০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিত্যক্ত ভবন কারা ভেঙ্গছে জানে না কেউ

জামালপুরে বন্ধের দিনে উধাও হয়ে গেছে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত ভবন। কে বা কারা এই ভবন ভেঙ্গে নিয়ে গেছে তা জানে না কেউই। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খানের নির্দেশে ভাঙ্গা হয়েছে এই ভবন।

জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীত পাশে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের অবস্থান। এমন একটি জনবহুল জায়গা থেকে শুক্রবার দুপুরে উধাও হয়ে গেছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিত্যক্ত একটি ভবন। আর কে এই ভবন ভেঙ্গেছে তা জানে না স্বাস্থ্য বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শত বছর বয়সী ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের এই ভবন ব্যবহৃত হতো দাতব্য চিকিৎসালয় হিসেবে। আর ভবনটিতে ছিলো তিনটি কক্ষ।

রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান গেইটের পরে হাতের বাম ও ডান পাশে পড়ে রয়েছে কিছু ইটসহ ভবনের ভাঙ্গা কিছু অংশ। এছাড়াও কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রাঙ্গনে দেখা গেছে সেই ভবনের কিছু রড ও একটি ভেকু গাড়ি। কে বা কারা কি কারনে এই ভবন ভেঙ্গেছে এমন প্রশ্নের উত্তর নেই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মচারীদের কাছে।

তবে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রিপন রায় বলেন,‘আমরা বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে চলে যায়। এরপর শনিবার আবারো অফিসে আসলে দেখি যে পরিত্যক্ত ভবনটি কে বা কারা ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। পরে আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই ও জামালপুর সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করি।’

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে বসবাসকারী খালেদা বেগম বলেন-‘আমরা হাসপাতালের পাশে থাকি। শুক্রবার চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খানের লোকজন এসে বেলা ১১ টার দিকে ভবন ভাঙ্গা শুরু করে। রাত একটা পর্যন্ত ভবন ভাঙ্গার কাজ চলে। আমার ছেলে জিজ্ঞেস করতে গেছে। আমার ছেলেকে আরো মারধর করতে আসছিলো তারা।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহিন বলেন-‘চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খানের নির্দেশে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী সাজু বুলডুজার ও ভেকু দিয়ে ভবনটি ভাঙ্গার কাজ করে। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলেও তারা তা দেখায়নি।’

ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে কেন্দুয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, ‘এই ভবনটি ভাঙ্গাতে আমরা সবাই খুশি। পরিত্যক্ত ভবন ছিলো। শুক্রবার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এটি ভাঙ্গা হয়। চেয়ারম্যান সাহেবের নির্দেশে লোকজন এসে এসব ভাঙ্গা চূড়া করে।’

এবিষয়ে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ  সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই ভবনটি এই এলাকার মাদক ব্যবসার একটি কারখানা ছিলো। এই ভবনটি সড়ানোর জন্য আমি স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসনসহ সদর এমপি মহোদয়কে কয়েকবার অবগত করেছিলাম। কে এই ভবন ভেঙ্গেছে তা আমরা জানি না। ভবন ভাঙ্গার পর আমি ভবনের ভাঙ্গা চূড়ার অবশিষ্ট অংশটুকুর নিরাপত্তার জন্য বাজারের নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করেছি। আমার পরিষদের সামনে হলেও আমি জানি না কে ভেঙ্গেছে। ’

জামালপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার সরকার বলেন-‘রোববার দুপুরের দিকে আমি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। আর এই বিষয়ে জামালপুর সদর থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে। আর ভবনের যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, সেটুকুর জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’

এসব বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন-‘স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিষয়ে একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিত্যক্ত ভবন কারা ভেঙ্গছে জানে না কেউ

আপডেট সময় : ০৬:০২:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪

জামালপুরে বন্ধের দিনে উধাও হয়ে গেছে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের একটি পরিত্যক্ত ভবন। কে বা কারা এই ভবন ভেঙ্গে নিয়ে গেছে তা জানে না কেউই। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খানের নির্দেশে ভাঙ্গা হয়েছে এই ভবন।

জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীত পাশে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের অবস্থান। এমন একটি জনবহুল জায়গা থেকে শুক্রবার দুপুরে উধাও হয়ে গেছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিত্যক্ত একটি ভবন। আর কে এই ভবন ভেঙ্গেছে তা জানে না স্বাস্থ্য বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মচারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শত বছর বয়সী ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের এই ভবন ব্যবহৃত হতো দাতব্য চিকিৎসালয় হিসেবে। আর ভবনটিতে ছিলো তিনটি কক্ষ।

রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান গেইটের পরে হাতের বাম ও ডান পাশে পড়ে রয়েছে কিছু ইটসহ ভবনের ভাঙ্গা কিছু অংশ। এছাড়াও কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রাঙ্গনে দেখা গেছে সেই ভবনের কিছু রড ও একটি ভেকু গাড়ি। কে বা কারা কি কারনে এই ভবন ভেঙ্গেছে এমন প্রশ্নের উত্তর নেই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মচারীদের কাছে।

তবে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডাঃ রিপন রায় বলেন,‘আমরা বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে চলে যায়। এরপর শনিবার আবারো অফিসে আসলে দেখি যে পরিত্যক্ত ভবনটি কে বা কারা ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। পরে আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই ও জামালপুর সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করি।’

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে বসবাসকারী খালেদা বেগম বলেন-‘আমরা হাসপাতালের পাশে থাকি। শুক্রবার চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খানের লোকজন এসে বেলা ১১ টার দিকে ভবন ভাঙ্গা শুরু করে। রাত একটা পর্যন্ত ভবন ভাঙ্গার কাজ চলে। আমার ছেলে জিজ্ঞেস করতে গেছে। আমার ছেলেকে আরো মারধর করতে আসছিলো তারা।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহিন বলেন-‘চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খানের নির্দেশে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী সাজু বুলডুজার ও ভেকু দিয়ে ভবনটি ভাঙ্গার কাজ করে। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলেও তারা তা দেখায়নি।’

ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে কেন্দুয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, ‘এই ভবনটি ভাঙ্গাতে আমরা সবাই খুশি। পরিত্যক্ত ভবন ছিলো। শুক্রবার স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এটি ভাঙ্গা হয়। চেয়ারম্যান সাহেবের নির্দেশে লোকজন এসে এসব ভাঙ্গা চূড়া করে।’

এবিষয়ে কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ  সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই ভবনটি এই এলাকার মাদক ব্যবসার একটি কারখানা ছিলো। এই ভবনটি সড়ানোর জন্য আমি স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসনসহ সদর এমপি মহোদয়কে কয়েকবার অবগত করেছিলাম। কে এই ভবন ভেঙ্গেছে তা আমরা জানি না। ভবন ভাঙ্গার পর আমি ভবনের ভাঙ্গা চূড়ার অবশিষ্ট অংশটুকুর নিরাপত্তার জন্য বাজারের নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করেছি। আমার পরিষদের সামনে হলেও আমি জানি না কে ভেঙ্গেছে। ’

জামালপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার সরকার বলেন-‘রোববার দুপুরের দিকে আমি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। আর এই বিষয়ে জামালপুর সদর থানায় সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে। আর ভবনের যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, সেটুকুর জন্য আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’

এসব বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন-‘স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিষয়ে একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’