১১:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে: ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “একটা স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।” তিনি বলেন, “২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর আমার মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে নয়। তারপরও আমি নির্বাচন চাই। তফসিল ঘোষণা হলে দল যদি আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করে, তাহলে পদত্যাগ করব।”

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর হালিশহর এইচ ব্লকে পার্ক ও ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমি অত্যন্ত গণতান্ত্রিক মানুষ। ১৬ বছর আন্দোলন–সংগ্রাম করেছি, ফাইট করে এ পর্যায়ে এসেছি। আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা ঐতিহাসিক। ২০২১ সালে হাত–পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দেওয়া হয়েছিল। আমার এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের মারা যেতে দেখেছি, পুলিশের সামনে লাশ বের করে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন যখন নির্যাতনে পরিণত হয়েছিল, তখনও আমি লড়াই করেছি। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচন আরও ভয়াবহ ছিল। ইভিএমে ভোট হয়েছে, প্রিন্টেড কপি না দিয়ে হাতে লেখা ফলাফল দেওয়া হয়েছিল। আমি বলেছিলাম, প্রিন্টেড কপি দিন—হারলে মেনে নেব। তারা দিতে পারেনি। তাই আমি মামলা করেছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “আমি রোগী দেখছিলাম, হাসপাতাল থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার পিএস মারুফ কথা বলতে এলে তাকেও জেলে পাঠানো হয়। তিন বছর ফাইট করেছি। হার্ডডিস্কসহ সব পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। নির্বাচন রাতেই সব নষ্ট করা হয়।”

আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রেজাউল করিমের আমল সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ, আমি যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য মেয়র হিসেবে মনোনীত। সরকার আমাকে পাঁচ বছরের জন্য ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট দিয়েছে। একটি স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।”

নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত বলেন, “৩৯–৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে রাজনীতি শুরু করেছি। সদস্য হিসেবে নয়। আমার জীবনের একটাই অনুশোচনা—এখনো পর্যন্ত উৎসবমুখর কোনো নির্বাচন ফেস করতে পারিনি। গত ১৬ বছর নির্বাচন করার মতো পরিবেশ ছিল না। দুটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, কিন্তু সেগুলো ছিল নির্যাতনের নির্বাচন।”

তিনি বলেন, “আমি আমার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই। চট্টগ্রাম শহরের ২২ লাখ ভোটারের মধ্যে আমাকে কত মানুষ চায়—দুই লাখ না দশ লাখ—তা জানতে চাই। গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোটই আমার চূড়ান্ত প্রাপ্তি।”

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ইতিহাসে অন্যতম ভালো নির্বাচন হয়েছে। এখন অনেকে বলছে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি সরকারের একটি অংশ ছিলাম এবং আছি। আমি দেখেছি, সরকারের অনেক উপদেষ্টা বিএনপিকে হারাতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চেয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন দেশনায়ক তারেক রহমান-কে প্রধানমন্ত্রী করবেন।”

তিনি বলেন, “তারেক রহমান মাঠে ২৩টি আসনে সমাবেশ করে ২১টিতে জয় পেয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে বাঁশখালীতেও বিএনপি জিতত। তাঁর ক্যারিশমা আছে। তিনি কুড়িগ্রাম বা নীলফামারীতেও গেলে বিএনপি বিপুল ভোট পাবে।”

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের একমাত্র মেয়র, যাকে আদালত ২০২৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে। তবুও আমি নির্বাচন চাই। এখন বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-এর হাতে। আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশন-কে চিঠি দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকাতেও নির্বাচন হওয়া উচিত। কাউন্সিলর না থাকায় জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রশাসক বদলি করে মেয়র দেওয়া হয়েছে, মেয়র বদলে প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।”

সবশেষে ডা. শাহাদাত বলেন, “২০২১ সালের নির্বাচনে আমার দলে একাধিক প্রার্থী ছিল। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সবার অধিকার আছে। দল যাচাই–বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেয়। তফসিল ঘোষণা হলে দল যদি আমাকে প্রার্থী করে, আমি প্রস্তুত আছি। ১৬ বছর জনগণের সঙ্গে খুব কাছাকাছি ছিলাম। শেষ সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।”

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

দীঘিনালা জোনে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে: ডা. শাহাদাত

আপডেট সময় : ০২:১১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, “একটা স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।” তিনি বলেন, “২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর আমার মেয়াদ শেষ হবে। এর আগে নয়। তারপরও আমি নির্বাচন চাই। তফসিল ঘোষণা হলে দল যদি আমাকে প্রার্থী ঘোষণা করে, তাহলে পদত্যাগ করব।”

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর হালিশহর এইচ ব্লকে পার্ক ও ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমি অত্যন্ত গণতান্ত্রিক মানুষ। ১৬ বছর আন্দোলন–সংগ্রাম করেছি, ফাইট করে এ পর্যায়ে এসেছি। আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা ঐতিহাসিক। ২০২১ সালে হাত–পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দেওয়া হয়েছিল। আমার এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের মারা যেতে দেখেছি, পুলিশের সামনে লাশ বের করে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন যখন নির্যাতনে পরিণত হয়েছিল, তখনও আমি লড়াই করেছি। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচন আরও ভয়াবহ ছিল। ইভিএমে ভোট হয়েছে, প্রিন্টেড কপি না দিয়ে হাতে লেখা ফলাফল দেওয়া হয়েছিল। আমি বলেছিলাম, প্রিন্টেড কপি দিন—হারলে মেনে নেব। তারা দিতে পারেনি। তাই আমি মামলা করেছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “আমি রোগী দেখছিলাম, হাসপাতাল থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার পিএস মারুফ কথা বলতে এলে তাকেও জেলে পাঠানো হয়। তিন বছর ফাইট করেছি। হার্ডডিস্কসহ সব পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। নির্বাচন রাতেই সব নষ্ট করা হয়।”

আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রেজাউল করিমের আমল সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ, আমি যেদিন শপথ নিয়েছি, সেদিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য মেয়র হিসেবে মনোনীত। সরকার আমাকে পাঁচ বছরের জন্য ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট দিয়েছে। একটি স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।”

নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত বলেন, “৩৯–৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে রাজনীতি শুরু করেছি। সদস্য হিসেবে নয়। আমার জীবনের একটাই অনুশোচনা—এখনো পর্যন্ত উৎসবমুখর কোনো নির্বাচন ফেস করতে পারিনি। গত ১৬ বছর নির্বাচন করার মতো পরিবেশ ছিল না। দুটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, কিন্তু সেগুলো ছিল নির্যাতনের নির্বাচন।”

তিনি বলেন, “আমি আমার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই। চট্টগ্রাম শহরের ২২ লাখ ভোটারের মধ্যে আমাকে কত মানুষ চায়—দুই লাখ না দশ লাখ—তা জানতে চাই। গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোটই আমার চূড়ান্ত প্রাপ্তি।”

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ইতিহাসে অন্যতম ভালো নির্বাচন হয়েছে। এখন অনেকে বলছে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি সরকারের একটি অংশ ছিলাম এবং আছি। আমি দেখেছি, সরকারের অনেক উপদেষ্টা বিএনপিকে হারাতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চেয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন দেশনায়ক তারেক রহমান-কে প্রধানমন্ত্রী করবেন।”

তিনি বলেন, “তারেক রহমান মাঠে ২৩টি আসনে সমাবেশ করে ২১টিতে জয় পেয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে বাঁশখালীতেও বিএনপি জিতত। তাঁর ক্যারিশমা আছে। তিনি কুড়িগ্রাম বা নীলফামারীতেও গেলে বিএনপি বিপুল ভোট পাবে।”

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের একমাত্র মেয়র, যাকে আদালত ২০২৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে। তবুও আমি নির্বাচন চাই। এখন বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-এর হাতে। আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশন-কে চিঠি দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকাতেও নির্বাচন হওয়া উচিত। কাউন্সিলর না থাকায় জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রশাসক বদলি করে মেয়র দেওয়া হয়েছে, মেয়র বদলে প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।”

সবশেষে ডা. শাহাদাত বলেন, “২০২১ সালের নির্বাচনে আমার দলে একাধিক প্রার্থী ছিল। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। সবার অধিকার আছে। দল যাচাই–বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেয়। তফসিল ঘোষণা হলে দল যদি আমাকে প্রার্থী করে, আমি প্রস্তুত আছি। ১৬ বছর জনগণের সঙ্গে খুব কাছাকাছি ছিলাম। শেষ সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ।”

শু/সবা