সৈকতের সকল অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সালাউদ্দিন আহমদ
৯ মার্চ, সোমবার, দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সৈকতের সকল অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদের ঘোষণার খবরে পূর্ব ঘোষিত কক্সবাজারের ৪ পরিবেশ সংগঠনের স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন -বাপা কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা, নদী পরিব্রাজক দল, আমরা কক্সবাজারবাসী ও কক্সবাজার সোসাইটিসহ ৪টি পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে বীচের বালিয়াড়ি উম্মুক্ত রাখার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১০ মার্চের স্মারকলিপি প্রদানের যে কর্মসূচি ছিল তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়। এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় গর্বের প্রতীক। কিন্তু সেই সৈকতের বালিয়াড়ি যদি দখলদারদের হাতে বন্দী হয়ে যায়, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে এই সৈকত কি সত্যিই জনগণের, নাকি কিছু প্রভাবশালী দখলবাজের?
সম্প্রতি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিশাল বালিয়াড়ি মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দখল করে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট। সরকারি জমি, অথচ সেখানে চলছে ব্যক্তিগত মালিকানার মতো দখল ও নিয়ন্ত্রণ। একের পর এক অস্থায়ী স্থাপনা, বেআইনি দখল এবং পরিকল্পিতভাবে বালিয়াড়ি কেটে জায়গা দখলের যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা কক্সবাজারের পরিবেশ ও পর্যটনের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা। জেলা প্রশাসন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পর্যটন কর্পোরেশন কিংবা পর্যটন মন্ত্রণালয় যাদের এগিয়ে এসে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তাদের দৃশ্যমান কার্যক্রম এখনো চোখে পড়ছে না। এই নীরবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে এবং দখলদারদের সাহস আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বালিয়াড়ি কোনো সাধারণ জমি নয়। এটি উপকূলীয় পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং উপকূলীয় ক্ষয় থেকে এই বালিয়াড়ি সৈকতকে রক্ষা করে। যদি এই প্রাকৃতিক বাঁধ ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে শুধু পরিবেশ নয়, পুরো পর্যটন অর্থনীতিও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আমরা কক্সবাজারবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, কক্সবাজারের সৌন্দর্য ধ্বংস হলে তার ক্ষতি পূরণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর উদ্বেগ স্বাভাবিক। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা কমিটি সহ চারটি সংগঠন যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আমরা আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সাহেবের কথা শুনে ঘোষিত কর্মসূচিয়া স্থগিত ঘোষণা করেছি। আশা করি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যত্রতত্র গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করবেন। তা বিলম্ব হলে আমরা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন শক্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ, দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং সৈকতের বালিয়াড়িকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের পরিকল্পনা। কক্সবাজারকে বাঁচাতে হলে এখনই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এটি দেশের সম্পদ, মানুষের সম্পদ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্পদ। সেই সম্পদ রক্ষা করা রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিক সবাইয়ের দায়িত্ব।
শু/সবা





















