১০:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাহরাইনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৫-০ গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় দুই দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশের নারী দলের স্বপ্ন ছিল এশিয়ান পর্যায়ের দেশগুলোর মুখোমুখি হওয়া।  বাংলাদেশ আদৌ এশিয়ার দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে কিনা সেই পরীক্ষা দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন আফঈদা খন্দকাররা।

অবশেষে সেই সুযোগটা পেয়েই জ্বলে উঠেছে বাংলাদেশ নারী দল। রবিবার ইয়াঙ্গুনে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রথমার্ধে ৫-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তহুরা খাতুন করেছেন জোড়া গোল। একটি করে গোল করেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা, কোহাতি কিসকু । এই পাঁচ গোলের দুটি অ্যাসিস্ট করেন মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ বাহরাইনের চেয়ে ৩৬ ধাপ পিছিয়ে। যেখানে বাহরাইনের র‌্যাঙ্কিং ৯২, বাংলাদেশের ১২৮। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই ছাপ মোটেও ছিল না।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ পুরো অলআউট ফুটবল খেলেছে। বল পজিশনেও সারাক্ষণ এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।

ম্যাচের ৯ মিনিটে প্রথমে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। মাঝ মাঠ থেকে স্বপ্না রানীর লং বল ধরে বক্সে ঢোকেন শামসুন্নাহার। এরপর বাহরাইনের গোলরক্ষক খুলুদ সালে আবদুল্লাহকে একা পেয়ে বাম পা দুর্দান্ত গোল করেন শামসুন্নাহার।

ম্যাচের ১৫ মিনিটে ঋতুপর্ণার গোলটি ছিল চোখ জুড়ানো। এবারও গোলের কারিগর স্বপ্না রানী। মাঝ মাঠ থেকে স্বপ্নার লং বল ধরে ঋতুপর্ণা বক্সে ঢোকেন। এরপর রংধনু শটে দুর্দান্ত গোল করলেন। বল পাঠিয়ে দেন বাহরাইনের গোলরক্ষক খুলুদ সালে আবদুল্লাহর মাথার ওপর দিয়ে। ২-০ তে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এদিন ঋতুপর্ণার একমাত্র ছোট ভাই পার্বণের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। গোলটা নিশ্চয় ছোট ভাইকে উৎসর্গ করেছেন ঋতুপর্ণা।

ম্যাচে এরপর  গোলের ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। কিন্তু ১৮ মিনিটে ঋতুপর্ণার বাড়িয়ে দেওয়া বল তহুরা পায়ে লাগাতে পারেননি। ২৪ মিনিটে বাহরাইনের গোলরক্ষককে একা পেয়েও মনিকা চাকমা বল তুলে দেন বারের ওপর দিয়ে।

৩৯ মিনিটে কর্ণার থেকে একটি বল দেন ঋতুপর্ণা। সেই বলটি বক্সের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। এরপর বাহরাইনের ডিফেন্ডারের পায়ে লাগলে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কোহাতি আলতো টোকায় করেন ৩-০।

বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তহুরা খাতুন করেন জোড়া গোল। প্রথমে একক চেষ্টায় স্কোরলাইন ৪-০ করেন। এরপর শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। স্কোর লাইন হলো ৫-০।

বাংলাদেশ এবারের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে খেলছে ‘সি’ গ্রুপে। এই গ্রুপের তিন দলের মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১২৮তম) পেছনে কেবল তুর্কমেনিস্তান (১৪১তম)। বাহরাইনের (৯২তম) চেয়েও এগিয়ে স্বাগতিক মিয়ানমার (৫৫তম)। বাছাইয়ের আট গ্রুপের সেরা আট দল পাবে মূল পর্বে খেলার টিকেট। বাংলাদেশের জন্য তাই পথটা মসৃণ নয় মোটেও।

মূলত এশিয়ান দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের এই চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের শুরুটা মে মাসে। জর্ডানে গিয়ে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে খেলে ইন্দোনেশিয়া ও জর্ডানের সঙ্গে। যেখানে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। আর জর্ডানের সঙ্গে পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে। শক্তিশালী এই দুই দলের সঙ্গে ড্রয়ের আত্মবিশ্বাস যে এই ম্যাচে কাজে দিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশ : রুপনা চাকমা, শিউলি আজিম, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার সিনিয়র, কোহাতি কিসকু, মনিকা চাকমা, স্বপ্না রানী, মারিয়া মান্দা, তহুরা খাতুন, ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র।

জনপ্রিয় সংবাদ

উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

বাহরাইনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৫-০ গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ জুন ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ায় দুই দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাংলাদেশের নারী দলের স্বপ্ন ছিল এশিয়ান পর্যায়ের দেশগুলোর মুখোমুখি হওয়া।  বাংলাদেশ আদৌ এশিয়ার দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে কিনা সেই পরীক্ষা দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন আফঈদা খন্দকাররা।

অবশেষে সেই সুযোগটা পেয়েই জ্বলে উঠেছে বাংলাদেশ নারী দল। রবিবার ইয়াঙ্গুনে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রথমার্ধে ৫-০ গোলে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তহুরা খাতুন করেছেন জোড়া গোল। একটি করে গোল করেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা, কোহাতি কিসকু । এই পাঁচ গোলের দুটি অ্যাসিস্ট করেন মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ বাহরাইনের চেয়ে ৩৬ ধাপ পিছিয়ে। যেখানে বাহরাইনের র‌্যাঙ্কিং ৯২, বাংলাদেশের ১২৮। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই ছাপ মোটেও ছিল না।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ পুরো অলআউট ফুটবল খেলেছে। বল পজিশনেও সারাক্ষণ এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।

ম্যাচের ৯ মিনিটে প্রথমে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। মাঝ মাঠ থেকে স্বপ্না রানীর লং বল ধরে বক্সে ঢোকেন শামসুন্নাহার। এরপর বাহরাইনের গোলরক্ষক খুলুদ সালে আবদুল্লাহকে একা পেয়ে বাম পা দুর্দান্ত গোল করেন শামসুন্নাহার।

ম্যাচের ১৫ মিনিটে ঋতুপর্ণার গোলটি ছিল চোখ জুড়ানো। এবারও গোলের কারিগর স্বপ্না রানী। মাঝ মাঠ থেকে স্বপ্নার লং বল ধরে ঋতুপর্ণা বক্সে ঢোকেন। এরপর রংধনু শটে দুর্দান্ত গোল করলেন। বল পাঠিয়ে দেন বাহরাইনের গোলরক্ষক খুলুদ সালে আবদুল্লাহর মাথার ওপর দিয়ে। ২-০ তে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। এদিন ঋতুপর্ণার একমাত্র ছোট ভাই পার্বণের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। গোলটা নিশ্চয় ছোট ভাইকে উৎসর্গ করেছেন ঋতুপর্ণা।

ম্যাচে এরপর  গোলের ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। কিন্তু ১৮ মিনিটে ঋতুপর্ণার বাড়িয়ে দেওয়া বল তহুরা পায়ে লাগাতে পারেননি। ২৪ মিনিটে বাহরাইনের গোলরক্ষককে একা পেয়েও মনিকা চাকমা বল তুলে দেন বারের ওপর দিয়ে।

৩৯ মিনিটে কর্ণার থেকে একটি বল দেন ঋতুপর্ণা। সেই বলটি বক্সের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। এরপর বাহরাইনের ডিফেন্ডারের পায়ে লাগলে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কোহাতি আলতো টোকায় করেন ৩-০।

বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তহুরা খাতুন করেন জোড়া গোল। প্রথমে একক চেষ্টায় স্কোরলাইন ৪-০ করেন। এরপর শামসুন্নাহার জুনিয়রের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। স্কোর লাইন হলো ৫-০।

বাংলাদেশ এবারের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে খেলছে ‘সি’ গ্রুপে। এই গ্রুপের তিন দলের মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের (১২৮তম) পেছনে কেবল তুর্কমেনিস্তান (১৪১তম)। বাহরাইনের (৯২তম) চেয়েও এগিয়ে স্বাগতিক মিয়ানমার (৫৫তম)। বাছাইয়ের আট গ্রুপের সেরা আট দল পাবে মূল পর্বে খেলার টিকেট। বাংলাদেশের জন্য তাই পথটা মসৃণ নয় মোটেও।

মূলত এশিয়ান দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের এই চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের শুরুটা মে মাসে। জর্ডানে গিয়ে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে খেলে ইন্দোনেশিয়া ও জর্ডানের সঙ্গে। যেখানে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। আর জর্ডানের সঙ্গে পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র করে। শক্তিশালী এই দুই দলের সঙ্গে ড্রয়ের আত্মবিশ্বাস যে এই ম্যাচে কাজে দিয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশ : রুপনা চাকমা, শিউলি আজিম, আফঈদা খন্দকার, শামসুন্নাহার সিনিয়র, কোহাতি কিসকু, মনিকা চাকমা, স্বপ্না রানী, মারিয়া মান্দা, তহুরা খাতুন, ঋতুপর্ণা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র।