০৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় আলু হিমাগারে মজুদ করায় স্থানীয় আলুতে পচন দিশেহারা চাষিরা

ভারত থেকে আমদানিকৃত আলু বাজারজাত না করে আমদানিকারকরা স্টোরে মজুদ করায় রাজশাহীর বিভিন্ন হিমাগারে মজুদকৃত আলুতে পচন ও গাছ গজিয়েছে। এর প্রভাবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনকৃত আলুতে পচন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন হিমাগারে মজুদকৃত চাষিরা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মজুদকৃত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ভারত থেকে আমদানি করা আলু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মজুদ করার কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ব্যপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়রা।

জেলার তানোর পৌর এলাকার কালিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত তামান্না হিমাগারে দেখা যায়, ভারত থেকে আমদানি করা আলুতে পচন ও গাছ গজিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় চাষীদের আলুতেও এ পচন ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ আমদানিকৃত আলু বাজারজাত না করে আমদানিকারকরা স্টোরে মজুদ করে রেখেছে। কিন্তু আলুতে পচন ধরায় স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা আলুও নষ্ট হতে বসেছে। আমদানি করা আলু রাতের আঁধারে হিমাগারে ঢুকানো ও বাহির করার কারণে গ্যাস সংকট হচ্ছে।

একারণেই আলুতে পচন ধরেছে এবং গাছ গজাচ্ছে বলে ধারণা কৃষকদের। ফলে হিমাগার কর্তৃপক্ষের এমন কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতশত কৃষকরা। কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছেন কৃষকরা।
কৃষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে হিমাগারে গিয়ে দেখা যায়, আলু রাখা সেটে বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে আলু রাখা একাধিক ব্যক্তি বলেন, আলুতে ট্যাক বা গাছ গজানো দেখতে হলে সকালের দিকে আসতে হত। আলু সেটে ঢালার পর প্রায় আলুতেই এক ইি থেকে দেড় ইি করে গাছ গজিয়েছে। প্রায় আলুর গাছ পরিস্কার করা হয়েছে। এজন্য এখন কম দেখা যাচ্ছে।
গাছ গজানো আলু বিক্রি করা কষ্টকর এবং বাজার দামও কম হবে। কী কারণে গাজ গজিয়েছে জানতে চাইলে তারা জানান, ভারত থেকে আমদানি করা আলু হিমাগারে রাখা এবং বাহির কারণে ঠিকমত গ্যাস স ালন হচ্ছে না। তারা আমদানি করা আলুতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক লাভের কারণে সাধারণ কৃষকের আলুর এই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন।

তালন্দ ইউনিয়ন ইউনিয়নের এক বলেন, হিমাগার কর্তৃপক্ষই আলু নিয়ে মহা সিন্ডিকেট করে থাকেন প্রতিনিয়তই। আলু বিক্রি করার জন্য সকালের দিকে সেটে ফেলার পর প্রতিটি আলুতে গাছ গজিয়েছে। দেখে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে পড়েছে।
আলু ভালো থাকার জন্য হিমাগারে রাখা হয় অথচ ভালো থাকার পরিবর্তে গাছ গজাচ্ছে। ইদুল ফিতরের পর ও গত সপ্তাহের দিকে ভারত থেকে আমদানি করা আলু হিমাগারে রাখার কারণে আলুতে গাছ গজিয়েছে। তিনি আরো জানান, তামান্না ক্লোড স্টোরেজে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বস্তা ভারতীয় আলু রাখা আছে এবং নগরীর বায়ার হিমালয় ও রাজেও রাখা আছে ভারতীয় আলু।
তামান্না ক্লোডস্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুল মান্নান এ কোনো কথা বলতে চাননি। তার পাশে থাকা আরেক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারের বিষয়ে কিছু জানতে হলে তামান্নার হেড অফিসে চলে যেতে হবে।

কালিগঞ্জ এলাকার এক কৃষক জানান, সকালের দিকে শুনতে পেয়েছি হিমাগারে রাখা আলুতে গাছ গজিয়েছে, আলু বিক্রি করব। কিন্তু গাছ গজালেতো দাম কম হবে। হিমাগারগুলো সিন্ডিকেট শুরু করেছে। তানোর পৌর এলাকার এক কৃষক মোবাই ফোনে জানান, আলু বিক্রি করার জন্য সকালের দিকে তামান্না হিমাগারে যায়। গিয়ে দেখি যে সব আলু বের করে সেটে ঢেলেছে প্রায় আলুতে গাছ গজিয়েছে। গাছ গজানো আলু বাজার দর থেকে কম। আমি বীজের আলুও রেখেছি, সে সবেও গাছ গজিয়েছে।

বেশকিছু প্রান্তিক আলু চাষী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে সব আলু গাছ গজিয়েছে ওই সব আলু সেটে ঢালার পর বাছাই করে বিক্রি করতে হবে। এজন্য গুনতে হবে বাড়তি টাকা।
সূত্র জানায়, আলুর বাজার লাগামহীন হওয়ার কারণে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভারত থেকে আলু আমদানি করেছে সরকার । কিন্তু তামান্না হিমাগারের ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার অস্থির করার কারণে ভারতীয় আলু মজুদ করেছে বলে মনে করছেন প্রান্তিক আলু চাষীরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, আমরা তামান্না হিমাগার কে একাধিক বার সতর্ক করেছি। কিন্তু আমাদের তো অভিযান দেয়ার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে জয় কানাডা-ওমান ও নামিবিয়ার

ভারতীয় আলু হিমাগারে মজুদ করায় স্থানীয় আলুতে পচন দিশেহারা চাষিরা

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪

ভারত থেকে আমদানিকৃত আলু বাজারজাত না করে আমদানিকারকরা স্টোরে মজুদ করায় রাজশাহীর বিভিন্ন হিমাগারে মজুদকৃত আলুতে পচন ও গাছ গজিয়েছে। এর প্রভাবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনকৃত আলুতে পচন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন হিমাগারে মজুদকৃত চাষিরা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মজুদকৃত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ভারত থেকে আমদানি করা আলু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মজুদ করার কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ব্যপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়রা।

জেলার তানোর পৌর এলাকার কালিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত তামান্না হিমাগারে দেখা যায়, ভারত থেকে আমদানি করা আলুতে পচন ও গাছ গজিয়েছে। এর ফলে স্থানীয় চাষীদের আলুতেও এ পচন ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ আমদানিকৃত আলু বাজারজাত না করে আমদানিকারকরা স্টোরে মজুদ করে রেখেছে। কিন্তু আলুতে পচন ধরায় স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা আলুও নষ্ট হতে বসেছে। আমদানি করা আলু রাতের আঁধারে হিমাগারে ঢুকানো ও বাহির করার কারণে গ্যাস সংকট হচ্ছে।

একারণেই আলুতে পচন ধরেছে এবং গাছ গজাচ্ছে বলে ধারণা কৃষকদের। ফলে হিমাগার কর্তৃপক্ষের এমন কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতশত কৃষকরা। কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছেন কৃষকরা।
কৃষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে হিমাগারে গিয়ে দেখা যায়, আলু রাখা সেটে বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে আলু রাখা একাধিক ব্যক্তি বলেন, আলুতে ট্যাক বা গাছ গজানো দেখতে হলে সকালের দিকে আসতে হত। আলু সেটে ঢালার পর প্রায় আলুতেই এক ইি থেকে দেড় ইি করে গাছ গজিয়েছে। প্রায় আলুর গাছ পরিস্কার করা হয়েছে। এজন্য এখন কম দেখা যাচ্ছে।
গাছ গজানো আলু বিক্রি করা কষ্টকর এবং বাজার দামও কম হবে। কী কারণে গাজ গজিয়েছে জানতে চাইলে তারা জানান, ভারত থেকে আমদানি করা আলু হিমাগারে রাখা এবং বাহির কারণে ঠিকমত গ্যাস স ালন হচ্ছে না। তারা আমদানি করা আলুতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিক লাভের কারণে সাধারণ কৃষকের আলুর এই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন।

তালন্দ ইউনিয়ন ইউনিয়নের এক বলেন, হিমাগার কর্তৃপক্ষই আলু নিয়ে মহা সিন্ডিকেট করে থাকেন প্রতিনিয়তই। আলু বিক্রি করার জন্য সকালের দিকে সেটে ফেলার পর প্রতিটি আলুতে গাছ গজিয়েছে। দেখে চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে পড়েছে।
আলু ভালো থাকার জন্য হিমাগারে রাখা হয় অথচ ভালো থাকার পরিবর্তে গাছ গজাচ্ছে। ইদুল ফিতরের পর ও গত সপ্তাহের দিকে ভারত থেকে আমদানি করা আলু হিমাগারে রাখার কারণে আলুতে গাছ গজিয়েছে। তিনি আরো জানান, তামান্না ক্লোড স্টোরেজে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বস্তা ভারতীয় আলু রাখা আছে এবং নগরীর বায়ার হিমালয় ও রাজেও রাখা আছে ভারতীয় আলু।
তামান্না ক্লোডস্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুল মান্নান এ কোনো কথা বলতে চাননি। তার পাশে থাকা আরেক ব্যক্তি বলেন, হিমাগারের বিষয়ে কিছু জানতে হলে তামান্নার হেড অফিসে চলে যেতে হবে।

কালিগঞ্জ এলাকার এক কৃষক জানান, সকালের দিকে শুনতে পেয়েছি হিমাগারে রাখা আলুতে গাছ গজিয়েছে, আলু বিক্রি করব। কিন্তু গাছ গজালেতো দাম কম হবে। হিমাগারগুলো সিন্ডিকেট শুরু করেছে। তানোর পৌর এলাকার এক কৃষক মোবাই ফোনে জানান, আলু বিক্রি করার জন্য সকালের দিকে তামান্না হিমাগারে যায়। গিয়ে দেখি যে সব আলু বের করে সেটে ঢেলেছে প্রায় আলুতে গাছ গজিয়েছে। গাছ গজানো আলু বাজার দর থেকে কম। আমি বীজের আলুও রেখেছি, সে সবেও গাছ গজিয়েছে।

বেশকিছু প্রান্তিক আলু চাষী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে সব আলু গাছ গজিয়েছে ওই সব আলু সেটে ঢালার পর বাছাই করে বিক্রি করতে হবে। এজন্য গুনতে হবে বাড়তি টাকা।
সূত্র জানায়, আলুর বাজার লাগামহীন হওয়ার কারণে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ভারত থেকে আলু আমদানি করেছে সরকার । কিন্তু তামান্না হিমাগারের ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার অস্থির করার কারণে ভারতীয় আলু মজুদ করেছে বলে মনে করছেন প্রান্তিক আলু চাষীরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, আমরা তামান্না হিমাগার কে একাধিক বার সতর্ক করেছি। কিন্তু আমাদের তো অভিযান দেয়ার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।