১১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বদলগাছীতে নিজ অফিসে বসে বাল্যবিবাহ দেয়ার অভিযোগ উপজেলা চেয়ারম্যানের

নওগাঁর বদলগাছীতে রাতের বেলা উপজেলা পরিষদের  নিজ অফিসে বসে বাল্যবিবাহ দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শামছুল আলম খান। ঘটনাটি ঘটছে ২৪মে (বৃহস্পতিবার) রাত ৯ টায়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, বৈকুন্ঠপুর গ্রামের মো. শামীম হোসেনের ছেলে আবু সাঈদ (১৬) ও ব্যাসপুর গ্রামের মোছা: মরিয়ম আক্তার (১৫) প্রেমের টানে ঘর ছাড়ে কিছু দিন আগে। এরপর তারা গ্রামে ফিরে আসে। সহযোগিতা চান নব-নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে। সেই মোতাবেক চেয়ারম্যান ছেলে- মেয়ে সহ উভয় পরিবার কে উপজেলা পরিষদের তার অফিসে ডেকে নেয়। উভয়ের পরিবার নিয়ে রাত ৯ টায় উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের নিজ অফিসে বসে আধাইপুর ইউনিয়নের কাজী জাকির হোসেনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ দেন।
গোপন সংবাদের ভিক্তিতে এ বিষয়ে খবর পাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত হোন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে। এবং সেখানে গিয়ে সত্যতা পায় স্থানীয় সাংবাদিকরা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান কে প্রশ্ন করে। ছেলে মেয়ে উভয়ের বয়স হয়েছে কি- না। এবং জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি দেখে বিবাহ দেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বিবাহ বন্ধ না করার অনুরোধ করেন সাংবাদিকদের।
সেখানে উপস্থিত নাম না প্রকাশে কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ছেলে-মেয়ের বিবাহ দিয়ে দিয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. আতিয়া খাতুন কে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানালে, তার কিছুক্ষণ পর একে একে সবাই উপজেলা পরিষদ থেকে বের হতে দেখা যায়। প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও আইন প্রয়োগকারীর কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায় নি। সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নামেই বাল্য বিবাহ আইন আছে, এর কোন প্রয়োগ হয় না। যদি প্রয়োগই হতো তাহলে এখানে আইনি ব্যবস্থা করা হতো ।
আধাইপুর ইউনিয়নের কাজী জাকির হোসেন বলেন, বিয়ে পড়ানোর জন্য আমাকে ফোন করে এখানে ডেকে এনেছে উপজেলা চেয়ারম্যান। লেখালেখি শুরু করতেই আপনারা এসেছেন। কাজীর কাছে সাংবাদিকরা ছেলে ও মেয়ের প্রমাণ পত্র হিসাবে তাঁদের জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি দেখতে চাইলে তিনি ব্যাগ থেকে আনার কথা বলে ঘটনা স্থল থেকে পালিয়ে যান কাজী।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. শামছুল আলম খান বলেন, মেয়েটি এতিম। তাই উভয় পরিবারের লোকজন নিয়ে বিবাহের কাজ করছিলাম। তবে বিবাহ সম্পন্ন হয়নি। উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্যালয়ে আপনার অফিসে বসে আইন বিরোধী এই বাল্য বিবাহ আপনি দিতে পারেন কি না বলে প্রশ্ন করলে তিনি কনো উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. আতিয়া খাতুনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
 উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃ দাঃ) মো. কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি জানি না। আপনার মাধ্যমে যতটুকু জানলাম। বাল্য বিবাহ এই উপজেলা পরিষদে শুধু না সব জায়গায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিয়া খাতুন কে বিষয়টি অবগত করার পরও কেন তিনি কোন আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

আপিল শুনানির অষ্টম দিনে ৪৫ আবেদন মঞ্জুর করল ইসি

বদলগাছীতে নিজ অফিসে বসে বাল্যবিবাহ দেয়ার অভিযোগ উপজেলা চেয়ারম্যানের

আপডেট সময় : ১০:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪
নওগাঁর বদলগাছীতে রাতের বেলা উপজেলা পরিষদের  নিজ অফিসে বসে বাল্যবিবাহ দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শামছুল আলম খান। ঘটনাটি ঘটছে ২৪মে (বৃহস্পতিবার) রাত ৯ টায়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা যায়, বৈকুন্ঠপুর গ্রামের মো. শামীম হোসেনের ছেলে আবু সাঈদ (১৬) ও ব্যাসপুর গ্রামের মোছা: মরিয়ম আক্তার (১৫) প্রেমের টানে ঘর ছাড়ে কিছু দিন আগে। এরপর তারা গ্রামে ফিরে আসে। সহযোগিতা চান নব-নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে। সেই মোতাবেক চেয়ারম্যান ছেলে- মেয়ে সহ উভয় পরিবার কে উপজেলা পরিষদের তার অফিসে ডেকে নেয়। উভয়ের পরিবার নিয়ে রাত ৯ টায় উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনের নিজ অফিসে বসে আধাইপুর ইউনিয়নের কাজী জাকির হোসেনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ দেন।
গোপন সংবাদের ভিক্তিতে এ বিষয়ে খবর পাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত হোন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে। এবং সেখানে গিয়ে সত্যতা পায় স্থানীয় সাংবাদিকরা এবং উপজেলা চেয়ারম্যান কে প্রশ্ন করে। ছেলে মেয়ে উভয়ের বয়স হয়েছে কি- না। এবং জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি দেখে বিবাহ দেওয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বিবাহ বন্ধ না করার অনুরোধ করেন সাংবাদিকদের।
সেখানে উপস্থিত নাম না প্রকাশে কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ছেলে-মেয়ের বিবাহ দিয়ে দিয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. আতিয়া খাতুন কে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানালে, তার কিছুক্ষণ পর একে একে সবাই উপজেলা পরিষদ থেকে বের হতে দেখা যায়। প্রায় ১ ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও আইন প্রয়োগকারীর কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায় নি। সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, নামেই বাল্য বিবাহ আইন আছে, এর কোন প্রয়োগ হয় না। যদি প্রয়োগই হতো তাহলে এখানে আইনি ব্যবস্থা করা হতো ।
আধাইপুর ইউনিয়নের কাজী জাকির হোসেন বলেন, বিয়ে পড়ানোর জন্য আমাকে ফোন করে এখানে ডেকে এনেছে উপজেলা চেয়ারম্যান। লেখালেখি শুরু করতেই আপনারা এসেছেন। কাজীর কাছে সাংবাদিকরা ছেলে ও মেয়ের প্রমাণ পত্র হিসাবে তাঁদের জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি দেখতে চাইলে তিনি ব্যাগ থেকে আনার কথা বলে ঘটনা স্থল থেকে পালিয়ে যান কাজী।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. শামছুল আলম খান বলেন, মেয়েটি এতিম। তাই উভয় পরিবারের লোকজন নিয়ে বিবাহের কাজ করছিলাম। তবে বিবাহ সম্পন্ন হয়নি। উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্যালয়ে আপনার অফিসে বসে আইন বিরোধী এই বাল্য বিবাহ আপনি দিতে পারেন কি না বলে প্রশ্ন করলে তিনি কনো উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. আতিয়া খাতুনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
 উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃ দাঃ) মো. কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি জানি না। আপনার মাধ্যমে যতটুকু জানলাম। বাল্য বিবাহ এই উপজেলা পরিষদে শুধু না সব জায়গায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আতিয়া খাতুন কে বিষয়টি অবগত করার পরও কেন তিনি কোন আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি বলে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।