০৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অতি শিগগিরই ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা সেনা প্রধানের

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশবাসীর উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে বলেছেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করায় দেশ পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।
গতকাল সোমবার বিকালে সেনা সদর দপ্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আমরা চমৎকার আলোচনা করেছি। আমরা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘সব হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের বিচার করা হবে, আপনারা সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা রাখুন।’
তিনি সহিংসতার পথ ছেড়ে সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান এবং ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
গতকাল সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে দেশের চলমান সংকট নিরসনে সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনী প্রধান দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একথা বলেন।
আলোচনায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতপূর্বক ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও রূপরেখা প্রণয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধান অতি শিগগিরই ছাত্র-শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সেনাবাহিনী প্রধান ছাত্র-ছাত্রীসহ দলমত নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, জাতীয় পার্টির জিএম কাদের, মুজিবুল হক চুন্নু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, হেফাজতে ইসলামের মাওলানা মামুনুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, খেলাফত মজলিসের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, হামিদুর রহমান আজাদসহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।
বিকালে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান বলেন, দেশের সব কার্যক্রম এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমরা এখন মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করব; যার মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, দয়া করে, সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর উপর আস্থা রাখুন। আমি সমস্ত দায়িত্ব নিচ্ছি এবং জনগণের জানমাল রক্ষার অঙ্গীকার করছি। আপনারা আশা হারাবেন না। আমরা আপনাদের প্রতিটি দাবি পূরণ করব এবং শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবো, ইনশাআল্লাহ।
সেনাপ্রধান সশস্ত্র বাহিনীকে সহযোগিতা করার এবং ভাঙচুর, হত্যা ও সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সদস্যসহ সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দয়া করে আমাকে সহযোগিতা করুন। সংঘর্ষের পথ ধরে আমরা এর বেশি কিছু অর্জন করতে পারিনি। তাই, দয়া করে সব প্রকার ধ্বংস, নৈরাজ্য এবং দ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকুন। ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাব।
ওয়াকার-উজ-জামান জনগণকে ধৈর্য ধরতে এবং সঙ্কট নিরসনে কিছু দেওয়ার আহ্বান জানান।
দয়া করে, সংঘর্ষের পথে না গিয়ে শান্তি ও শৃঙ্খলার পথে ফিরে আসুন, উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মানুষ নিহত হয়েছে।
কারফিউ অব্যাহত থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে কোনো কারফিউ বা জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, আমি সেনাবাহিনী ও পুলিশ কর্মীদের গুলি না চালানোর নির্দেশ দিচ্ছি। আমি আশা করি, আমার ভাষণের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কারণ, আমরা একটি সুন্দর পরিবেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
তার বক্তব্যের পর সব ছাত্র শিক্ষক প্রতিনিধির সঙ্গে অতি শিগগিরই সরাসরি বসবেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলে আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ দলীয় জোট প্রার্থীকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন 

অতি শিগগিরই ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা সেনা প্রধানের

আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অগাস্ট ২০২৪

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশবাসীর উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে বলেছেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করায় দেশ পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।
গতকাল সোমবার বিকালে সেনা সদর দপ্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আমরা চমৎকার আলোচনা করেছি। আমরা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘সব হত্যাকাণ্ড ও অন্যায়ের বিচার করা হবে, আপনারা সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা রাখুন।’
তিনি সহিংসতার পথ ছেড়ে সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান এবং ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
গতকাল সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে দেশের চলমান সংকট নিরসনে সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনী প্রধান দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একথা বলেন।
আলোচনায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতপূর্বক ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও রূপরেখা প্রণয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
একই সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধান অতি শিগগিরই ছাত্র-শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অচিরেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সেনাবাহিনী প্রধান ছাত্র-ছাত্রীসহ দলমত নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, জাতীয় পার্টির জিএম কাদের, মুজিবুল হক চুন্নু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, হেফাজতে ইসলামের মাওলানা মামুনুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, খেলাফত মজলিসের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, হামিদুর রহমান আজাদসহ আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।
বিকালে দেওয়া ভাষণে সেনাপ্রধান বলেন, দেশের সব কার্যক্রম এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বারা পরিচালিত হবে।
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমরা এখন মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করব; যার মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, দয়া করে, সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর উপর আস্থা রাখুন। আমি সমস্ত দায়িত্ব নিচ্ছি এবং জনগণের জানমাল রক্ষার অঙ্গীকার করছি। আপনারা আশা হারাবেন না। আমরা আপনাদের প্রতিটি দাবি পূরণ করব এবং শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবো, ইনশাআল্লাহ।
সেনাপ্রধান সশস্ত্র বাহিনীকে সহযোগিতা করার এবং ভাঙচুর, হত্যা ও সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সদস্যসহ সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দয়া করে আমাকে সহযোগিতা করুন। সংঘর্ষের পথ ধরে আমরা এর বেশি কিছু অর্জন করতে পারিনি। তাই, দয়া করে সব প্রকার ধ্বংস, নৈরাজ্য এবং দ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকুন। ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাব।
ওয়াকার-উজ-জামান জনগণকে ধৈর্য ধরতে এবং সঙ্কট নিরসনে কিছু দেওয়ার আহ্বান জানান।
দয়া করে, সংঘর্ষের পথে না গিয়ে শান্তি ও শৃঙ্খলার পথে ফিরে আসুন, উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বহু মানুষ নিহত হয়েছে।
কারফিউ অব্যাহত থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে কোনো কারফিউ বা জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, আমি সেনাবাহিনী ও পুলিশ কর্মীদের গুলি না চালানোর নির্দেশ দিচ্ছি। আমি আশা করি, আমার ভাষণের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কারণ, আমরা একটি সুন্দর পরিবেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।
তার বক্তব্যের পর সব ছাত্র শিক্ষক প্রতিনিধির সঙ্গে অতি শিগগিরই সরাসরি বসবেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলে আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।