১০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে সিএনজি চালকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক

ট্রাফিক পুলিশের অনৈতিক হয়রানি ও অবাধে মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামালপুরে সিএনজি চালকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

রবিবার (১৯ মে) সকাল থেকে এ ধর্মঘট শুরু করে সিএনজি চালকরা। ধর্মঘটের কারণে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও জেলার অভ্যন্তরীণ সকল সড়কে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালকদের বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে হয়রানিমূলক মামলা দেয় ট্রাফিক পুলিশ। এ নিয়ে সিএনজি মালিক ও চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ফলে রবিবার সকাল থেকে সড়কে সিএনজি চালানো বন্ধ রেখে তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিএনজি না পেয়ে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এবং জেলার অভ্যন্তরীণ সকল সড়কে জরুরি প্রয়োজনে এই সিএনজিই হলো যাত্রীদের একমাত্র ভরসা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সিএনজি জামালপুর শহরে ঢুকে। কিন্তু রবিবার সকাল থেকেই সিএনজির কোন দেখা মেলেনি। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক দিয়ে শহরে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা যাত্রী তুলছেন না। অন্যদিকে শহরের সিএনজি স্ট্যান্ডগুলিতে কোন সিএনজিও দেখা যায়নি। এতে করে গন্তব্য পৌঁছাতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে সিএনজি চালক সংগঠনের এক শ্রমিকনেতা আসলাম উদ্দিন জানান, গত ১০-১৫ বছর ধরে আমাদের শ্রমিকরা সিএনজি চালাচ্ছে এতে আমরা কোন হয়রানির শিকার হয়নি। জেলায় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার সিএনজি চলাচল করে। এই গাড়িগুলোর প্রত্যেকটি থেকে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ প্রতিমাসে চাঁদা নিতো। গত তিনমাস ধরে তা বন্ধ করে দেওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ গত কয়েকদিনে প্রায় ৪০০টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। প্রতিটি মামলায় সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। ট্রাফিক পুলিশের এই হয়রানি ও নির্যাতনের কারণেই আমাদের লাগাতার ধর্মঘট চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এর একটি সমাধান না হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি চালকরা এ ধর্মঘট চালিয়ে যাবে।

সিএনজি চালক নাজিম উদ্দিন জানান, ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অহেতুক মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করছে। আমরা সিএনজি চালিয়ে যা আয় করি তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। অথচ  আয়ের চেয়ে বেশি পরিমাণের টাকা জরিমানা করে আমাদের হয়রানি করছে।

জামালপুর জেলা অটো টেম্পো, অটো রিকশা ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম গোলাপ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করা সিএনজিগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। যদি এইসব মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়িগুলোর কাগজপত্র ঠিক করা হয় তাহলে টাকা গুণতে হবে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ট্রাফিক পুলিশেরা যদি আগে থেকেই এই গাড়িগুলোর কাগজপত্র ঠিকঠাক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন তাহলে আজকে আমাদের এই হয়রানি হতে হতো না।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন থেকে কাগজপত্র দেখানোর অজুহাতে ট্রাফিক পুলিশেরা সিএনজি চালকদের সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকার মামলা দিচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি মামলায় গুণতে হচ্ছে রেকার বিল। অথচ কখনই তারা মহাসড়কে বিকল ও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত ‘রেকার’ নিয়ে যাওয়া হয়না। আমাদের সিএনজির চালকরা তারা নিজেরাই গাড়ি টেনে নিয়ে যায়। প্রায় ৫০০টির বেশি সিএনজির চালকদের কাছ থেকে এই রেকার বিল নিয়েছে তারা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মওলা তালুকদার জানান, একটি সিএনজির কমার্সিয়াল বেহিকলের পাঁচটি কাগজপত্র থাকতে হয়। লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, টেক্স টোকেন ও রোড পারিমট সার্টিফিকেট। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ মোতাবেক এই পাঁচটি কাগজের জরিমানা হলো এক লাখ ৩০ হাজার টাকা, অনাদায়ে ২১ মাসের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। দরিদ্র মানুষের জন্য এই আইন বিবেচনা করে ১৬ ভাগের এক ভাগ, কখনও ২০ ভাগের এক ভাগ করে রেজিস্ট্রেশন ৫০ হাজার টাকার জায়গায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রেকার প্রসঙ্গে তিনি জানান, রেকার ব্যবহারের ফলে গাড়িটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম আছে এই রেকারের জন্য। তারা সবাই ড্রাইভ করতে পারে। চালকরা অনেক সময় রেকার ব্যবহার করতে দেয় না। তারা নিজেরাই গাড়ি নিয়ে আসে। আমাদের উদ্দেশ্য তাদের হয়রানি না করা। আমাদের উদ্দেশ্য হলো চালকরা যাতে লাইসেন্সসহ কাগজপত্র ঠিক করে গাড়িটি বৈধভাবে সড়কে চালায়। এটাই আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষুধা পেলেই কেন রেগে যাই? ‘হ্যাংরি’ হওয়ার পেছনের বিজ্ঞান কি বলে?

জামালপুরে সিএনজি চালকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক

আপডেট সময় : ০৬:০০:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

ট্রাফিক পুলিশের অনৈতিক হয়রানি ও অবাধে মামলা দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামালপুরে সিএনজি চালকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

রবিবার (১৯ মে) সকাল থেকে এ ধর্মঘট শুরু করে সিএনজি চালকরা। ধর্মঘটের কারণে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও জেলার অভ্যন্তরীণ সকল সড়কে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালকদের বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে হয়রানিমূলক মামলা দেয় ট্রাফিক পুলিশ। এ নিয়ে সিএনজি মালিক ও চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর ফলে রবিবার সকাল থেকে সড়কে সিএনজি চালানো বন্ধ রেখে তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সিএনজি না পেয়ে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ও জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এবং জেলার অভ্যন্তরীণ সকল সড়কে জরুরি প্রয়োজনে এই সিএনজিই হলো যাত্রীদের একমাত্র ভরসা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সিএনজি জামালপুর শহরে ঢুকে। কিন্তু রবিবার সকাল থেকেই সিএনজির কোন দেখা মেলেনি। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক দিয়ে শহরে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি স্থানে সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা যাত্রী তুলছেন না। অন্যদিকে শহরের সিএনজি স্ট্যান্ডগুলিতে কোন সিএনজিও দেখা যায়নি। এতে করে গন্তব্য পৌঁছাতে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে সিএনজি চালক সংগঠনের এক শ্রমিকনেতা আসলাম উদ্দিন জানান, গত ১০-১৫ বছর ধরে আমাদের শ্রমিকরা সিএনজি চালাচ্ছে এতে আমরা কোন হয়রানির শিকার হয়নি। জেলায় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার সিএনজি চলাচল করে। এই গাড়িগুলোর প্রত্যেকটি থেকে ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ প্রতিমাসে চাঁদা নিতো। গত তিনমাস ধরে তা বন্ধ করে দেওয়ায় ট্রাফিক পুলিশ গত কয়েকদিনে প্রায় ৪০০টি মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। প্রতিটি মামলায় সর্বনিম্ন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। ট্রাফিক পুলিশের এই হয়রানি ও নির্যাতনের কারণেই আমাদের লাগাতার ধর্মঘট চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এর একটি সমাধান না হয় অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি চালকরা এ ধর্মঘট চালিয়ে যাবে।

সিএনজি চালক নাজিম উদ্দিন জানান, ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অহেতুক মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করছে। আমরা সিএনজি চালিয়ে যা আয় করি তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। অথচ  আয়ের চেয়ে বেশি পরিমাণের টাকা জরিমানা করে আমাদের হয়রানি করছে।

জামালপুর জেলা অটো টেম্পো, অটো রিকশা ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম গোলাপ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করা সিএনজিগুলো মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। যদি এইসব মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়িগুলোর কাগজপত্র ঠিক করা হয় তাহলে টাকা গুণতে হবে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ট্রাফিক পুলিশেরা যদি আগে থেকেই এই গাড়িগুলোর কাগজপত্র ঠিকঠাক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন তাহলে আজকে আমাদের এই হয়রানি হতে হতো না।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন থেকে কাগজপত্র দেখানোর অজুহাতে ট্রাফিক পুলিশেরা সিএনজি চালকদের সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকার মামলা দিচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি মামলায় গুণতে হচ্ছে রেকার বিল। অথচ কখনই তারা মহাসড়কে বিকল ও দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত ‘রেকার’ নিয়ে যাওয়া হয়না। আমাদের সিএনজির চালকরা তারা নিজেরাই গাড়ি টেনে নিয়ে যায়। প্রায় ৫০০টির বেশি সিএনজির চালকদের কাছ থেকে এই রেকার বিল নিয়েছে তারা।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ট্রাফিক বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মওলা তালুকদার জানান, একটি সিএনজির কমার্সিয়াল বেহিকলের পাঁচটি কাগজপত্র থাকতে হয়। লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, টেক্স টোকেন ও রোড পারিমট সার্টিফিকেট। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ মোতাবেক এই পাঁচটি কাগজের জরিমানা হলো এক লাখ ৩০ হাজার টাকা, অনাদায়ে ২১ মাসের কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। দরিদ্র মানুষের জন্য এই আইন বিবেচনা করে ১৬ ভাগের এক ভাগ, কখনও ২০ ভাগের এক ভাগ করে রেজিস্ট্রেশন ৫০ হাজার টাকার জায়গায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রেকার প্রসঙ্গে তিনি জানান, রেকার ব্যবহারের ফলে গাড়িটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম আছে এই রেকারের জন্য। তারা সবাই ড্রাইভ করতে পারে। চালকরা অনেক সময় রেকার ব্যবহার করতে দেয় না। তারা নিজেরাই গাড়ি নিয়ে আসে। আমাদের উদ্দেশ্য তাদের হয়রানি না করা। আমাদের উদ্দেশ্য হলো চালকরা যাতে লাইসেন্সসহ কাগজপত্র ঠিক করে গাড়িটি বৈধভাবে সড়কে চালায়। এটাই আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য।