বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইনে বলা আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্নের পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ কাগজপত্র জমা দিতে হবে নথিভুক্তকরনের জন্য। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের পরে নথিভুক্তকরনের অনুমোদন দিলে তারপরেই কেউ সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদারছে ব্যবহার করছেন অনুমোদনহীন ভুয়া পিএইচডি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পিএইচডি নথিভুক্ত হওয়া তো দূরের কথা এই সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রই তিনি জমা দেননি এখনো।পিএইসডি ডিগ্রির কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা না দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের দপ্তরের অনারবোর্ডে ও নামফলকে পিএইচডি ব্যবহার কেন করছেন জিজ্ঞাসা করলে তিনি এগুলো সরিয়ে ফেলবেন বলে জানান।
এদিকে পিএইচডি সম্পন্নের কোনো প্রমাণপত্র ছাড়াই তিনি পোস্ট ডক্টরেট করার জন্য ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ছুটির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছেন। অনুমোদনবিহীন পিএইচডি ব্যবহার ও পিএইচডি সম্পন্ন করার আগেই পোস্ট ডক্টরেট এর আবেদনকে কেন্দ্র করে ঐ কর্মকর্তাকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানার জন্য গত বৃহস্পতিবার (১৮ই জুন) সকাল ১১টায় তার দপ্তরে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দপ্তর থেকে সটকে পড়েন। পরে দুপুর দুইটার দিকে দপ্তরে গিয়ে জানাযায় তিনি উপাচার্যের থেকে জরুরি ছুটি নিয়ে চলে গেছেন।
ঐদিন তার দপ্তর ও কক্ষ সরোজমিনে ঘুরে দেখা যায় অনার বোর্ড ও নাম ফলকে সুব্রত কুমার নিজের নামের পাশে পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করছেন। যদিও প্রশাসন এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। তবে পিএইচডি সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে যথাযথ কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় এখনো জমা দিতে পারেনি বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অর্থ দপ্তরের সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন সুব্রত কুমার বাহাদুর। সেখানে কর্মরত অবস্থায় ২০১১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টটিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে পিএইচডিতে ভর্তি হন তিনি। তবে কুবি থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অনুমতি নিয়েছেন কিনা এই সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য ববি প্রশাসনের নিকট পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ২০১২ সালে তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যোগদান করলেও ২০১৩ সালে তিনি একটি পিএইচডি চলমান মর্মে অনুমতি চান ববির তৎকালীন প্রশাসন থেকে। তাকে অনুমতি প্রদান করলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। ২০১১ সালে ভর্তি হওয়া পিএইচডি ডিগ্রি ১৬ বছরেও শেষ করতে পেরেছেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার মধ্যেই প্রশাসনের নাকের ডগায় অনুমোদনবিহীন পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করে যাচ্ছেন এই কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছেন, যেখানে কয়েকজন শিক্ষক তাদের সম্পন্ন করা পিএইচডির নথি প্রশাসনের নিকট জমা দিয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারছেন না। সেখানে কোনো ধরনের নথি জমা দেয়া ছাড়াই দিব্যি ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে যাচ্ছেন সুব্রত কুমার। যার ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অনুমোদনবিহীন পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে সুব্রত কুমার বলেন, আমার ডিগ্রিটি সম্পন্ন হয়েছে। তবে যথাযথ কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় এখনো প্রশাসনের নিকট জমা দিয়ে অনুমতি নেয়া হয়নি। অনুমোদন বিহীন নাম ফলকে এভাবে ডিগ্রি ব্যবহার নিয়ম সিদ্ধ কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে আপাতত নাম ফলটি সরিয়ে ফেলবেন বলে জানান।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো.হুমায়ুন কবীর বলেন, সুব্রত কুমার দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে একটি পিএইচডি করছেন বলে জানি আমরা। তবে তিনি সেটি সম্পন্ন করেছেন কিনা এই বিষয়ে কোনো সার্টিফিকেট বা কাগজপত্র উনি প্রশাসনের নিকট জমা দেননি এবং বিষয়টি প্রশাসনকে অবগতকরেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত এ জাতীয় অতিরিক্ত ডিগ্রি ব্যবহার বিধিবহির্ভূত কিনা জানতে চাইলে এ ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন, নথিভুক্ত না করে কেউ এভাবে পিএইচডি ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি কেনো এমনটি করলেন বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।
শু/সবা
ববি প্রতিনিধি 

























