মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন উত্তেজনার মধ্যেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্প ও সি চিন পিং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান কার্যত এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে তোলে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় এ সংকটে বেইজিংয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না। তাদের একটি চুক্তিতে আসা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে তিনি স্বস্তি বোধ করবেন।
যদিও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, এরপরও ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানোয় আলোচনা কার্যত অচল হয়ে আছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওমান উপকূলের কাছে একটি ভারতীয় কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের কাছে একটি জাহাজ ‘অননুমোদিত ব্যক্তিরা’ ইরানের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সি চিন পিং হরমুজ প্রণালিতে সামরিকীকরণের বিরোধিতা করেছেন এবং এ নৌপথ ব্যবহারে টোল আরোপের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন।
এছাড়া ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়েছেন সি চিন পিং। ট্রাম্প দাবি করেছেন, চীন ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম দেবে না বলেও তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। তবে কৌশলগত অংশীদার হওয়ায় চীন ইরানের ওপর খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
শু/সবা
সবুজ বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















