2:36 am, Thursday, 9 July 2026

গোপালগঞ্জে ২০ লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় আটক ২

গোপালগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ৯ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজারের কক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একেবারে ‘ক্লুলেস’ এই চুরির ঘটনার কিনারা করে আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে নগদ অর্থ, জমি ক্রয়ের রশিদ এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর গোপালগঞ্জ শাখার ম্যানেজারের অফিস কক্ষে টেবিলের নিচে রাখা মামলার বাদী ফজলুল হকের নগদ ২০ লাখ টাকা অজ্ঞাতনামা চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৩ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানা-য় মামলা (মামলা নং-২৫) দায়ের করা হয়।

মামলা রুজুর পর পুলিশ সুপার গোপালগঞ্জের সরাসরি নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হাসানুর রহমান। তদন্তকারী দল সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে বিশ্লেষণ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোরদের অবস্থান শনাক্ত করে।

পরবর্তীতে খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুই আসামি—মো. টিটন খান (৩৬) ও মো. ইউনুস শেখ (৪৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে মামলার চোরাই মালামালের মধ্যে নগদ ২৭ হাজার টাকা, চুরি করা ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয়কৃত জমির দলিলের রশিদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চুরির কাজে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত একটি সুজুকি ব্র্যান্ডের কালো রঙের ১৫৫ সিসি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি অত্যন্ত দক্ষ ও পেশাদার আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুই আসামির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের এই সফল অভিযানে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 + fifteen =

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

গোপালগঞ্জে ২০ লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় আটক ২

Update Time : ০২:০৩:৪৩ pm, Sunday, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গোপালগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ৯ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজারের কক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একেবারে ‘ক্লুলেস’ এই চুরির ঘটনার কিনারা করে আন্তঃজেলা চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে নগদ অর্থ, জমি ক্রয়ের রশিদ এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর গোপালগঞ্জ শাখার ম্যানেজারের অফিস কক্ষে টেবিলের নিচে রাখা মামলার বাদী ফজলুল হকের নগদ ২০ লাখ টাকা অজ্ঞাতনামা চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৩ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানা-য় মামলা (মামলা নং-২৫) দায়ের করা হয়।

মামলা রুজুর পর পুলিশ সুপার গোপালগঞ্জের সরাসরি নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হাসানুর রহমান। তদন্তকারী দল সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে বিশ্লেষণ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোরদের অবস্থান শনাক্ত করে।

পরবর্তীতে খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুই আসামি—মো. টিটন খান (৩৬) ও মো. ইউনুস শেখ (৪৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে মামলার চোরাই মালামালের মধ্যে নগদ ২৭ হাজার টাকা, চুরি করা ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয়কৃত জমির দলিলের রশিদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চুরির কাজে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত একটি সুজুকি ব্র্যান্ডের কালো রঙের ১৫৫ সিসি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি অত্যন্ত দক্ষ ও পেশাদার আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুই আসামির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের এই সফল অভিযানে ভুক্তভোগী পরিবারসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

শু/সবা