০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সমাজে শিক্ষার আলো ছাড়াতে চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম

 সমাজে শিক্ষার আলো ছাড়াতে চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম। শিক্ষার আলো ছড়াতে করেছেন ইতিহাসে অনার্স মাস্টার্স। চোখের আলো নেই, দেখতে পারেননা বাহিরের জগত,দেখতে পারেননা দিনের আলো,রাতের অন্ধকার। তাতে কি নিজেকে ধমিয়ে নিতে হবে, এতসব প্রতিকূল অবস্থার পরেও জাহাঙ্গীর বিশ্ববদ্যালয় থেকে ইতিহাসে মাস্টার্স করেছেন। ইচ্ছা শিক্ষকতা করার, শিক্ষার আলো সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার তীব্র বাসনা।  নিজের ইচ্ছা শক্তি।
 মমতাময়ী মায়ের অধম্য মনোবল আর  প্রেরণায় পাট্যপুস্তক নাদেখে এক অজয়পাড়া গ্রামে থেকে দরিদ্র কৃষকের ছেলে মো: সাইফুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট কররেছেন।
সাইফুল ইসলাম আবুল কালাম ও রাশেদা বেগম দম্পতির ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে  ২য় সন্তান। তিনি চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া (দক্ষিন) ইউনিয়নের   দক্ষিন কড়ৈতলী গ্রামের বাসিন্দ। জন্মেও ২বছর পর শিশুকালেই এক অজানা রোগের কারনে চোখের দৃষ্টিশক্তি  হারান। আর্থিক স্বচ্চলতার অভাবে শিশুপুত্র সাইফুলের চোখের  করাতে  পারেননি চিকিৎসা।   পারিবারিক অভাব-অনটন আর চিকিৎসার অভাবে নিভে যায় শিশু সাইফুল ইসলামের চোখের আলো। পুরোপুরি দৃষ্টি হারোনো শিশু সন্তান সাইফুল ইসলামকে নিয়ে মা রাশেদা বেগমের  শুরু এক অনিশ্চিত পথচলা।  এখন রাশেদা বেগমের ৫সন্তানদের মধ্যে বাকি ৪ সন্তানের কেউই  শিক্ষাজীবনে মাধ্যমিকের সীমা  অতিক্রম নাকরলেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম মাস্টার্স শেষ করেছেন । পুরো পরিবারে সাইফুল ইসলাম একমাত্র উচ্চ শিক্ষিত  এ নিয়ে গর্ব হয় মা রাশেদা বেগমের ।
শিশুকাল থেকে দৃষ্টি হারানো সাইফুল ইসলামের এপথ চলা ততটা সহজ ছিলনা, জীবনের পদে পদে পড়তে সীমাহীন প্রতিবন্ধকতা। সাইফুল ইসলামের  প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষাজীবন কেটেছে  লক্ষীপুর জেলার দাদাল বাজার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্কুলে। উচ্চ মাধ্যমিক কেটেছে ডাকার মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সফলভাবে সম্পন্ন করে  ঢাকা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাইফুল ইসলাম মনে করেন, জীবনে এগিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন অধম্য মনোবল, ইচ্ছা শক্তি ও সাপোর্ট। নানান  সীমাবদ্ধতা  অতিক্রম করে শিক্ষার আলো ছড়াতে বদ্ধকর ভূমিকা রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় সাইফুল ইসলাম তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মাটফোনের মাধ্যমে চাকরির জন্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  স্মাট ফোনের বিশেষ এ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ব্যবহার করে ফেসবুক, ইউটিউব,হোয়্যাটর্সঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন অনায়াসে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, সাইফুলের পরিবার শুরুতে তাকে ভিক্ষাবৃত্তির কাজ করাতে পারতো, তা নাকরে চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাকে জীবন যুদ্ধে সে এগিয়েগেছে।
জনপ্রিয় সংবাদ

আপিল শুনানির অষ্টম দিনে ৪৫ আবেদন মঞ্জুর করল ইসি

সমাজে শিক্ষার আলো ছাড়াতে চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪
 সমাজে শিক্ষার আলো ছাড়াতে চান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম। শিক্ষার আলো ছড়াতে করেছেন ইতিহাসে অনার্স মাস্টার্স। চোখের আলো নেই, দেখতে পারেননা বাহিরের জগত,দেখতে পারেননা দিনের আলো,রাতের অন্ধকার। তাতে কি নিজেকে ধমিয়ে নিতে হবে, এতসব প্রতিকূল অবস্থার পরেও জাহাঙ্গীর বিশ্ববদ্যালয় থেকে ইতিহাসে মাস্টার্স করেছেন। ইচ্ছা শিক্ষকতা করার, শিক্ষার আলো সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার তীব্র বাসনা।  নিজের ইচ্ছা শক্তি।
 মমতাময়ী মায়ের অধম্য মনোবল আর  প্রেরণায় পাট্যপুস্তক নাদেখে এক অজয়পাড়া গ্রামে থেকে দরিদ্র কৃষকের ছেলে মো: সাইফুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স মাস্টার্স কমপ্লিট কররেছেন।
সাইফুল ইসলাম আবুল কালাম ও রাশেদা বেগম দম্পতির ৩ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে  ২য় সন্তান। তিনি চাঁদপুর ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া (দক্ষিন) ইউনিয়নের   দক্ষিন কড়ৈতলী গ্রামের বাসিন্দ। জন্মেও ২বছর পর শিশুকালেই এক অজানা রোগের কারনে চোখের দৃষ্টিশক্তি  হারান। আর্থিক স্বচ্চলতার অভাবে শিশুপুত্র সাইফুলের চোখের  করাতে  পারেননি চিকিৎসা।   পারিবারিক অভাব-অনটন আর চিকিৎসার অভাবে নিভে যায় শিশু সাইফুল ইসলামের চোখের আলো। পুরোপুরি দৃষ্টি হারোনো শিশু সন্তান সাইফুল ইসলামকে নিয়ে মা রাশেদা বেগমের  শুরু এক অনিশ্চিত পথচলা।  এখন রাশেদা বেগমের ৫সন্তানদের মধ্যে বাকি ৪ সন্তানের কেউই  শিক্ষাজীবনে মাধ্যমিকের সীমা  অতিক্রম নাকরলেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম মাস্টার্স শেষ করেছেন । পুরো পরিবারে সাইফুল ইসলাম একমাত্র উচ্চ শিক্ষিত  এ নিয়ে গর্ব হয় মা রাশেদা বেগমের ।
শিশুকাল থেকে দৃষ্টি হারানো সাইফুল ইসলামের এপথ চলা ততটা সহজ ছিলনা, জীবনের পদে পদে পড়তে সীমাহীন প্রতিবন্ধকতা। সাইফুল ইসলামের  প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষাজীবন কেটেছে  লক্ষীপুর জেলার দাদাল বাজার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্কুলে। উচ্চ মাধ্যমিক কেটেছে ডাকার মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সফলভাবে সম্পন্ন করে  ঢাকা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাইফুল ইসলাম মনে করেন, জীবনে এগিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন অধম্য মনোবল, ইচ্ছা শক্তি ও সাপোর্ট। নানান  সীমাবদ্ধতা  অতিক্রম করে শিক্ষার আলো ছড়াতে বদ্ধকর ভূমিকা রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখাযায় সাইফুল ইসলাম তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মাটফোনের মাধ্যমে চাকরির জন্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  স্মাট ফোনের বিশেষ এ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ব্যবহার করে ফেসবুক, ইউটিউব,হোয়্যাটর্সঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন অনায়াসে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, সাইফুলের পরিবার শুরুতে তাকে ভিক্ষাবৃত্তির কাজ করাতে পারতো, তা নাকরে চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাকে জীবন যুদ্ধে সে এগিয়েগেছে।