীরা এসময় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত বাতিল, সব হিসাবের টাকা মুনাফাসহ ফেরত এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৪ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনে জানায়, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। পরে ২১ জানুয়ারি নতুন প্রজ্ঞাপনে মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার কথা বলা হয়। অথচ ব্যাংকে আমানত রাখা মানে নির্দিষ্ট শর্তে একটি লিখিত ও অলিখিত চুক্তি। হঠাৎ করে এই চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করা আইন, নৈতিকতা ও ব্যাংকিং রীতিনীতির সরাসরি লঙ্ঘন।
তারা বলেন, আমরা কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় অংশীদার হইনি। আমরা সাধারণ আমানতকারী। ব্যাংকের লুটপাট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায় আমাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। এটা রাষ্ট্রীয়ভাবে আমানতকারীদের শাস্তি দেওয়ার শামিল।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক নারী আমানতকারী বলেন, এই ব্যাংকে স্বামীর পেনশনের টাকা রেখেছি। সেই টাকার মুনাফা দিয়েই সংসার চলত। এখন বলা হচ্ছে দুই বছরের মুনাফা কেটে নেওয়া হবে। এটা আমাদের সঙ্গে নির্মমতা।
শরিয়াহ আইনের প্রসঙ্গ তুলে বক্তারা বলেন, মুদারাবাহ চুক্তি অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, অপব্যবহার বা দুর্নীতির কারণে লোকসান হলে এর দায় আমানতকারীদের বহন করার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে আমানতকারীদের মুনাফা কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরাসরি শরিয়াহ পরিপন্থী।
মানববন্ধনে আমানতকারীরা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে– সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের মুনাফায় হেয়ারকাট বাতিল, সব ধরনের হিসাবের টাকা মুনাফাসহ নগদায়নের সুযোগ দেওয়া, এফডিআর ও ডিপিএস ভাঙার অধিকার নিশ্চিত করা, নতুন ও পুরোনো আমানতকারীদের সমান অধিকার প্রদান, ধাপে ধাপে পুরো আমানত ফেরতের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা এবং আরটিজিএস, ইএফটি, এটিএম-সহ সব ধরনের অনলাইন সেবা চালু করা।
আমানতকারীরা অভিযোগ করেন, ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার দায় এখন সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা বলেন, ব্যাংক লুটের শিকার আমানতকারীদের আবারও শাস্তি দেওয়া হচ্ছে হেয়ারকাটের নামে।
মানববন্ধন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে হেয়ারকাট বাতিল এবং সব হিসাবের টাকা মুনাফাসহ ফেরতের কার্যকর প্রক্রিয়া শুরু না হলে সারাদেশের সব শাখায় একযোগে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি তারা আহ্বান জানান, সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপানো এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা ফেরাতে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এমআর/সবা

























