১০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
মিয়ানমারে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে

মিয়ানমারের ১৪ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে

মিয়ানমারে আরকান আর্মি যোদ্ধারা হঠাৎ করে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠায় দেশটির আরকান রাজ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আরকান আর্মির সাথে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মধ্যে নিয়মিত হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা  দেখা দিয়েছে। মিয়ানমারের ওপার থেকে গুলি, মর্টারশেল বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় অবাধে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত শনিবার দিবাগত রাতে আরকান আর্মি যোদ্ধাদের সাথে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর সাথে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে আরকান আর্মি যোদ্ধাদের সাথে এই সংঘর্ষের ঘটনা চলে আসছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, আরকার আর্মি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক জান্তা কঠোর অবস্থান নিয়ে অভিযান শুরু করলে, আরকান আর্মি যোদ্ধারা তাদের অবস্থানকে ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাতে আরকান আর্মি যোদ্ধাদের ভয়াবহ আক্রমণে দাঁড়াতে না পেরে মিয়ানমার বিজিপি”র ১৪ সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসে প্রাণ রক্ষা করেছেন।
আরাকান আর্মির যোদ্ধাদের আক্রমণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১৪ জন সদস্য বান্দরবানে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তুমব্রু ফাঁড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা
এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন – তুমব্রু হিন্দু পাড়ার প্রবীন্দ্র ধর (৬৫) ও কোনারপাড়ার একজন নারী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ৩৪ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাশরাকী।
তিনি বলেন,  মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ফাঁড়ি দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। এসময় বিজিপির ১৪ জন সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের থেকে অস্ত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান,গত রবিবার ভোর রাত থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। ঘুনধুমের তুম্ব্রু এলাকার অনেকেই ঘর বাড়ি ও দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, গতকাল শনিবার রাতে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি)  ৩৪ নম্বর রাইট ক্যাম্প দখলে নিতে আরাকান আর্মি হামলা চালায়। এরপর শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই। দুইপক্ষের হাজার হাজার গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের শব্দ শোনা যায়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে রাতে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ১৪ জন সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসে বিজিবির তুমব্রু ফাঁড়িতে আশ্রয় নেয়।
ঘুনধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, শনিবার বিকেলে এবং রাতে সীমান্তের ওপারে রাখাইনের তুমব্রু রাইট পিলার ক্যাম্প এলাকা থেকে এলোপাতাড়ি ফায়ারিং শোনা যায়। সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামবাসীরা ওপারের দুপক্ষের লড়াইয়ে ব্যাপক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন জানিয়েছেন, গত পরশু শনিবার ও গতকাল রবিবার সকাল থেকে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় তীব্র গোলাগুলির শব্দ শুনা যাচ্ছে।
সীমান্তের বিভিন্ন সূত্র বলছে, মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাতে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনীর প্রায় সব ক্যাম্প দখল করে নিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। গত শনিবার রাতে দখল করেছে তুমব্রু ৩৪ নম্বর রাইট ক্যাম্প।
মিয়ানমারে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে সীমান্তের ১০০ গজ দূরত্বে থাকা মিশকাতুন নবী দাখিল মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান বান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মান্নান বলেন, আজ সকাল থেকে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকার অভ্যন্তরে গোলাগুলি বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্ত এলাকার বাইশ ফাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজা বনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কুল তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ গুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি।

মিয়ানমারে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে

মিয়ানমারের ১৪ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে

আপডেট সময় : ০৪:০০:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমারে আরকান আর্মি যোদ্ধারা হঠাৎ করে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠায় দেশটির আরকান রাজ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আরকান আর্মির সাথে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মধ্যে নিয়মিত হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা  দেখা দিয়েছে। মিয়ানমারের ওপার থেকে গুলি, মর্টারশেল বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় অবাধে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গত শনিবার দিবাগত রাতে আরকান আর্মি যোদ্ধাদের সাথে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর সাথে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত দুই সপ্তাহের অধিক সময় ধরে আরকান আর্মি যোদ্ধাদের সাথে এই সংঘর্ষের ঘটনা চলে আসছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, আরকার আর্মি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক জান্তা কঠোর অবস্থান নিয়ে অভিযান শুরু করলে, আরকান আর্মি যোদ্ধারা তাদের অবস্থানকে ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাতে আরকান আর্মি যোদ্ধাদের ভয়াবহ আক্রমণে দাঁড়াতে না পেরে মিয়ানমার বিজিপি”র ১৪ সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসে প্রাণ রক্ষা করেছেন।
আরাকান আর্মির যোদ্ধাদের আক্রমণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ১৪ জন সদস্য বান্দরবানে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তুমব্রু ফাঁড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা
এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন – তুমব্রু হিন্দু পাড়ার প্রবীন্দ্র ধর (৬৫) ও কোনারপাড়ার একজন নারী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ৩৪ বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাশরাকী।
তিনি বলেন,  মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ফাঁড়ি দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। এসময় বিজিপির ১৪ জন সদস্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের থেকে অস্ত্র নিয়ে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান,গত রবিবার ভোর রাত থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি ও উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। ঘুনধুমের তুম্ব্রু এলাকার অনেকেই ঘর বাড়ি ও দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, গতকাল শনিবার রাতে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি)  ৩৪ নম্বর রাইট ক্যাম্প দখলে নিতে আরাকান আর্মি হামলা চালায়। এরপর শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই। দুইপক্ষের হাজার হাজার গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের শব্দ শোনা যায়। যুদ্ধের এক পর্যায়ে রাতে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের ১৪ জন সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসে বিজিবির তুমব্রু ফাঁড়িতে আশ্রয় নেয়।
ঘুনধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, শনিবার বিকেলে এবং রাতে সীমান্তের ওপারে রাখাইনের তুমব্রু রাইট পিলার ক্যাম্প এলাকা থেকে এলোপাতাড়ি ফায়ারিং শোনা যায়। সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামবাসীরা ওপারের দুপক্ষের লড়াইয়ে ব্যাপক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন জানিয়েছেন, গত পরশু শনিবার ও গতকাল রবিবার সকাল থেকে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় তীব্র গোলাগুলির শব্দ শুনা যাচ্ছে।
সীমান্তের বিভিন্ন সূত্র বলছে, মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাতে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনীর প্রায় সব ক্যাম্প দখল করে নিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। গত শনিবার রাতে দখল করেছে তুমব্রু ৩৪ নম্বর রাইট ক্যাম্প।
মিয়ানমারে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে সীমান্তের ১০০ গজ দূরত্বে থাকা মিশকাতুন নবী দাখিল মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান বান্দরবান জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মান্নান বলেন, আজ সকাল থেকে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকার অভ্যন্তরে গোলাগুলি বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্ত এলাকার বাইশ ফাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাজা বনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম কুল তুমব্রু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ গুমধুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি।