চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতে কৌশলগত সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উন্নয়ন প্রকল্প এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত পিপলস হিরোজ মনুমেন্টে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া সফর শেষে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোসে অংশ নিতে চীনের দালিয়ান শহরে যান।
বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
একই দিনে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।
বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। সফরে তিনি ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার মধ্যে রয়েছেন ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা।
সফর শেষে শুক্রবার বিকেল ৫টায় (স্থানীয় সময়) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সবুজ বাংলা অনলাইন 























