০১:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেরত আসা ৪৫ বাংলাদেশি অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল 

দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া গামী ৭০ জনের একটি দল ১১মাস আগে মায়ানমারের নৌ বাহিনীর হাতে আটক হন।
ফেরত আসা বাংলাদেশীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, চার লক্ষ টাকার চুক্তিতে এক দালালের মাধ্যমে কাঠেরবুটে করে তারা মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিল।থাইল্যান্ডের কাছাকাছি তাদের  কাঠের বুট নষ্ট হয়ে গেলে তার পানিতে বাসতে থাকে। এক পর্যায়ে  মায়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে তারা আটক হন। দুঃখ- কষ্টে, খেয়ে না খেয়ে নির্যাতনের মধ্য দীর্ঘ ১১ মাস তারা মায়ানমারের কারাগারে বন্দি ছিলেন।
আজ ৯ জুন, রবিবার, সকাল ১১টায় কক্সবাজার নুনিয়া ছাড়াস্ত বিআইডব্লিউটি ঘাটে বন্দী বিনিময়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সমাপ্তি হয়। মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ ডক ওয়ে ইউএমএস চিন ডুইন থেকে ভোরে ৪৫ বাংলাদেশিকে নিয়ে কক্সবাজারে এসে পৌঁছান।
কর্তৃপক্ষ বলছেন, ৪৫ বাংলাদেশি বিভিন্ন সময় মিয়ানমার বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে তারা বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেন। এখানে কক্সবাজার, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা রয়েছেন বলে তারা জানান।
ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সিতওয়েতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অবিচল প্রচেষ্টার ফলে ৪৫ বাংলাদেশিকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এ দিকে ছেলেকে ফেরত নিতে আসা  রশিদা বেগম উখিয়ার জালিয়া পালং এলাকা থেকে এসেছেন। গত ১১ মাস আগে মালেশিয়া যাওয়ার পথে মায়ানমারে সেনাদের হাতে বন্দি হন তার ছেলে জয়নাল। তিনি জানান, ‘ঈদের আগে ছেলের খবর পান তিনি। এরপর থেকে ছেলের জন্য বিভিন্ন সময় খরচের টাকা পাঠাতেন। অথচ নিজে খাওয়ার টাকা নেই। কিছু না খেয়ে ছেলেকে নিতে ছুটে এসেছি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি আমার ছেলেকে ফেরত পেয়ে।
রামু গর্জনিয়ার আবু বক্কর সিদ্দিক (২০) বলেন, আমরা মালেশিয়া যাচ্ছিলাম,মাঝপথে আমাদের বোট নষ্ট হয়ে গেলে মায়ানমারের নৌবাহিনী আমাদেরকে আটক করে জেলখানায় নিয়ে যায়। জেলখানায় ঠিকমত আমাদের খাবার দিত না, প্রায় সময় নির্যাতন করতো আমরা কারো কথা বুঝতাম না আমাদেরকে ওদের ভাষায় গালি দিতো নিয়মিত। কখনো সাদা ভাত কখনো ডাল, খেয়ে না খেয়ে ১১ মাস পার করেছি।
মায়ানমার কারাগার থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ যুবক মোঃ মোবারক হোসেন (১৫) তার কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, টেকনাফের শাপলা চত্বর এলাকার হাইদার আলী নামের এক দালালের সাথে চার লাখ টাকার চুক্তিতে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। থাইল্যান্ডের কাছাকাছি গিয়ে আমাদের বোট নষ্ট হয়ে গেলে মায়ানমারের নৌ বাহিনীর হাতে আমরা আটক হয়। তারপর দীর্ঘ ১১ মাস খেয়ে না খেয়ে দিনপাত করেছি। আমরা ৪৫ জন ফেরত আসতে পেরেছি। রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মিলে আরো ৩৫ জন মতো আসতে পারেনি। তারা এখন কোথায় আছে আমরা জানি না।
গত ২৩ এপ্রিল, মিয়ানমার থেকে ১৭৩ জন বাংলাদেশীকে ফেরত এনেছেন বাংলাদেশ সরকার।  অপরদিকে আজ ৯ জুন, বাংলাদেশ সরকার, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩৪ বিজিপি ও সেনা সদস্য ফেরত পাঠালেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

আপিল শুনানির অষ্টম দিনে ৪৫ আবেদন মঞ্জুর করল ইসি

ফেরত আসা ৪৫ বাংলাদেশি অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল 

আপডেট সময় : ০৬:১৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪
দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে মালয়েশিয়া গামী ৭০ জনের একটি দল ১১মাস আগে মায়ানমারের নৌ বাহিনীর হাতে আটক হন।
ফেরত আসা বাংলাদেশীদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, চার লক্ষ টাকার চুক্তিতে এক দালালের মাধ্যমে কাঠেরবুটে করে তারা মালয়েশিয়া পাড়ি দিচ্ছিল।থাইল্যান্ডের কাছাকাছি তাদের  কাঠের বুট নষ্ট হয়ে গেলে তার পানিতে বাসতে থাকে। এক পর্যায়ে  মায়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে তারা আটক হন। দুঃখ- কষ্টে, খেয়ে না খেয়ে নির্যাতনের মধ্য দীর্ঘ ১১ মাস তারা মায়ানমারের কারাগারে বন্দি ছিলেন।
আজ ৯ জুন, রবিবার, সকাল ১১টায় কক্সবাজার নুনিয়া ছাড়াস্ত বিআইডব্লিউটি ঘাটে বন্দী বিনিময়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সমাপ্তি হয়। মিয়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজ ডক ওয়ে ইউএমএস চিন ডুইন থেকে ভোরে ৪৫ বাংলাদেশিকে নিয়ে কক্সবাজারে এসে পৌঁছান।
কর্তৃপক্ষ বলছেন, ৪৫ বাংলাদেশি বিভিন্ন সময় মিয়ানমার বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে তারা বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেন। এখানে কক্সবাজার, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা রয়েছেন বলে তারা জানান।
ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সিতওয়েতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অবিচল প্রচেষ্টার ফলে ৪৫ বাংলাদেশিকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
এ দিকে ছেলেকে ফেরত নিতে আসা  রশিদা বেগম উখিয়ার জালিয়া পালং এলাকা থেকে এসেছেন। গত ১১ মাস আগে মালেশিয়া যাওয়ার পথে মায়ানমারে সেনাদের হাতে বন্দি হন তার ছেলে জয়নাল। তিনি জানান, ‘ঈদের আগে ছেলের খবর পান তিনি। এরপর থেকে ছেলের জন্য বিভিন্ন সময় খরচের টাকা পাঠাতেন। অথচ নিজে খাওয়ার টাকা নেই। কিছু না খেয়ে ছেলেকে নিতে ছুটে এসেছি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি আমার ছেলেকে ফেরত পেয়ে।
রামু গর্জনিয়ার আবু বক্কর সিদ্দিক (২০) বলেন, আমরা মালেশিয়া যাচ্ছিলাম,মাঝপথে আমাদের বোট নষ্ট হয়ে গেলে মায়ানমারের নৌবাহিনী আমাদেরকে আটক করে জেলখানায় নিয়ে যায়। জেলখানায় ঠিকমত আমাদের খাবার দিত না, প্রায় সময় নির্যাতন করতো আমরা কারো কথা বুঝতাম না আমাদেরকে ওদের ভাষায় গালি দিতো নিয়মিত। কখনো সাদা ভাত কখনো ডাল, খেয়ে না খেয়ে ১১ মাস পার করেছি।
মায়ানমার কারাগার থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ যুবক মোঃ মোবারক হোসেন (১৫) তার কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, টেকনাফের শাপলা চত্বর এলাকার হাইদার আলী নামের এক দালালের সাথে চার লাখ টাকার চুক্তিতে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। থাইল্যান্ডের কাছাকাছি গিয়ে আমাদের বোট নষ্ট হয়ে গেলে মায়ানমারের নৌ বাহিনীর হাতে আমরা আটক হয়। তারপর দীর্ঘ ১১ মাস খেয়ে না খেয়ে দিনপাত করেছি। আমরা ৪৫ জন ফেরত আসতে পেরেছি। রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মিলে আরো ৩৫ জন মতো আসতে পারেনি। তারা এখন কোথায় আছে আমরা জানি না।
গত ২৩ এপ্রিল, মিয়ানমার থেকে ১৭৩ জন বাংলাদেশীকে ফেরত এনেছেন বাংলাদেশ সরকার।  অপরদিকে আজ ৯ জুন, বাংলাদেশ সরকার, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৩৪ বিজিপি ও সেনা সদস্য ফেরত পাঠালেন।