11:04 am, Thursday, 9 July 2026

আফগানিস্তান ‘মারাত্মক ভুল’ করেছে—পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আফগানিস্তান ‘মারাত্মক ভুল’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার জন্য আফগানিস্তানকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার-পাখতুনখোয়া-এর ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাক সেনাচৌকিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মহসিন নাকভি বলেন,
“রাতের অন্ধকারে ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে কাপুরুষোচিত হামলা করা ছিল আফগানিস্তানের জন্য মারাত্মক ভুল। এটি একটি ঘৃণ্য পদক্ষেপ। এর জন্য তাদের কঠিন মূল্য দিতে হবে। গোটা দেশ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কখনও আপস করব না।”

 বিমান হামলা ও পাল্টা হুমকি

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মদতপুষ্ট নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে লক্ষ্য করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহারপাকতিয়া প্রদেশে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। এতে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন বলে জানা যায়।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর দাবি করে, নিহতরা সবাই টিটিপি যোদ্ধা। তবে তালেবান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী জঙ্গিঘাঁটি নয়, বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হামলার ‘বদলা নেওয়া হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেয় তারা।

ডুরান্ড লাইনে রাতের হামলা

তালেবান সরকারের সেই হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ডুরান্ড লাইনে পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় আফগান সেনাবাহিনী।

আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ জানায়, সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাত-এর নির্দেশে রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন এবং কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।

এ সময় তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন,
“আমাদের সেনারা নাইট ভিশন ও লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার তাদের আমরা নরকে পাঠাব।”

পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’

ডুরান্ড লাইনে হামলার সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

অভিযান শুরুর পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন,
“আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধই হবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি—আমরা আপনাদের প্রতিবেশী এবং আপনাদের আচরণ সম্পর্কে ভালোভাবেই জানি।”

পাকিস্তানের দাবি: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক্সে জানান, পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)-এর হামলায় আফগানিস্তানের কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে আফগান সেনাবাহিনীর দুটি সেনা হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিগেড সদর, দুটি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি এবং একাধিক ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর হেডকোয়ার্টার ধ্বংস করা হয়েছে।

এছাড়া ৮০টির বেশি ট্যাংক, বিপুলসংখ্যক আর্টিলারি গান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংসের পাশাপাশি ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি সেনাচৌকি দখলের দাবিও করে পাকিস্তান।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five − three =

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

আফগানিস্তান ‘মারাত্মক ভুল’ করেছে—পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০১:৪৯:৪৪ pm, Friday, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আফগানিস্তান ‘মারাত্মক ভুল’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার জন্য আফগানিস্তানকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার-পাখতুনখোয়া-এর ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাক সেনাচৌকিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মহসিন নাকভি বলেন,
“রাতের অন্ধকারে ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে কাপুরুষোচিত হামলা করা ছিল আফগানিস্তানের জন্য মারাত্মক ভুল। এটি একটি ঘৃণ্য পদক্ষেপ। এর জন্য তাদের কঠিন মূল্য দিতে হবে। গোটা দেশ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কখনও আপস করব না।”

 বিমান হামলা ও পাল্টা হুমকি

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মদতপুষ্ট নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে লক্ষ্য করে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহারপাকতিয়া প্রদেশে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। এতে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন বলে জানা যায়।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর দাবি করে, নিহতরা সবাই টিটিপি যোদ্ধা। তবে তালেবান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, পাকিস্তান বিমানবাহিনী জঙ্গিঘাঁটি নয়, বেসামরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হামলার ‘বদলা নেওয়া হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেয় তারা।

ডুরান্ড লাইনে রাতের হামলা

তালেবান সরকারের সেই হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ডুরান্ড লাইনে পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় আফগান সেনাবাহিনী।

আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ জানায়, সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাত-এর নির্দেশে রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন এবং কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।

এ সময় তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন,
“আমাদের সেনারা নাইট ভিশন ও লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার তাদের আমরা নরকে পাঠাব।”

পাল্টা অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল হক’

ডুরান্ড লাইনে হামলার সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

অভিযান শুরুর পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন,
“আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধই হবে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি—আমরা আপনাদের প্রতিবেশী এবং আপনাদের আচরণ সম্পর্কে ভালোভাবেই জানি।”

পাকিস্তানের দাবি: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ-এর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক্সে জানান, পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)-এর হামলায় আফগানিস্তানের কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে আফগান সেনাবাহিনীর দুটি সেনা হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিগেড সদর, দুটি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি এবং একাধিক ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর হেডকোয়ার্টার ধ্বংস করা হয়েছে।

এছাড়া ৮০টির বেশি ট্যাংক, বিপুলসংখ্যক আর্টিলারি গান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংসের পাশাপাশি ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি সেনাচৌকি দখলের দাবিও করে পাকিস্তান।

শু/সবা