০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাইডেনের হুমকিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল

◉ইসরায়েলকে আর ছাড় দেবে না হামাস
◉আল শিফা হাসপাতালে আরেক গণকবর থেকে ৪৯ মরদেহ উদ্ধার
◉ ইসরায়েলকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জিম্মি পরিবারের
◉ ২১ মে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে ইউরোপের ৪ দেশ
◉ গাজায় ব্রিটেনের গুপ্তচর বিমানের ১০০০ ঘণ্টা নজরদারি : প্রতিবেদন

 

 

ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্রের চালান বন্ধের হুমকি বাইডেনের :
ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েল যদি ফিলিস্তিনের গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় বড় ধরনের অভিযান চালায়, তাহলে তিনি ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন।

 

রাফায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে ইসরায়েল প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইসরায়েলে মার্কিন বোমার একটি বড় চালান স্থগিত করে। এই ঘটনার পর এখন বাইডেনের কাছ থেকে নতুন হুঁশিয়ারি এল। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর বাইডেন এই প্রথম প্রকাশ্যে, একদম সরাসরি ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন। বাইডেন স্বীকার করেন, গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যায় মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বোমা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ব্যবহারের ফলে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। বাইডেন বলেন, যদি ইসরায়েল রাফাহতে অভিযানে যায়, তাহলে তিনি দেশটিকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ করবেন না।

 

গাজা উপত্যকার রাফা শহরে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের চালান বন্ধ করে দেওয়ার যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল। গতকাল এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের হুমকির পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত গিলাড এরডান। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গিলাড এরডান বলেন, যুদ্ধের শুরু থেকে যে প্রেসিডেন্টের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসছি, তার এমন বক্তব্য মেনে নেওয়া কঠিন এবং তা অত্যন্ত হতাশাজনক। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর এটি এখন পর্যন্ত বাইডেনের দেওয়া সবচেয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি। বাইডেনের এমন হুমকি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত গিলাড এরডান। তিনি বলেন, বাইডেনের এমন বক্তব্য ইরান, হামাস এবং হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী করে তুলবে। রাফার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে যদি ইসরায়েলি বাহিনীকে ঢুকতে না দেওয়া হয় তবে হাজারো সন্ত্রাসীর কী হবে? জিম্মিদের কী হবে? হামাসের নেতাদের কী হবে? আমরা কি আদৌ আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারব? শেষ পর্যন্ত নিজস্ব নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে যা যা করা দরকার, তাই ইসরায়েলকে করতে হবে।

 

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা সাত মাস ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি। এমন অবস্থায় গাজায় যুদ্ধ বন্ধে বাড়ছে বৈশ্বিক চাপ। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। তবে ইসরায়েল বেঁকে বসায় যুদ্ধবিরতি হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। এমন অবস্থায় যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে আর কোনো আপস না করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস।
গত বুধবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনায় ইসরায়েলকে আর হামাস কোনো ছাড় দিতে ইচ্ছুক নয়। যদিও গত সাত মাস ধরে চলা ইসরায়েলের আগ্রাসন থামানোর লক্ষ্যে কায়রোতে এখনো আলোচনা চলছে। এর আগে গত সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আসা গাজা যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাবে সম্মত হয় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস। কিন্তু এর পরপরই ইসরায়েল জানায়, এই প্রস্তাবের শর্তগুলো তাদের দাবি পূরণ করেনি এবং চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি রাফাতে হামলার ঘোষণা দেয় দেশটি।

 

গত বুধবার গভীর রাতে একটি বিবৃতি দিয়ে কাতারে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ইজ্জাত আল-রেশিক বলেছেন, হামাস গত সোমবার গৃহীত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বাইরে যাবে না। ওই চুক্তির ফলে গাজায় কিছু ইসরায়েলি বন্দির পাশাপাশি ইসরায়েলে আটক ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের মুক্তি দেওয়া হবে। ইসরায়েল কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আন্তরিক নয় এবং ইসরায়েল রাফাহতে আক্রমণ ও ক্রসিং দখলে যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে আবরণ হিসাবে ব্যবহার করছে।

 

ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের দেশে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কাছে সহায়তা চেয়েছে তাদের পরিবার। এ লক্ষ্যে হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তিতে যেতে ইসরায়েল সরকারের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য ওই দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গত সোমবার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতারের প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে তারা। পরদিন মঙ্গলবার হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘হোস্টেজ অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরাম’ বিদেশি সরকারের প্রতি তাদের আহ্বান জানায়। ইসরায়েল ছাড়া অন্য যেসব দেশের নাগরিক এখনো হামাসের হাতে জিম্মি, ওই দেশগুলোর দূতাবাসে চিঠি পাঠায় হোস্টেজ অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরাম। তাতে বলা হয়, বর্তমানে সংকটের সময় চলছে। এরই মধ্যে জিম্মিদের মুক্তির বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনাদের সরকার যেন (হামাসের সঙ্গে) চুক্তির প্রতি সমর্থন জানায়। একটি চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়েল সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ওপর আপনাদের প্রভাব খাটানোর এখনই সময়। এমন কোনো চুক্তি হলে আমাদের প্রিয়জনরা শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পারবে। হামাসের হাতে জিম্মিদের মধ্যে ইসরায়েলি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।

 

 

২১ মে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে ইউরোপের ৪ দেশ :
আয়ারল্যান্ড, স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য অন্তত চারটি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। গতকাল আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। এর আগে, গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে আরটিই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনকে যৌথভাবে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ডাবলিন ও মাদ্রিদ এবং স্লোভেনিয়া ও মাল্টার মধ্যে যোগাযোগ তীব্র হয়েছে। ইউরোপের এসব দেশ আগামী ১০ মে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের বিষয়ে অনুষ্ঠিতব্য ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে। ওই দিন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হওয়ার যোগ্য হিসাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে।

 

 

গাজার ওপর ব্রিটেনের গুপ্তচর বিমানের ১০০০ ঘণ্টা নজরদারি :
ইসরায়েলকে গাজার বিভিন্ন অবস্থানের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিতে অঞ্চলটির আকাশে অন্তত ২০০টি গোয়েন্দা নজরদারি মিশন চালিয়েছে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ারফোর্স। সব মিলিয়ে এক হাজার ঘণ্টারও বেশি ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর নজরদারি বিমানগুলো গাজার আকাশে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ডিক্লাসিফায়েড ইউকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডক্লাসিফায়েড ইউকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের ঘাঁটি আরএএফ আক্রোতিরি থেকে অন্তত ২০০ ফ্লাইট গাজার আকাশে ১ হাজার ঘণ্টার বেশি নজরদারি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।

 

ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত পবিপ্রবি?

বাইডেনের হুমকিতে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মে ২০২৪

◉ইসরায়েলকে আর ছাড় দেবে না হামাস
◉আল শিফা হাসপাতালে আরেক গণকবর থেকে ৪৯ মরদেহ উদ্ধার
◉ ইসরায়েলকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের প্রতি আহ্বান জিম্মি পরিবারের
◉ ২১ মে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে ইউরোপের ৪ দেশ
◉ গাজায় ব্রিটেনের গুপ্তচর বিমানের ১০০০ ঘণ্টা নজরদারি : প্রতিবেদন

 

 

ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্রের চালান বন্ধের হুমকি বাইডেনের :
ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইসরায়েল যদি ফিলিস্তিনের গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় বড় ধরনের অভিযান চালায়, তাহলে তিনি ইসরায়েলকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন।

 

রাফায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে ইসরায়েল প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইসরায়েলে মার্কিন বোমার একটি বড় চালান স্থগিত করে। এই ঘটনার পর এখন বাইডেনের কাছ থেকে নতুন হুঁশিয়ারি এল। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর বাইডেন এই প্রথম প্রকাশ্যে, একদম সরাসরি ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন। বাইডেন স্বীকার করেন, গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যায় মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বোমা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ব্যবহারের ফলে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। বাইডেন বলেন, যদি ইসরায়েল রাফাহতে অভিযানে যায়, তাহলে তিনি দেশটিকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ করবেন না।

 

গাজা উপত্যকার রাফা শহরে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের চালান বন্ধ করে দেওয়ার যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ ইসরায়েল। গতকাল এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের হুমকির পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত গিলাড এরডান। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গিলাড এরডান বলেন, যুদ্ধের শুরু থেকে যে প্রেসিডেন্টের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসছি, তার এমন বক্তব্য মেনে নেওয়া কঠিন এবং তা অত্যন্ত হতাশাজনক। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর এটি এখন পর্যন্ত বাইডেনের দেওয়া সবচেয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি। বাইডেনের এমন হুমকি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত গিলাড এরডান। তিনি বলেন, বাইডেনের এমন বক্তব্য ইরান, হামাস এবং হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী করে তুলবে। রাফার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে যদি ইসরায়েলি বাহিনীকে ঢুকতে না দেওয়া হয় তবে হাজারো সন্ত্রাসীর কী হবে? জিম্মিদের কী হবে? হামাসের নেতাদের কী হবে? আমরা কি আদৌ আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারব? শেষ পর্যন্ত নিজস্ব নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে যা যা করা দরকার, তাই ইসরায়েলকে করতে হবে।

 

ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে অবিরাম হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। টানা সাত মাস ধরে চালানো এই হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি। এমন অবস্থায় গাজায় যুদ্ধ বন্ধে বাড়ছে বৈশ্বিক চাপ। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। তবে ইসরায়েল বেঁকে বসায় যুদ্ধবিরতি হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। এমন অবস্থায় যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে আর কোনো আপস না করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস।
গত বুধবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনায় ইসরায়েলকে আর হামাস কোনো ছাড় দিতে ইচ্ছুক নয়। যদিও গত সাত মাস ধরে চলা ইসরায়েলের আগ্রাসন থামানোর লক্ষ্যে কায়রোতে এখনো আলোচনা চলছে। এর আগে গত সোমবার মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আসা গাজা যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাবে সম্মত হয় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস। কিন্তু এর পরপরই ইসরায়েল জানায়, এই প্রস্তাবের শর্তগুলো তাদের দাবি পূরণ করেনি এবং চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি রাফাতে হামলার ঘোষণা দেয় দেশটি।

 

গত বুধবার গভীর রাতে একটি বিবৃতি দিয়ে কাতারে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ইজ্জাত আল-রেশিক বলেছেন, হামাস গত সোমবার গৃহীত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বাইরে যাবে না। ওই চুক্তির ফলে গাজায় কিছু ইসরায়েলি বন্দির পাশাপাশি ইসরায়েলে আটক ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের মুক্তি দেওয়া হবে। ইসরায়েল কোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আন্তরিক নয় এবং ইসরায়েল রাফাহতে আক্রমণ ও ক্রসিং দখলে যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে আবরণ হিসাবে ব্যবহার করছে।

 

ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের দেশে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের কাছে সহায়তা চেয়েছে তাদের পরিবার। এ লক্ষ্যে হামাসের সঙ্গে একটি চুক্তিতে যেতে ইসরায়েল সরকারের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য ওই দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গত সোমবার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতারের প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে তারা। পরদিন মঙ্গলবার হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘হোস্টেজ অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরাম’ বিদেশি সরকারের প্রতি তাদের আহ্বান জানায়। ইসরায়েল ছাড়া অন্য যেসব দেশের নাগরিক এখনো হামাসের হাতে জিম্মি, ওই দেশগুলোর দূতাবাসে চিঠি পাঠায় হোস্টেজ অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরাম। তাতে বলা হয়, বর্তমানে সংকটের সময় চলছে। এরই মধ্যে জিম্মিদের মুক্তির বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনাদের সরকার যেন (হামাসের সঙ্গে) চুক্তির প্রতি সমর্থন জানায়। একটি চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়েল সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের ওপর আপনাদের প্রভাব খাটানোর এখনই সময়। এমন কোনো চুক্তি হলে আমাদের প্রিয়জনরা শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পারবে। হামাসের হাতে জিম্মিদের মধ্যে ইসরায়েলি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন।

 

 

২১ মে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে ইউরোপের ৪ দেশ :
আয়ারল্যান্ড, স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য অন্তত চারটি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। গতকাল আয়ারল্যান্ডের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। এর আগে, গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে আরটিই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনকে যৌথভাবে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে ডাবলিন ও মাদ্রিদ এবং স্লোভেনিয়া ও মাল্টার মধ্যে যোগাযোগ তীব্র হয়েছে। ইউরোপের এসব দেশ আগামী ১০ মে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের বিষয়ে অনুষ্ঠিতব্য ভোটের অপেক্ষায় রয়েছে। ওই দিন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হওয়ার যোগ্য হিসাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে।

 

 

গাজার ওপর ব্রিটেনের গুপ্তচর বিমানের ১০০০ ঘণ্টা নজরদারি :
ইসরায়েলকে গাজার বিভিন্ন অবস্থানের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিতে অঞ্চলটির আকাশে অন্তত ২০০টি গোয়েন্দা নজরদারি মিশন চালিয়েছে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ারফোর্স। সব মিলিয়ে এক হাজার ঘণ্টারও বেশি ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর নজরদারি বিমানগুলো গাজার আকাশে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়েছে। গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ডিক্লাসিফায়েড ইউকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ডক্লাসিফায়েড ইউকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের ঘাঁটি আরএএফ আক্রোতিরি থেকে অন্তত ২০০ ফ্লাইট গাজার আকাশে ১ হাজার ঘণ্টার বেশি নজরদারি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।