12:44 am, Saturday, 16 May 2026

সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে এলাকাবাসী

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা–এর কঞ্চিবাড়ী ও ছাপড়হাটি ইউনিয়নে গত ২২ থেকে ২৩ দিনে কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও মৃত্যুর ঘটনায় আহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী গ্রামের দুর্গা চরণ বর্মনের মেয়ে নন্দ রানী এবং একই ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ী গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুল মিয়া কুকুরের কামড়ের দুই সপ্তাহের মধ্যে মারা যান। এছাড়া ছাপড়হাটি ইউনিয়নের পূর্ব ছাপড়হাটি গ্রামের বাবু রতনেশ্বর গত ৮ মে মারা যান। সর্বশেষ গত ১২ মে কঞ্চিবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে আফরুজা বেগমের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ জনে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এলাকায় পাঠানো হয়নি। আহতদের উন্নত চিকিৎসা কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে আহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

সচেতন মহল দ্রুত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠিয়ে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুর শনাক্ত করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভ্যাকসিন প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এর মেডিকেল অফিসার দীবাকর বসাক বলেন, কুকুরে কামড়ানো ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন দেওয়ার পর জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কথা নয়। অন্য কোনো কারণেও তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একজনের মৃত্যু সনদে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে।

আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম পাঠানো হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার বলেন, নিহতদের সরকারি সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।

শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

sixteen − six =

About Author Information

Popular Post

সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে এলাকাবাসী

Update Time : ০৭:৩২:০৬ pm, Friday, ১৫ মে ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা–এর কঞ্চিবাড়ী ও ছাপড়হাটি ইউনিয়নে গত ২২ থেকে ২৩ দিনে কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও মৃত্যুর ঘটনায় আহতদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী গ্রামের দুর্গা চরণ বর্মনের মেয়ে নন্দ রানী এবং একই ইউনিয়নের কঞ্চিবাড়ী গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুল মিয়া কুকুরের কামড়ের দুই সপ্তাহের মধ্যে মারা যান। এছাড়া ছাপড়হাটি ইউনিয়নের পূর্ব ছাপড়হাটি গ্রামের বাবু রতনেশ্বর গত ৮ মে মারা যান। সর্বশেষ গত ১২ মে কঞ্চিবাড়ী গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে আফরুজা বেগমের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ জনে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এলাকায় পাঠানো হয়নি। আহতদের উন্নত চিকিৎসা কিংবা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে আহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

সচেতন মহল দ্রুত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠিয়ে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুর শনাক্ত করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভ্যাকসিন প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এর মেডিকেল অফিসার দীবাকর বসাক বলেন, কুকুরে কামড়ানো ব্যক্তিদের ভ্যাকসিন দেওয়ার পর জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কথা নয়। অন্য কোনো কারণেও তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তিনি জানান, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একজনের মৃত্যু সনদে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে।

আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম পাঠানো হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার বলেন, নিহতদের সরকারি সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।

শু/সবা