০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রীপুর-গাজীয়ারন-পেলাইদ সড়কের দ্রুত সংষ্কারের দাবী গ্রামবাসীর

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর-গাজীয়ারন-পেলাইদ নদীর ঘাট পর্যন্ত শতবর্ষী রাস্তাটি দ্রুত সময়ে সংস্কারের  দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এতে গোসিঙ্গা ও বরমী ইউনিয়নের কমপক্ষে ৭টি গ্রামের মানুষ সুফল ভোগ করবে। রাস্তাটির সংষ্কার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গাজিয়ারন গ্রামের পারভেজ, হাসান, পলাশ মিয়া জানান, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এ রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করেছে। আমরাও চলাফেরা করছি।
হাজারো দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গাজিয়ারন, নতুন পটকা, পেলাইদ, পাঁচুলটিয়া, তাঁতীসুতাসহ সাতটি গ্রামের মানুষ কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাফেরা করেছে।আগে ইট বিছানো রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর সংষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখন চলছে ঢিমেতালে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের তত্ত¡াবধানে রাস্তাটি কার্পেটিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুই মাসের বেশি সময় যাবত সংষ্কারকাজ করা হলেও বর্তমানে সকল প্রকার কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে সাত গ্রামের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।পেলাইদ গ্রামের কলেজ পড়–য়া সজীব হাসান জানায়, বর্ষাকালে কাঁধে ব্যাগ ও হাতে জুতা নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সড়কটির কিছু অংশ ইট বিছানো বাকি পথ কাদামাটির। আমার মতো সাত গ্রামের কমপক্ষে ৫’শ শিক্ষার্থী এমন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে যাতায়াত করে থাকে।
পেলাইদ গ্রামের কৃষক অমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার সকল কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে সমস্যা হয়। এ যুগেও উপজেলা শহরের অতি নিকটে থেকেও কাদামাটির পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। এ অবস্থার উত্তরণ না ঘটলে সরকারের কাঙ্খিত সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে আমরা একত্রিত হতে বাধাগ্রস্ত হতে হবে।স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগসুত্রে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি শ্রীপুর-গাজীয়ারন-পেলাইদ নদীর ঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে দরপত্র আহবান করা হয়। যথারীতি ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটির ওপর ইতোমধ্যে ৯টি কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, বন বিভাগ রাস্তাটির উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। যোগাযোগ ব্যভস্থা যেখানে অচল সেখানে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে দাবী করে তারা বলে, সকল উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। শতবর্ষী রাস্তাটির উন্নয়নের স্থানীয় বন বিভাগের বাধা প্রদানের বিষয়টি আমাদের মর্মাহত করেছে। আমরা উপজেলা পর্যায়ের সরকারি নীতি নীর্ধারনী মহলের দ্বারস্থ হয়েছি।
প্রয়োজনে মানব প্রাচীর তৈরী করে আমাদের দুর্ভোগের কথা আমরা দেশবাসীকে জানাবো। স্থানীয় বন বিভাগসুত্রে জানা গেছে, রাস্তাটি বন বিভাগের জায়গার ওপর দিয়ে করা হচ্ছে। তাই বন বিভাগের আপত্তি রয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামসুল আলম প্রধান ও নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) শোভন রাংসা গনমাধ্যমকর্মীদের জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে যাতায়াত সমস্যা ও সংস্কার কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্রীপুর-গাজীয়ারন-পেলাইদ সড়কের দ্রুত সংষ্কারের দাবী গ্রামবাসীর

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর-গাজীয়ারন-পেলাইদ নদীর ঘাট পর্যন্ত শতবর্ষী রাস্তাটি দ্রুত সময়ে সংস্কারের  দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এতে গোসিঙ্গা ও বরমী ইউনিয়নের কমপক্ষে ৭টি গ্রামের মানুষ সুফল ভোগ করবে। রাস্তাটির সংষ্কার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গাজিয়ারন গ্রামের পারভেজ, হাসান, পলাশ মিয়া জানান, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এ রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করেছে। আমরাও চলাফেরা করছি।
হাজারো দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গাজিয়ারন, নতুন পটকা, পেলাইদ, পাঁচুলটিয়া, তাঁতীসুতাসহ সাতটি গ্রামের মানুষ কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাফেরা করেছে।আগে ইট বিছানো রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর সংষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখন চলছে ঢিমেতালে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের তত্ত¡াবধানে রাস্তাটি কার্পেটিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুই মাসের বেশি সময় যাবত সংষ্কারকাজ করা হলেও বর্তমানে সকল প্রকার কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে সাত গ্রামের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।পেলাইদ গ্রামের কলেজ পড়–য়া সজীব হাসান জানায়, বর্ষাকালে কাঁধে ব্যাগ ও হাতে জুতা নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সড়কটির কিছু অংশ ইট বিছানো বাকি পথ কাদামাটির। আমার মতো সাত গ্রামের কমপক্ষে ৫’শ শিক্ষার্থী এমন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে যাতায়াত করে থাকে।
পেলাইদ গ্রামের কৃষক অমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার সকল কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে সমস্যা হয়। এ যুগেও উপজেলা শহরের অতি নিকটে থেকেও কাদামাটির পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। এ অবস্থার উত্তরণ না ঘটলে সরকারের কাঙ্খিত সামগ্রিক উন্নয়নের সাথে আমরা একত্রিত হতে বাধাগ্রস্ত হতে হবে।স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগসুত্রে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি শ্রীপুর-গাজীয়ারন-পেলাইদ নদীর ঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য সরকারিভাবে দরপত্র আহবান করা হয়। যথারীতি ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। রাস্তাটির ওপর ইতোমধ্যে ৯টি কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, বন বিভাগ রাস্তাটির উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। যোগাযোগ ব্যভস্থা যেখানে অচল সেখানে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে দাবী করে তারা বলে, সকল উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। শতবর্ষী রাস্তাটির উন্নয়নের স্থানীয় বন বিভাগের বাধা প্রদানের বিষয়টি আমাদের মর্মাহত করেছে। আমরা উপজেলা পর্যায়ের সরকারি নীতি নীর্ধারনী মহলের দ্বারস্থ হয়েছি।
প্রয়োজনে মানব প্রাচীর তৈরী করে আমাদের দুর্ভোগের কথা আমরা দেশবাসীকে জানাবো। স্থানীয় বন বিভাগসুত্রে জানা গেছে, রাস্তাটি বন বিভাগের জায়গার ওপর দিয়ে করা হচ্ছে। তাই বন বিভাগের আপত্তি রয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শামসুল আলম প্রধান ও নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) শোভন রাংসা গনমাধ্যমকর্মীদের জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে যাতায়াত সমস্যা ও সংস্কার কাজ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।