০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফুলগাজীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল ভোটে হারুন  মজুমদারের জয়ী

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা নির্বাচনের ফাঁকা কেন্দ্রে ২৬ হাজার ৮শ ৬১ ভোটে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (কাপ- পিরিচ) প্রতীকের প্রার্থী হারুন মজুমদার।
বুধবার (০৮ মে) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কেন্দ্রগুলোতে অল্প সংখ্যক ভোটার উপস্থিত দেখা গেলেও ২৭হাজার ৬শ ৩৬
ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বদ্ধী জাফরুল্লাহ ভুঁইয়া (চিংড়ি) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ৭শ ৭৫ ভোট।
এছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ১১হাজার ৮৯ পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন অনিল বণিক।তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মাহবুবুল হক কালা পেয়েছেন ৭হাজার ২শ ৬৫।
এ পদে অংশগ্রহণকারী ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে পরাজিত অপর ৩ জনের আব্দুর রহিম  পেয়েছে ৩হাজার ৮শ ৯১,সাইফ উদ্দিন শাহীন পেয়েছে ২হাজার ৬শ ৮৮,পরিমল চন্দ্র রায় পেয়েছে ৩হাজার ১শ ৯৭ ভোট।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী না থাকায় ভোটের আগেই একজনকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫ শত ৭১জন।৬টি ইউনিয়নের ৩২টি কেন্দ্রে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ২৯হাজার ৩শ ৩০টি।যা মোট ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
এর আগে অনেকটা উচ্ছ্বাসহীন পরিবেশে সকাল ৮টায় এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকে যেন গুমোট মেঘলা আবহাওয়ার মতোই নির্বাচনের পরিবেশ ছিল থম ধরা। উপজেলার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরেও নিয়ম রক্ষার এ নির্বাচনে ভোটারদের কোনো লাইন চোখে পড়েনি।
 সকাল সাড়ে আটটায় বন্ধুয়া দৌলতপুর স্কুল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে এক ভোটারের কাছ থেকে। কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়ানো আবুল কাসেম নামের ওই ভোটার বললেন, মূলত ভোটের ফলাফল তো আগেই ঠিক হয়ে আছে। তাই ভোটারদের মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই।
আবুল কাসেম আরও বলেন, এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার মূল প্রার্থী। অপর প্রার্থীর জাফর উল্যা ভূঞার কোনো প্রচার–প্রচারণা ছিল না। তাই নির্বাচনের ফলাফলও একরকম নির্ধারিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্ধুয়া দৌলতপুর স্কুল ভোটকেন্দ্রের ১০টি বুথে ভোট দেবেন ৪ হাজার ২৭১ জন। অথচ ভোট শুরুর প্রথম আধা ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন ২৫ জনের মতো। এই কেন্দ্রে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন মজুমদার ও জাফর উল্যাহ ভূঞাকে পাওয়া গেল। ভোটার উপস্থিতি কম কেন, প্রশ্নের উত্তরে দুজনই জানালেন বেলা বাড়লে ভোটার উপস্থিত হবেন। কেন্দ্রের বুথে সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা অনেকটাই অলসভাবে বসেছিলেন।
সকাল ৯টায় উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের আজমিরি বেগম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। এই কেন্দ্রের ১০টি বুথে ভোটার ৩ হাজার ৮৪৬ জন। অথচ সকাল নয়টা পর্যন্ত ভোট দিতে এসেছেন ৩০ জনের মতো।
সকাল সাড়ে নয়টায় ফুলগাজী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের নয়টি বুথের তিনটি বুথে একটিও ভোট পড়েনি। এই কেন্দ্রে ৩ হাজার ৮৪৬ জন ভোটার রয়েছেন। তবে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৫০ জনের মতো। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নয়ন দেবনাথ এ জন্য আবহাওয়াকে দায়ী করলেন। তিনি বলেন, সকালে ওই এলাকায় আবহাওয়া কিছুটা খারাপ ছিল। তাই ভোটার উপস্থিতি কম।
অন্যদিকে উপজেলার প্রায় সবকয়টি কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিত তেমন একটা দেখা যায় নি। এর মাঝেও উপজেলার আবদুল মজিদ স্কুল সহ বেশকয়েকটি কেন্দ্রে স্কুল পড়ুয়া কয়েকজন  ছাত্রকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।এছাড়া  জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ১১ জন তরুণ যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
 প্রতিটি ভোটকেন্দ্র আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করার জন্য ১ জন ম্যাজিস্ট্রেট, ৪ জন পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে ২০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিই বেশি ছিল।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

ফুলগাজীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল ভোটে হারুন  মজুমদারের জয়ী

আপডেট সময় : ০৯:২০:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০২৪
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা নির্বাচনের ফাঁকা কেন্দ্রে ২৬ হাজার ৮শ ৬১ ভোটে চেয়ারম্যান পদে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (কাপ- পিরিচ) প্রতীকের প্রার্থী হারুন মজুমদার।
বুধবার (০৮ মে) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে কেন্দ্রগুলোতে অল্প সংখ্যক ভোটার উপস্থিত দেখা গেলেও ২৭হাজার ৬শ ৩৬
ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বদ্ধী জাফরুল্লাহ ভুঁইয়া (চিংড়ি) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন মাত্র ৭শ ৭৫ ভোট।
এছাড়া ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ১১হাজার ৮৯ পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন অনিল বণিক।তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী মাহবুবুল হক কালা পেয়েছেন ৭হাজার ২শ ৬৫।
এ পদে অংশগ্রহণকারী ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে পরাজিত অপর ৩ জনের আব্দুর রহিম  পেয়েছে ৩হাজার ৮শ ৯১,সাইফ উদ্দিন শাহীন পেয়েছে ২হাজার ৬শ ৮৮,পরিমল চন্দ্র রায় পেয়েছে ৩হাজার ১শ ৯৭ ভোট।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী না থাকায় ভোটের আগেই একজনকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫ শত ৭১জন।৬টি ইউনিয়নের ৩২টি কেন্দ্রে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ২৯হাজার ৩শ ৩০টি।যা মোট ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
এর আগে অনেকটা উচ্ছ্বাসহীন পরিবেশে সকাল ৮টায় এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকে যেন গুমোট মেঘলা আবহাওয়ার মতোই নির্বাচনের পরিবেশ ছিল থম ধরা। উপজেলার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র ঘুরেও নিয়ম রক্ষার এ নির্বাচনে ভোটারদের কোনো লাইন চোখে পড়েনি।
 সকাল সাড়ে আটটায় বন্ধুয়া দৌলতপুর স্কুল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে এক ভোটারের কাছ থেকে। কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়ানো আবুল কাসেম নামের ওই ভোটার বললেন, মূলত ভোটের ফলাফল তো আগেই ঠিক হয়ে আছে। তাই ভোটারদের মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই।
আবুল কাসেম আরও বলেন, এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার মূল প্রার্থী। অপর প্রার্থীর জাফর উল্যা ভূঞার কোনো প্রচার–প্রচারণা ছিল না। তাই নির্বাচনের ফলাফলও একরকম নির্ধারিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বন্ধুয়া দৌলতপুর স্কুল ভোটকেন্দ্রের ১০টি বুথে ভোট দেবেন ৪ হাজার ২৭১ জন। অথচ ভোট শুরুর প্রথম আধা ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন ২৫ জনের মতো। এই কেন্দ্রে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন মজুমদার ও জাফর উল্যাহ ভূঞাকে পাওয়া গেল। ভোটার উপস্থিতি কম কেন, প্রশ্নের উত্তরে দুজনই জানালেন বেলা বাড়লে ভোটার উপস্থিত হবেন। কেন্দ্রের বুথে সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা অনেকটাই অলসভাবে বসেছিলেন।
সকাল ৯টায় উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের আজমিরি বেগম বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। এই কেন্দ্রের ১০টি বুথে ভোটার ৩ হাজার ৮৪৬ জন। অথচ সকাল নয়টা পর্যন্ত ভোট দিতে এসেছেন ৩০ জনের মতো।
সকাল সাড়ে নয়টায় ফুলগাজী পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের নয়টি বুথের তিনটি বুথে একটিও ভোট পড়েনি। এই কেন্দ্রে ৩ হাজার ৮৪৬ জন ভোটার রয়েছেন। তবে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ৫০ জনের মতো। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নয়ন দেবনাথ এ জন্য আবহাওয়াকে দায়ী করলেন। তিনি বলেন, সকালে ওই এলাকায় আবহাওয়া কিছুটা খারাপ ছিল। তাই ভোটার উপস্থিতি কম।
অন্যদিকে উপজেলার প্রায় সবকয়টি কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিত তেমন একটা দেখা যায় নি। এর মাঝেও উপজেলার আবদুল মজিদ স্কুল সহ বেশকয়েকটি কেন্দ্রে স্কুল পড়ুয়া কয়েকজন  ছাত্রকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে।এছাড়া  জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ১১ জন তরুণ যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
 প্রতিটি ভোটকেন্দ্র আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করার জন্য ১ জন ম্যাজিস্ট্রেট, ৪ জন পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে ২০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। সব মিলিয়ে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিই বেশি ছিল।