০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইজিবাইক হারিয়ে দিশেহারা কামালের মূখে আবার ফিরে এলো হাসি

জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে গত দেড় মাস পূর্বে চুরি হয় কামাল শেখের ইজিবাইক। এরপর থেকে কামাল দিশেহারা এবং খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছিলেন। এনজিও’র ঋণে কেনা ইজিবাইকের কিস্তির জন্য চাপ দিতে থাকলে কামাল প্রায় পাগলের মত হয়ে যায়।

জানা যায়, এবিষয়টি নিয়ে কামাল শেখ  জামালপুরের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিমের কাছে আসলে জামালপুর পৌরসভার মেয়র মহোদয়ের কাছে একটি ইজিবাইক কিনে দিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানানো হয়।

শনিবার (৪ এপ্রিল) মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু একটি ইজিবাইক ক্রয় করে পৌরসভা প্রাঙ্গণে নিজ হাতে গাড়ীর চাবি এবং ৬৬ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, এনজিও কর্মী আরজু মিয়া, কামাল শেখের স্ত্রীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সাংবাদিকবৃন্দ।

 

জামালপুরের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছিল কামাল। আমার কাছে আসলে আমি বিষয়টি মেয়র মহোদয়কে বলি এবং সমাজের বিত্তশালীদের কাছ সহযোগিতা কামনা করলে মেয়র একটি ইজিবাইক কিনে দেয় এবং ভাঙ্গাচুরা ঘর মেরামত করা জন্য ৬৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেই।

কামাল শেখ গাড়ী পেয়ে আবেগে আপ্লূত হয়ে বলেন, আমি কখনো ভাবিনি যে আমি আবার দাঁড়াতে পারবো। স্ত্রী-সন্তানাদি নিয়ে এত কষ্টে জীবন-যাপন করছিলাম যে বলে বুঝাতে পারবো না। মেয়র সাহেব এবং জাহাঙ্গীর সেলিম ভাইয়ের সহযোগিতায় আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখতেছি।

ইজিবাইকের চাবি হস্তান্তরের সময় মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু বলেন, আমি মেয়র হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য। আমার কাছে মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম ভাই কামালের বিষয়টি জানালে আমি তাৎক্ষণিক তাকে কথা দেই আমি একটি ইজিবাইক কিনে দিবো। আমার কাছে ভাল লাগছে এরকম একটি মানবিক কাজ করতে পেরে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে একটি চক্রের কয়েকজন তাঁর ইজিবাইকে ওঠেন। তারপর সদর উপজেলা পরিষদের সামনে এসে চক্রটি একজন পুলিশ সদস্যের বাসা থেকে কার্টন আনতে হবে বলে কামালকে নিয়ে রওনা হন। কিছুদূর গিয়ে সঙ্গে থাকা লোকটি উধাও হয়ে যান। এরমধ্যে অন্য সদস্যরা ইজিবাইক নিয়ে উধাও হয়ে যান। ইজিবাইকটি আর পাননি তিনি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক ক্রয় করে কামাল প্রতিদিন কিস্তি দিতেন। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এনজিও থেকে চাপ দিতে থাকে কিস্তির জন্য।

কামাল শহরের পাথালিয়া গুয়াবাড়িয়া এলাকায় এক ছেলে নিয়ে বসবাস করেন। দুই মেয়ের পূর্বেই বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছেলেটি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। কামাল ও তাঁর স্ত্রী ময়না বেগম একটি টিনের ভাঙাচোরা ছাপরার নিচে বসবাস করেন। ইজিবাইকের আয় দিয়ে চালাতেন সংসার, পরিশোধ করতেন ঋণের কিস্তি।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

ইজিবাইক হারিয়ে দিশেহারা কামালের মূখে আবার ফিরে এলো হাসি

আপডেট সময় : ০৫:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মে ২০২৪

জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে গত দেড় মাস পূর্বে চুরি হয় কামাল শেখের ইজিবাইক। এরপর থেকে কামাল দিশেহারা এবং খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছিলেন। এনজিও’র ঋণে কেনা ইজিবাইকের কিস্তির জন্য চাপ দিতে থাকলে কামাল প্রায় পাগলের মত হয়ে যায়।

জানা যায়, এবিষয়টি নিয়ে কামাল শেখ  জামালপুরের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিমের কাছে আসলে জামালপুর পৌরসভার মেয়র মহোদয়ের কাছে একটি ইজিবাইক কিনে দিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানানো হয়।

শনিবার (৪ এপ্রিল) মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু একটি ইজিবাইক ক্রয় করে পৌরসভা প্রাঙ্গণে নিজ হাতে গাড়ীর চাবি এবং ৬৬ হাজার টাকা হস্তান্তর করেন।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, এনজিও কর্মী আরজু মিয়া, কামাল শেখের স্ত্রীসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সাংবাদিকবৃন্দ।

 

জামালপুরের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছিল কামাল। আমার কাছে আসলে আমি বিষয়টি মেয়র মহোদয়কে বলি এবং সমাজের বিত্তশালীদের কাছ সহযোগিতা কামনা করলে মেয়র একটি ইজিবাইক কিনে দেয় এবং ভাঙ্গাচুরা ঘর মেরামত করা জন্য ৬৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেই।

কামাল শেখ গাড়ী পেয়ে আবেগে আপ্লূত হয়ে বলেন, আমি কখনো ভাবিনি যে আমি আবার দাঁড়াতে পারবো। স্ত্রী-সন্তানাদি নিয়ে এত কষ্টে জীবন-যাপন করছিলাম যে বলে বুঝাতে পারবো না। মেয়র সাহেব এবং জাহাঙ্গীর সেলিম ভাইয়ের সহযোগিতায় আবার বাঁচার স্বপ্ন দেখতেছি।

ইজিবাইকের চাবি হস্তান্তরের সময় মেয়র ছানোয়ার হোসেন ছানু বলেন, আমি মেয়র হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার কর্তব্য। আমার কাছে মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম ভাই কামালের বিষয়টি জানালে আমি তাৎক্ষণিক তাকে কথা দেই আমি একটি ইজিবাইক কিনে দিবো। আমার কাছে ভাল লাগছে এরকম একটি মানবিক কাজ করতে পেরে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে একটি চক্রের কয়েকজন তাঁর ইজিবাইকে ওঠেন। তারপর সদর উপজেলা পরিষদের সামনে এসে চক্রটি একজন পুলিশ সদস্যের বাসা থেকে কার্টন আনতে হবে বলে কামালকে নিয়ে রওনা হন। কিছুদূর গিয়ে সঙ্গে থাকা লোকটি উধাও হয়ে যান। এরমধ্যে অন্য সদস্যরা ইজিবাইক নিয়ে উধাও হয়ে যান। ইজিবাইকটি আর পাননি তিনি। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক ক্রয় করে কামাল প্রতিদিন কিস্তি দিতেন। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এনজিও থেকে চাপ দিতে থাকে কিস্তির জন্য।

কামাল শহরের পাথালিয়া গুয়াবাড়িয়া এলাকায় এক ছেলে নিয়ে বসবাস করেন। দুই মেয়ের পূর্বেই বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছেলেটি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেন। কামাল ও তাঁর স্ত্রী ময়না বেগম একটি টিনের ভাঙাচোরা ছাপরার নিচে বসবাস করেন। ইজিবাইকের আয় দিয়ে চালাতেন সংসার, পরিশোধ করতেন ঋণের কিস্তি।