০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
আফ্রিকান কাপ অব নেশন্স

ফাইনালে আইভরি কোস্ট

বিরল এক দৃশ্য দেখা গেলো আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের সেমিফাইনালে নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে। ৮৫তম মিনিটে ভিক্টর ওসিমেনকে বক্সের মধ্যে বল জড়িয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার জালে। ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে যখন ভাসছিল নাইজেরিয়ান ফুটবলাররা, তখন ভিএআর অ্যালার্ম বেজে ওঠে মিশরীয় রেফারি আমির ওমরের ঘড়িতে।

তিনি মাঠের পাশে থাকা স্ক্রিনে ভিএআর চেক করে এসে উল্টো দক্ষিণ আফ্রিকার অনুকূলে পেনাল্টির ঘোষণা দেন। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে সবাই। যেখানে নাইজেরিয়ার গোল হলো কি হলো না- সে সিদ্ধান্ত দেবেন রেফারি, উল্টো দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পেনাল্টির ঘোষণা দিয়ে বসলেন তিনি!

কীভাবে পেনাল্টি হলো? ভিএআর চেক করতে গিয়ে রেফারি দেখলেন ওসিমেন-এর গোলের ঠিক আগে প্রতি আক্রমণের শুরুতে নাইজেরিয়ার বক্সে ফাউল হয়েছিল একটা। যেটা রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়। কিন্তু ভিএআর বলছে, ওটা পেনাল্টি হওয়ার মতো অপরাধ। রেফারি সেই অপরাধেই পেনাল্টির বাঁশি বাজালেন।

এ নিয়ে প্রায় ৫ মিনিট রেফারির সঙ্গে চলে তর্কযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত ৯০তম মিনিটে গিয়ে স্পট কিক নেন দক্ষিণ আফ্রিকার তেবোহো মোকোয়েনা। খেলা নাটকীয়ভাবে ২-০ থেকে হয়ে গেলো ১-১। ইনজুরি সময়, অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় দুই দল চেষ্টা করেও গোল আদায় করতে পারেননি।

যার ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে নায়কে পরিণত হন নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক স্ট্যানলি ওয়াবালি। দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি স্পট কিক ফিরিয়ে দেন তিনি। যে কারণে, ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে ফাইনালে উঠে গেলো নাইজেরিয়া।

এবারের আগে টানা ছয়বার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল নাইজেরিয়াকে। ২০১৩ সালের পর আর আফ্রিকান কাপ অব নেশন্স জিততে পারেনি তারা। এবার ফাইনালে উঠে স্বাগতিক আইভরি কোস্টের অপেক্ষায় রইলো নাইজেরিয়ানরা। অন্য সেমিফাইনালে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক আইভরি কোস্ট।

নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগে শঙ্কা ছিল ন্যাপোলি তারকা ভিক্টর ওসিমেন খেলতে পারবেন কি না। পরে ফিট ঘোষণা করার পর তার খেলার পথে আর বাধা থাকেনি।

ম্যাচ শুরুর পর দুই দলই সমান শক্তি প্রদর্শন করে। যে কারণে, প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ সত্ত্বেও গোলের দেখা মেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধে নাইজেরিয়ানরা আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে ৬৭ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় তারা।

ভিক্টর ওসিমেন বল পায়ে দারুণভাবে তিন ডিফেন্ডারের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যান। ডি-বক্সে ডিফেন্ডার মোথোবি এমভালা তাকে ফেলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি আমিন ওমর। সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন নাইজেরিয়া অধিনায়ক ট্রোস্ট-একং।

এরপর ৯০ মিনিটে বিতর্কিত ভিএআরের কারণে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ম্যাচের বয়স যখন ১২৫ মিনিট, তখন ফাউল করার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্র্যান্ট কেকানা। এরপর টাইব্রেকারে খেলা গড়ায়। সেখানে স্ট্যানলি ওয়াবালি দুটি শট ঠেকিয়ে নাইজেরিয়াকে ফাইনালে তুলে দেন।

অন্য সেমিফাইনালে স্বাগতিক আইভরি কোস্টের হয়ে ৬৫তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন সেবাস্তিয়েন হালার।

 

 

 

স/ম

 

কাপ্তাইয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু : আহত ২ জন

আফ্রিকান কাপ অব নেশন্স

ফাইনালে আইভরি কোস্ট

আপডেট সময় : ০১:২৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিরল এক দৃশ্য দেখা গেলো আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের সেমিফাইনালে নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে। ৮৫তম মিনিটে ভিক্টর ওসিমেনকে বক্সের মধ্যে বল জড়িয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার জালে। ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে যখন ভাসছিল নাইজেরিয়ান ফুটবলাররা, তখন ভিএআর অ্যালার্ম বেজে ওঠে মিশরীয় রেফারি আমির ওমরের ঘড়িতে।

তিনি মাঠের পাশে থাকা স্ক্রিনে ভিএআর চেক করে এসে উল্টো দক্ষিণ আফ্রিকার অনুকূলে পেনাল্টির ঘোষণা দেন। অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে সবাই। যেখানে নাইজেরিয়ার গোল হলো কি হলো না- সে সিদ্ধান্ত দেবেন রেফারি, উল্টো দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পেনাল্টির ঘোষণা দিয়ে বসলেন তিনি!

কীভাবে পেনাল্টি হলো? ভিএআর চেক করতে গিয়ে রেফারি দেখলেন ওসিমেন-এর গোলের ঠিক আগে প্রতি আক্রমণের শুরুতে নাইজেরিয়ার বক্সে ফাউল হয়েছিল একটা। যেটা রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়। কিন্তু ভিএআর বলছে, ওটা পেনাল্টি হওয়ার মতো অপরাধ। রেফারি সেই অপরাধেই পেনাল্টির বাঁশি বাজালেন।

এ নিয়ে প্রায় ৫ মিনিট রেফারির সঙ্গে চলে তর্কযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত ৯০তম মিনিটে গিয়ে স্পট কিক নেন দক্ষিণ আফ্রিকার তেবোহো মোকোয়েনা। খেলা নাটকীয়ভাবে ২-০ থেকে হয়ে গেলো ১-১। ইনজুরি সময়, অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় দুই দল চেষ্টা করেও গোল আদায় করতে পারেননি।

যার ফলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে নায়কে পরিণত হন নাইজেরিয়ার গোলরক্ষক স্ট্যানলি ওয়াবালি। দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি স্পট কিক ফিরিয়ে দেন তিনি। যে কারণে, ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে ফাইনালে উঠে গেলো নাইজেরিয়া।

এবারের আগে টানা ছয়বার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল নাইজেরিয়াকে। ২০১৩ সালের পর আর আফ্রিকান কাপ অব নেশন্স জিততে পারেনি তারা। এবার ফাইনালে উঠে স্বাগতিক আইভরি কোস্টের অপেক্ষায় রইলো নাইজেরিয়ানরা। অন্য সেমিফাইনালে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক আইভরি কোস্ট।

নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগে শঙ্কা ছিল ন্যাপোলি তারকা ভিক্টর ওসিমেন খেলতে পারবেন কি না। পরে ফিট ঘোষণা করার পর তার খেলার পথে আর বাধা থাকেনি।

ম্যাচ শুরুর পর দুই দলই সমান শক্তি প্রদর্শন করে। যে কারণে, প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ সত্ত্বেও গোলের দেখা মেলেনি। দ্বিতীয়ার্ধে নাইজেরিয়ানরা আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে ৬৭ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় তারা।

ভিক্টর ওসিমেন বল পায়ে দারুণভাবে তিন ডিফেন্ডারের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যান। ডি-বক্সে ডিফেন্ডার মোথোবি এমভালা তাকে ফেলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি আমিন ওমর। সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন নাইজেরিয়া অধিনায়ক ট্রোস্ট-একং।

এরপর ৯০ মিনিটে বিতর্কিত ভিএআরের কারণে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ম্যাচের বয়স যখন ১২৫ মিনিট, তখন ফাউল করার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্র্যান্ট কেকানা। এরপর টাইব্রেকারে খেলা গড়ায়। সেখানে স্ট্যানলি ওয়াবালি দুটি শট ঠেকিয়ে নাইজেরিয়াকে ফাইনালে তুলে দেন।

অন্য সেমিফাইনালে স্বাগতিক আইভরি কোস্টের হয়ে ৬৫তম মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন সেবাস্তিয়েন হালার।

 

 

 

স/ম