০৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সংবাদ সম্মেলন

 

➢আইন অমান্যের সংস্কৃতি থেকে সমাজকে মুক্ত করার আহ্বান

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেছেন, ক্রমাগত যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিস্তারে নারী লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, তাদের মর্যাদা লঙ্ঘিত হচ্ছে। নারীর প্রতি যৌন নির্যাতনসহ সব ধরনের নির্যাতন একটি ফৌজদারি অপরাধ’- এটি কেবল নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়। এ ধরনের অপরাধে বিচার প্রক্রিয়া বলবৎ করতে হবে; আইন অমান্য করার সংস্কৃতি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হবে; অভিযোগ কমিটির কার্যকারিতা তরান্বিত করাসহ এই কমিটির কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে, এর সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দায়বদ্ধতার ভূমিকা পালন করতে হবে এবং অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নারীর ব্যক্তি অধিকারকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাম্প্রতিক সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত যৌন-নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ-সম্মেলনে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন একশন এইডের মরিয়ম নেসা। বক্তব্য রাখেন কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য শিরিন আখতার, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী এবং বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নারীর প্রতি বিদ্বেষের সংস্কৃৃতি, ঘৃণার সংস্কৃতির বিস্তার ঘটে চলেছে সর্বস্তরে। এটি অত্যন্ত আশংকার বিষয়। গভীর উদ্বিগ্নতার সাথে লক্ষ করা যাচ্ছে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অহরহ যৌন হয়রানি, যৌন উত্ত্যক্তকরণের মতো লজ্জাজনক, চরম নীতিহীনতার ঘটনা ঘটছে, সমাজের চলমান নিরবতার সংস্কৃতি চালু থাকার কারণে জনসমক্ষে আসলেও অনেক ঘটনাই চাপা পড়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে, নানা ধরনের অন্যায় আচরণের কারণে, হুমকি-ভয়-ভীতির কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ছেন। প্রচন্ড মানসিক চাপ আর অসহায়ত্বের কারণে আত্মহননের দিকে যেতে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো যৌন হয়রানি প্রতিরোধের অভিযোগ কমিটি গঠিত হয়নি, কোথাও কোথাও কমিটি গঠিত হলেও সেসব কমিটি সক্রিয় নয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং অভিযোগ কমিটি সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের অনেকেই অবহিত নন, সচেতন নন। এই পরিস্থিতিতে নারীর প্রতি সামাজিক বিদ্বেষ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ এবং এসব ঘটনার প্রতিকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম, মানবাধিকার কর্মীসহ সকলের সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকটি সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য শিরিন আখতার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা পালন অনেক বেশি প্রয়োজন। যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধ করতে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকার, প্রশাসন ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে, পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে এবং অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কিছু দুষ্কৃতিকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে; শিক্ষক নিয়োগের সময় ও তাদের কাজের মূল্যায়নের সময় আচার-আচারণের বিষয়টি মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি যৌন নিপীড়নের শিকার ভিকটিমের অভিযোগ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ও তাদের কাউন্সেলিং সেবা দানের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলমান নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে হাইকোর্ট প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়কে ঘটনাগুলোর মনিটরিং করা সহ প্রতিষ্ঠানে থাকা যৌন নিপীড়ন কমিটির তৎপরতা বৃদ্ধি, ৫-৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন, দুইমাস পরপর কমিটির পরিবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করেন, তিনি এসময় বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে অভিযোগকারীর অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি সহ প্রতিটি ঘটনার দৃশ্যমান বিচার দেখতে চাই- এমন জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলন স ালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী।

জনপ্রিয় সংবাদ

পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তি বাস্তবায়ন নেই, মানবাধিকার পরিস্থিতি অবনতি: জেএসএস

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৭:১৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০২৪

 

➢আইন অমান্যের সংস্কৃতি থেকে সমাজকে মুক্ত করার আহ্বান

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেছেন, ক্রমাগত যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিস্তারে নারী লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, তাদের মর্যাদা লঙ্ঘিত হচ্ছে। নারীর প্রতি যৌন নির্যাতনসহ সব ধরনের নির্যাতন একটি ফৌজদারি অপরাধ’- এটি কেবল নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়। এ ধরনের অপরাধে বিচার প্রক্রিয়া বলবৎ করতে হবে; আইন অমান্য করার সংস্কৃতি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হবে; অভিযোগ কমিটির কার্যকারিতা তরান্বিত করাসহ এই কমিটির কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে, এর সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দায়বদ্ধতার ভূমিকা পালন করতে হবে এবং অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নারীর ব্যক্তি অধিকারকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাম্প্রতিক সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত যৌন-নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সংবাদ-সম্মেলনে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন একশন এইডের মরিয়ম নেসা। বক্তব্য রাখেন কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য শিরিন আখতার, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী এবং বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নারীর প্রতি বিদ্বেষের সংস্কৃৃতি, ঘৃণার সংস্কৃতির বিস্তার ঘটে চলেছে সর্বস্তরে। এটি অত্যন্ত আশংকার বিষয়। গভীর উদ্বিগ্নতার সাথে লক্ষ করা যাচ্ছে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অহরহ যৌন হয়রানি, যৌন উত্ত্যক্তকরণের মতো লজ্জাজনক, চরম নীতিহীনতার ঘটনা ঘটছে, সমাজের চলমান নিরবতার সংস্কৃতি চালু থাকার কারণে জনসমক্ষে আসলেও অনেক ঘটনাই চাপা পড়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে, নানা ধরনের অন্যায় আচরণের কারণে, হুমকি-ভয়-ভীতির কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা থেকে ঝড়ে পড়ছেন। প্রচন্ড মানসিক চাপ আর অসহায়ত্বের কারণে আত্মহননের দিকে যেতে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো যৌন হয়রানি প্রতিরোধের অভিযোগ কমিটি গঠিত হয়নি, কোথাও কোথাও কমিটি গঠিত হলেও সেসব কমিটি সক্রিয় নয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা এবং অভিযোগ কমিটি সম্পর্কে শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের অনেকেই অবহিত নন, সচেতন নন। এই পরিস্থিতিতে নারীর প্রতি সামাজিক বিদ্বেষ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধ এবং এসব ঘটনার প্রতিকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম, মানবাধিকার কর্মীসহ সকলের সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকটি সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।

কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য শিরিন আখতার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীর প্রতি যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা পালন অনেক বেশি প্রয়োজন। যৌন নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধ করতে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকার, প্রশাসন ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে, পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে এবং অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের পরিচালক শাহনাজ সুমী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কিছু দুষ্কৃতিকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে; শিক্ষক নিয়োগের সময় ও তাদের কাজের মূল্যায়নের সময় আচার-আচারণের বিষয়টি মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি যৌন নিপীড়নের শিকার ভিকটিমের অভিযোগ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ও তাদের কাউন্সেলিং সেবা দানের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলমান নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে হাইকোর্ট প্রণীত নীতিমালা অনুযায়ী মন্ত্রণালয়কে ঘটনাগুলোর মনিটরিং করা সহ প্রতিষ্ঠানে থাকা যৌন নিপীড়ন কমিটির তৎপরতা বৃদ্ধি, ৫-৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন, দুইমাস পরপর কমিটির পরিবর্তনের উপর গুরুত্বারোপ করেন, তিনি এসময় বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে অভিযোগকারীর অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি সহ প্রতিটি ঘটনার দৃশ্যমান বিচার দেখতে চাই- এমন জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলন স ালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী।