9:16 pm, Monday, 18 May 2026

সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান

পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবে প্রায় আট হাজার সেনা, একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পরও সৌদি আরব–এর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে ইসলামাবাদ।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুটি সরকারি সূত্র এই মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এটি একটি “যুদ্ধ-প্রস্তুত বাহিনী”, যার লক্ষ্য সৌদি আরব আবার কোনো হামলার মুখে পড়লে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদির সরকারি গণমাধ্যম বিভাগ আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির বিস্তারিত শর্ত গোপন রাখা হলেও উভয় পক্ষ জানিয়েছিল, যেকোনো এক পক্ষ আক্রান্ত হলে অপর পক্ষ প্রতিরক্ষায় সহায়তা করতে বাধ্য থাকবে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পাকিস্তানের “নিউক্লিয়ার আমব্রেলা” বা পারমাণবিক সুরক্ষার আওতায় এসেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন সৌদিতে পাঠিয়েছে। এর বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি JF-17 Thunder। গত এপ্রিলের শুরুতে এসব যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়।

এছাড়া দুই স্কোয়াড্রন ড্রোনও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। পাশাপাশি চীনা তৈরি HQ-9 মোতায়েন করা হয়েছে, যা পরিচালনা করছেন পাকিস্তানি সেনাসদস্যরা।

সব মিলিয়ে মোতায়েন করা সেনা সদস্যের সংখ্যা প্রায় আট হাজার বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে পাকিস্তান। এসব সামরিক সরঞ্জাম ও কার্যক্রমের ব্যয় বহন করছে সৌদি আরব।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

fourteen + 19 =

About Author Information

সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান

সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পাকিস্তান

Update Time : ০৯:১৫:৪৭ pm, Monday, ১৮ মে ২০২৬

পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবে প্রায় আট হাজার সেনা, একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পরও সৌদি আরব–এর সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে ইসলামাবাদ।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, তিনজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও দুটি সরকারি সূত্র এই মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এটি একটি “যুদ্ধ-প্রস্তুত বাহিনী”, যার লক্ষ্য সৌদি আরব আবার কোনো হামলার মুখে পড়লে দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা সৌদির সরকারি গণমাধ্যম বিভাগ আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির বিস্তারিত শর্ত গোপন রাখা হলেও উভয় পক্ষ জানিয়েছিল, যেকোনো এক পক্ষ আক্রান্ত হলে অপর পক্ষ প্রতিরক্ষায় সহায়তা করতে বাধ্য থাকবে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব পাকিস্তানের “নিউক্লিয়ার আমব্রেলা” বা পারমাণবিক সুরক্ষার আওতায় এসেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান প্রায় ১৬টি যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন সৌদিতে পাঠিয়েছে। এর বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি JF-17 Thunder। গত এপ্রিলের শুরুতে এসব যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়।

এছাড়া দুই স্কোয়াড্রন ড্রোনও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। পাশাপাশি চীনা তৈরি HQ-9 মোতায়েন করা হয়েছে, যা পরিচালনা করছেন পাকিস্তানি সেনাসদস্যরা।

সব মিলিয়ে মোতায়েন করা সেনা সদস্যের সংখ্যা প্রায় আট হাজার বলে জানা গেছে। প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে পাকিস্তান। এসব সামরিক সরঞ্জাম ও কার্যক্রমের ব্যয় বহন করছে সৌদি আরব।

শু/সবা