০৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাওর -বাওরের ভাটি অঞ্চল নেত্রকোণা

  • সবুজ বাংলা
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩
  • 184

 নেত্রকোণা প্রতিনিধি

ভাটি বাংলা নামে খ্যাত,মহুয়া মলুয়ার উর্বর ভূমি  হাওর-বাওর,নদী-নালা,খাল-বিলের জেলা নেত্রকোণা। এক সময় নদীর জংশনে জমে উঠত সপ্তাহে বিশাল হাটের ইমেজ। নৌকা করে হাটের দিনে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করে মিটাত পরিবারের চাহিদা। সপ্তাহে যেন ঈদের আনন্দ লেগে থাকত গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে। সুদূর অতীত থেকে আতিথেয়তার গুনে গুণান্বিত সহজ সরল নেত্রকোনার মানুষ প্রকৃতির মতোই সহজ ও মানবিক। বর্ষাকালে একমাত্র নৌকাই ছিল যোগাযোগের মাধ্যম। বিবাহ বা আনন্দ ভ্রমণ সব রকম আনুষ্ঠানিকতা নৌকার মাধ্যমে হত। আজ এর বিপরীতে এ সব কিছুই স্থল যোগাযোগই প্রধান। কালের গতিতে সব কিছুই যেন হারাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে এর ঐতিহ্য। খালের মৃত্যু আগেই ঘটেছে। নতুন প্রজন্ম খাল চিনে না। খালের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এক নদী থেকে আরেক নদীর মাঝে সেতু বন্ধনের কাজ। এখন খাল তো দূরের কথা নদী গুলো প্রায় মৃত। বন্যার ঘন ঘন প্রাদুর্ভাব এবং ফসল ও জান মালের ক্ষতি এর ফলেই ঘটছে। অধিকন্তু রাস্তা, ঘাট, বাড়ি ঘর তৈরির সাথে সাথে বিশাল জলাভূমি  মারাত্মক ভাবে কমে আসছে। ফলে বন্যার মতো দুর্যোগ মহা দুর্যোগে পরিণত হতে পারে। নদী গুলো স্থল পরিবহন ব্যবসায়ীর স্বার্থের কবলে। ফলে নদীর মৃত্যু আরো বেশি ত্বরান্বিত হচ্ছে। নদীর উপর তৈরি হচ্ছে অপরিকল্পিত সেতু। ফলে নৌকা চলাচল বিঘ্ন ঘটায় নৌপরিবহন থেমে গেছে। আমারা জানি স্থল পরিবহনের চেয়ে নৌপরিবহনের পরিবহন খরচ কম। এ সময়ে এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। এখন আর হাট নেই, শহর আর শহর। শহরের প্রবেশদ্বার যেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নিচু নিচু সেতু নির্মাণ করে নতুবা শহর পরিবেষ্টিত নদী গুলো  নৌচলাচলের শোভায় দৃষ্টি নন্দিত হত। অন্যদিকে যান জটের জামেলা কিছুটা হলেও লাঘব হত আর কমত পরিবহন খরচ, দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্ব গতির এ সময়ে। নদী গুলোকে ড্রেজিং এর মাধ্যমে খনন করার এখনই উপযুক্ত সময়। নদীর সেই হারানো জোয়ার ফিরে আসুক আর ফিরে আসুক নৌচলাচলের সেই দৃশ্য।  এবার আসা যাক হাওরের কথা যার কারণে নেত্রবাসি ভাটি বাংলা নামে পরিচিত। হাওরের রয়েছে দুটো রূপ একটি বর্ষাকালের আর অন্যটি গ্রীষ্মকালের। বর্ষার সমুদ্র সদৃশ দিগন্ত জোড়া জলরাশি যেমন মনকে আনন্দে ভাসিয়ে নিয়ে যায় দিগন্ত ছুঁয়ায় তেমনি সমৃদ্ধ করে মাছের অভয়ারণ্যের বিশাল খনিতে। আর শুষ্ক মৌসুমে চলে আবারিত সবুজ সম্ভারের ধান্যের কৃপা। তবে এ কথা বলা আবশ্যক, যদি ফসল নষ্ট না হয়। হাওর হল হাওরবাসির সুখ, দুঃখ আর আনন্দের,স্বপ্নের গাঁথা মালা। মাঝে মাঝে বাঁধ ভাঙার কারণে ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে কৃষকের সর্বনাশ করে দেয়। তাই টেকসই ও সুপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ হাওর কৃষকের দাবি। তাই হাওরবাসির স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধার মাধ্যমে সুনাগরিক গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হয়েছে হাওর মন্ত্রনালয় বাস্তবায়ন  ফোরাম। এ ফোরামের অন্তর্ভুক্ত নেত্রকোণা ,কিশোরগঞ্জ , সিলেট, সুনামগঞ্জ হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার। হাওরবাসির বিশাল এলাকা নিয়ে হাওর মন্ত্রনালয়ের আবেদন যুক্তি যুক্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ আত্মপ্রকাশ করলো রাজধানীতে

হাওর -বাওরের ভাটি অঞ্চল নেত্রকোণা

আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর ২০২৩

 নেত্রকোণা প্রতিনিধি

ভাটি বাংলা নামে খ্যাত,মহুয়া মলুয়ার উর্বর ভূমি  হাওর-বাওর,নদী-নালা,খাল-বিলের জেলা নেত্রকোণা। এক সময় নদীর জংশনে জমে উঠত সপ্তাহে বিশাল হাটের ইমেজ। নৌকা করে হাটের দিনে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করে মিটাত পরিবারের চাহিদা। সপ্তাহে যেন ঈদের আনন্দ লেগে থাকত গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে। সুদূর অতীত থেকে আতিথেয়তার গুনে গুণান্বিত সহজ সরল নেত্রকোনার মানুষ প্রকৃতির মতোই সহজ ও মানবিক। বর্ষাকালে একমাত্র নৌকাই ছিল যোগাযোগের মাধ্যম। বিবাহ বা আনন্দ ভ্রমণ সব রকম আনুষ্ঠানিকতা নৌকার মাধ্যমে হত। আজ এর বিপরীতে এ সব কিছুই স্থল যোগাযোগই প্রধান। কালের গতিতে সব কিছুই যেন হারাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে এর ঐতিহ্য। খালের মৃত্যু আগেই ঘটেছে। নতুন প্রজন্ম খাল চিনে না। খালের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এক নদী থেকে আরেক নদীর মাঝে সেতু বন্ধনের কাজ। এখন খাল তো দূরের কথা নদী গুলো প্রায় মৃত। বন্যার ঘন ঘন প্রাদুর্ভাব এবং ফসল ও জান মালের ক্ষতি এর ফলেই ঘটছে। অধিকন্তু রাস্তা, ঘাট, বাড়ি ঘর তৈরির সাথে সাথে বিশাল জলাভূমি  মারাত্মক ভাবে কমে আসছে। ফলে বন্যার মতো দুর্যোগ মহা দুর্যোগে পরিণত হতে পারে। নদী গুলো স্থল পরিবহন ব্যবসায়ীর স্বার্থের কবলে। ফলে নদীর মৃত্যু আরো বেশি ত্বরান্বিত হচ্ছে। নদীর উপর তৈরি হচ্ছে অপরিকল্পিত সেতু। ফলে নৌকা চলাচল বিঘ্ন ঘটায় নৌপরিবহন থেমে গেছে। আমারা জানি স্থল পরিবহনের চেয়ে নৌপরিবহনের পরিবহন খরচ কম। এ সময়ে এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প নেই। এখন আর হাট নেই, শহর আর শহর। শহরের প্রবেশদ্বার যেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নিচু নিচু সেতু নির্মাণ করে নতুবা শহর পরিবেষ্টিত নদী গুলো  নৌচলাচলের শোভায় দৃষ্টি নন্দিত হত। অন্যদিকে যান জটের জামেলা কিছুটা হলেও লাঘব হত আর কমত পরিবহন খরচ, দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্ব গতির এ সময়ে। নদী গুলোকে ড্রেজিং এর মাধ্যমে খনন করার এখনই উপযুক্ত সময়। নদীর সেই হারানো জোয়ার ফিরে আসুক আর ফিরে আসুক নৌচলাচলের সেই দৃশ্য।  এবার আসা যাক হাওরের কথা যার কারণে নেত্রবাসি ভাটি বাংলা নামে পরিচিত। হাওরের রয়েছে দুটো রূপ একটি বর্ষাকালের আর অন্যটি গ্রীষ্মকালের। বর্ষার সমুদ্র সদৃশ দিগন্ত জোড়া জলরাশি যেমন মনকে আনন্দে ভাসিয়ে নিয়ে যায় দিগন্ত ছুঁয়ায় তেমনি সমৃদ্ধ করে মাছের অভয়ারণ্যের বিশাল খনিতে। আর শুষ্ক মৌসুমে চলে আবারিত সবুজ সম্ভারের ধান্যের কৃপা। তবে এ কথা বলা আবশ্যক, যদি ফসল নষ্ট না হয়। হাওর হল হাওরবাসির সুখ, দুঃখ আর আনন্দের,স্বপ্নের গাঁথা মালা। মাঝে মাঝে বাঁধ ভাঙার কারণে ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে কৃষকের সর্বনাশ করে দেয়। তাই টেকসই ও সুপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ হাওর কৃষকের দাবি। তাই হাওরবাসির স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধার মাধ্যমে সুনাগরিক গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত হয়েছে হাওর মন্ত্রনালয় বাস্তবায়ন  ফোরাম। এ ফোরামের অন্তর্ভুক্ত নেত্রকোণা ,কিশোরগঞ্জ , সিলেট, সুনামগঞ্জ হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার। হাওরবাসির বিশাল এলাকা নিয়ে হাওর মন্ত্রনালয়ের আবেদন যুক্তি যুক্ত।