বাংলাদেশে ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার এ রিট করেন বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণিকল্যাণকর্মী জয়া আহসান।
রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে রয়েছেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব, ড. সিনথিয়া ফরিদ ও অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান।
রিটে বিশেষ করে অসুস্থ প্রাণীর মাংস প্রতারণামূলকভাবে মানুষের খাদ্য হিসেবে বাজারজাত করার ঘটনায় উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাজীপুরে অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত এবং সেই প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৬০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজেয়াপ্ত অসুস্থ ঘোড়ার নিলাম বন্ধ এবং উদ্ধার করা প্রাণীদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য ‘অভয়ারণ্য-বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
রিটে বলা হয়, বিচারিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অবৈধ বাণিজ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে থাকবে এবং প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা অব্যাহত থাকবে।
আইনজীবীরা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে গাজীপুরে জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, Rapid Action Battalion (র্যাব)-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি তুলা কারখানায় পরিচালিত অবৈধ ঘোড়ার মাংস বাণিজ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। অভিযানে গুরুতর অসুস্থ ৩৬টি ঘোড়া, আটটি জবাইকৃত ঘোড়ার মৃতদেহ এবং বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়।
ভেটেরিনারি পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাক দূষণ ও সন্দেহজনক যক্ষ্মা সংক্রমণের আলামত পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করে মানুষকে প্রতারিত করা হচ্ছিল।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে গাজীপুরে একটি মোবাইল কোর্ট ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও অবৈধ বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
রিটকারীদের দাবি, অবৈধ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জনস্বার্থে আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
সবুজ বাংলা বিনোদন ডেস্কৎ 























