০১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে বৃদ্ধি পেয়েছে বিদেশী পদ্ধতিতে সবজি চাষ

মালচিং মূলত চীন ও জাপান দেশের বিষমুক্ত সবজি চাষের একটি
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। বর্তমানে বাংলাদেশেও কৃষি বিভাগের উদ্যোগে
পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে বিভিন্ন স্থানে এই পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি
চাষ শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহীর
বিভিন্ন উপজেলায় মালচিং পদ্ধতিতে চাষের চাহিদা অনেকাংশে বৃদ্ধি
পেয়েছে।এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজির ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায়
উৎসাহিত হচ্ছেন স্থানীয় অনেক কৃষকরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উৎপাদিত সকল সবজিতেই
ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রারিক্ত কীটনাশক যা মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
কীটনাশক কম ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগ
প্রতিনিয়তই উদ্ভাবন করছে পরিবেশবান্ধব নানা প্রযুক্তি ও পদ্ধতি। সেই
পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তির মধ্যে একটি মালচিং পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে
প্রথমেই পরিমাণমতো খাবার দিয়ে জমি প্রস্তুত শেষে সারি তৈরি করা হয়।
সেই মাটির সারিগুলি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সারিগুলো দিয়ে
নির্দিষ্ট দূরত্বে পলিথিন ফুটো করে সবজির চারা রোপন করা হয়। চারা
রোপনের পর থেকে শুধুমাত্র দেখভাল করা ছাড়া আর তেমন কোন পরিচর্যা করতে
হয় না। মাটির সারিগুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে থাকার কারণে বাহির থেকে
কোন ছত্রাক কিংবা রোগবালাই সেই সবজির চারাতে আক্রমণ করতে পারে না
বলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় খুবই কম। এই পদ্ধতিতে চাষ করা
টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির গাগ ঢলে পড়া রোগ হয় না। ক্ষেতের
পরিচর্যার জন্য তেমন শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না বলে উৎপাদন খরচ হয় খুবই
কম হয়। এছাড়া এই পদ্ধতিতে ফলন হয় দ্বিগুন। পরিশ্রম করতে হয় কম। আর এই
পদ্ধতি অনেক সহজ লভ্য ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় অনেক কৃষকরা এই পদ্ধতিতে
সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
রাজশাহীর অঞ্চলে বিভিন্ন জেলায় এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন কৃষকরা।
রাজশাহীল গোদাগাড়ী উপজেলায় গত ৫ বছর থেকে এই পদ্ধতিতে সবজি
উৎপান করা হচ্ছে। প্রায় ১০ হেক্টও জমিতে কৃষকরা সবজি উৎপাদন করে
লাভবান হয়েছে।
মালচিং পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করে লাভবান হয়েছেন গোদাগাড়ী
উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি অফিসারের পরামর্শে এই পদ্ধতি
কাজ লাগিয়ে সুফল পায়। তারা বলেন, এই পদ্ধতিতে প্রথমে পরিমাণ মতো
জৈব খাবার দিয়ে জমি প্রস্তুত শেষে সারি তৈরি করা হয়। সেই মাটির সারি
গুলি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সারি গুলোর নির্দিষ্ট দূরত্বে
পলিথিন ফুটো করে সবজির চারা রোপণ করা হয়। দুটো সারির মাঝখানে
ছোট্ট একটি নালা রাখা হয় প্রয়োজন মতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন করার

জন্য। চারা রোপণের পর থেকে শুধুমাত্র দেখভাল করা ছাড়া আর তেমন কোনও
পরিচর্যা করতে হয় না। আগাছা জন্মাতে পারে না বলে খেতের পরিচর্যার
জন্য তেমন শ্রমিকেরও প্রয়ােজন হয় না। সেজন্য উৎপাদন খরচও কম হয়, কিন্তু
ফলন হয় দ্বিগুণ। এবার এই পদ্ধতিতে চাষ করছি আশা করা যায় ভালো ফল পাবো।
উপজেলার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এই পদ্ধতিতে চাষের
সবচেয়ে বড় ভালো দিক হলো বরেন্দ্রঅঞ্চলে পানির স্তর প্রতিবছর ২-৩ ফিট
নিচে নেমে যাচ্ছে। মালচিং পদ্ধতিতে জমি চাষ করলে পানি কম লাগছে।
এতে কৃষককের সেচ কম ও খরচ কমে যাবে পাশাপাশি ফসলগুলো অনেকদিন
টেকসই হবে। এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক
চাষিদের আর্থিক সমৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, মালচিং
পদ্ধতি কৃষি কাজের অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি। গত তিন বছর যাবৎ এই
উপজেলায় এই পদ্ধতিতে প্রায় ৯ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। নতুন ভাবে পরিবেশ
বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের এটি করা হচ্ছে। এটি
করে কৃষকরা খুবই লাভবান হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আগাছা ও রোগবালাই কম
হয়। বিশেষ করে মাটির আদ্রতা সংরক্ষণ হয় ফল সেচ কম লাগে। মালচিং এ
উৎপাদিত স্টবেরী, টমেটো, তরমুজ,শসা এসব ফলের কালার খুবই আকর্ষনীয় ও
মাটির যে পুষ্টিগুণ তা পুরোপুরি থাকছে। আশা করা যায় আগামীতে এই
পদ্ধতি আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে।
রাজশাহীজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচলক মোজদার হোসেন
বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হচ্ছে। প্রতিবছরই রাজশাহী
জেলায় এই পদ্ধতিতে চাষ হয়েছে। আগামীতে এর সম্প্রসারণ আরো বেড়ে
যাবে বলে জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

রাজশাহীতে বৃদ্ধি পেয়েছে বিদেশী পদ্ধতিতে সবজি চাষ

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৪

মালচিং মূলত চীন ও জাপান দেশের বিষমুক্ত সবজি চাষের একটি
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। বর্তমানে বাংলাদেশেও কৃষি বিভাগের উদ্যোগে
পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে বিভিন্ন স্থানে এই পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি
চাষ শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহীর
বিভিন্ন উপজেলায় মালচিং পদ্ধতিতে চাষের চাহিদা অনেকাংশে বৃদ্ধি
পেয়েছে।এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজির ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায়
উৎসাহিত হচ্ছেন স্থানীয় অনেক কৃষকরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উৎপাদিত সকল সবজিতেই
ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রারিক্ত কীটনাশক যা মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।
কীটনাশক কম ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগ
প্রতিনিয়তই উদ্ভাবন করছে পরিবেশবান্ধব নানা প্রযুক্তি ও পদ্ধতি। সেই
পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তির মধ্যে একটি মালচিং পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে
প্রথমেই পরিমাণমতো খাবার দিয়ে জমি প্রস্তুত শেষে সারি তৈরি করা হয়।
সেই মাটির সারিগুলি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সারিগুলো দিয়ে
নির্দিষ্ট দূরত্বে পলিথিন ফুটো করে সবজির চারা রোপন করা হয়। চারা
রোপনের পর থেকে শুধুমাত্র দেখভাল করা ছাড়া আর তেমন কোন পরিচর্যা করতে
হয় না। মাটির সারিগুলো পলিথিন দিয়ে ঢেকে থাকার কারণে বাহির থেকে
কোন ছত্রাক কিংবা রোগবালাই সেই সবজির চারাতে আক্রমণ করতে পারে না
বলে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় খুবই কম। এই পদ্ধতিতে চাষ করা
টমেটোসহ বিভিন্ন সবজির গাগ ঢলে পড়া রোগ হয় না। ক্ষেতের
পরিচর্যার জন্য তেমন শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না বলে উৎপাদন খরচ হয় খুবই
কম হয়। এছাড়া এই পদ্ধতিতে ফলন হয় দ্বিগুন। পরিশ্রম করতে হয় কম। আর এই
পদ্ধতি অনেক সহজ লভ্য ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় অনেক কৃষকরা এই পদ্ধতিতে
সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
রাজশাহীর অঞ্চলে বিভিন্ন জেলায় এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন কৃষকরা।
রাজশাহীল গোদাগাড়ী উপজেলায় গত ৫ বছর থেকে এই পদ্ধতিতে সবজি
উৎপান করা হচ্ছে। প্রায় ১০ হেক্টও জমিতে কৃষকরা সবজি উৎপাদন করে
লাভবান হয়েছে।
মালচিং পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করে লাভবান হয়েছেন গোদাগাড়ী
উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান, কৃষি অফিসারের পরামর্শে এই পদ্ধতি
কাজ লাগিয়ে সুফল পায়। তারা বলেন, এই পদ্ধতিতে প্রথমে পরিমাণ মতো
জৈব খাবার দিয়ে জমি প্রস্তুত শেষে সারি তৈরি করা হয়। সেই মাটির সারি
গুলি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সারি গুলোর নির্দিষ্ট দূরত্বে
পলিথিন ফুটো করে সবজির চারা রোপণ করা হয়। দুটো সারির মাঝখানে
ছোট্ট একটি নালা রাখা হয় প্রয়োজন মতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন করার

জন্য। চারা রোপণের পর থেকে শুধুমাত্র দেখভাল করা ছাড়া আর তেমন কোনও
পরিচর্যা করতে হয় না। আগাছা জন্মাতে পারে না বলে খেতের পরিচর্যার
জন্য তেমন শ্রমিকেরও প্রয়ােজন হয় না। সেজন্য উৎপাদন খরচও কম হয়, কিন্তু
ফলন হয় দ্বিগুণ। এবার এই পদ্ধতিতে চাষ করছি আশা করা যায় ভালো ফল পাবো।
উপজেলার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এই পদ্ধতিতে চাষের
সবচেয়ে বড় ভালো দিক হলো বরেন্দ্রঅঞ্চলে পানির স্তর প্রতিবছর ২-৩ ফিট
নিচে নেমে যাচ্ছে। মালচিং পদ্ধতিতে জমি চাষ করলে পানি কম লাগছে।
এতে কৃষককের সেচ কম ও খরচ কমে যাবে পাশাপাশি ফসলগুলো অনেকদিন
টেকসই হবে। এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে গ্রামের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক
চাষিদের আর্থিক সমৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ জানান, মালচিং
পদ্ধতি কৃষি কাজের অন্যতম আধুনিক পদ্ধতি। গত তিন বছর যাবৎ এই
উপজেলায় এই পদ্ধতিতে প্রায় ৯ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। নতুন ভাবে পরিবেশ
বান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের এটি করা হচ্ছে। এটি
করে কৃষকরা খুবই লাভবান হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আগাছা ও রোগবালাই কম
হয়। বিশেষ করে মাটির আদ্রতা সংরক্ষণ হয় ফল সেচ কম লাগে। মালচিং এ
উৎপাদিত স্টবেরী, টমেটো, তরমুজ,শসা এসব ফলের কালার খুবই আকর্ষনীয় ও
মাটির যে পুষ্টিগুণ তা পুরোপুরি থাকছে। আশা করা যায় আগামীতে এই
পদ্ধতি আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে।
রাজশাহীজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচলক মোজদার হোসেন
বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে কৃষকরা প্রচুর লাভবান হচ্ছে। প্রতিবছরই রাজশাহী
জেলায় এই পদ্ধতিতে চাষ হয়েছে। আগামীতে এর সম্প্রসারণ আরো বেড়ে
যাবে বলে জানান।