সাফের গণ্ডি পেরিয়ে এবার স্বপ্ন বিশ্বকাপ » দৈনিক সবুজ বাংলা
০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কিরণের চোখে ঋতুপর্ণা ‘বাংলাদেশের মেসি’

সাফের গণ্ডি পেরিয়ে এবার স্বপ্ন বিশ্বকাপ

  • রুমেল খান
  • আপডেট সময় : ১২:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • 102

এক ম্যাচ হাতে রেখেই এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করা গেছে। কাজেই সুইমিংপুলে এমন ফুরফুরে মেজাজেই তো দেখা যাবে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে। ছবি : বাফুফে

প্রবাদে আছে, ‘বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে সাগর অতল।’ ২০১০ সালে প্রথম ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল শুরুতে বিপক্ষ দলগুলোর কাছে কাঁড়ি কাঁড়ি গোল হজম করতো। সেই সঙ্গে তাদের নিয়ে হাসাহাসি হতো। হতো ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল থেকে একঝাঁক নতুন-প্রতিভাময়ী ফুটবলারকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এল বাফুফে। তাদেরকে একসঙ্গে বাফুফের ভবনে রেখে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলো। এর সুফল ধীরে ধীরে আসতে শুরু করলো। কয়েক বছরের মধ্যে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় একের পর এক চোখ ধাঁধাঁনো সাফল্য আসতে শুরু করলো কিংবদন্তী কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের কোচিংয়ে। জুনিয়র ফুটবলাররা ধীরে ধীরে পরিণত হয়ে সিনিয়র দলেও প্রতিভার ছাপ রাখতে শুরু করলেন। ২০২২ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়লো ছোটনের শিষ্যারা। ছোটন দায়িত্ব ছেড়ে দিলে নতুন কোচ হন পিটার বাটলার। অনেকেই ভেবেছিলেন এই ব্রিটিশ কোচ ব্যর্থ হবেন। কিন্তু ২০২৪ সাফেও তার অধীনে ব্যাক টু ব্যাক শিরোপা জেতে বাংলার বাঘিনীরা। এরপরেই ঘটে বিপত্তি। ১৮ ফুটবলার বিদ্রোহ করেন। তারা আপত্তি করলেন বাটলারের অধীনে খেলতে। বাফুফে সমর্থন করলো বাটলারকেই। বিদ্রোহীদের অধিকাংশকে বাদ দিয়েই বাটলার চ্যালেঞ্জ নেন পরবর্তী মিশনের, যার নাম ‘এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব।’

অনেকেই ভেবেছিল গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়বে বাংলাদেশ। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই এএফসি নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় বাটলারের বাহিনী! এই সুবাদে ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরের মূলপর্বে খেলবে লাল-সবুজ বাহিনী। সাফে চ্যাম্পিয়ন হবার পর এখন পর্যন্ত এটাই নারী দলের সেরা সাফল্য। চূড়ান্ত পর্বে খেলতে গিয়ে যদি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারে, তাহলে ২০২৭ ফিফা নারী বিশ্বকাপেও খেলার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে ঋতুপর্ণাদের। যার জোড়া গোলে মিয়ানমারকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত হয়েছে, সেই ঋতুপর্ণা চাকমার চাকমার ভূয়সী প্রশংসা করলেন বাফুফের নারী ফুটবল উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। গতকাল বাফুফে ভবনে নিজের অফিসরুমে বসে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতুপর্ণাকে ‘বাংলাদেশের মেসি’ বললেন তিনি!

মাহফুজা আক্তার কিরণ

কিরণের ভাষায়, ‘ঋতুপর্ণা বাংলাদেশের মেসি। হামজাও ভালো ফুটবলার কোনো সন্দেহ নেই। হামজা আমাদের দেশের জন্য গর্বের। সামনে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ আছে। আমার বিশ্বাস সেখানেও হামজা ভালো করবে। ছেলেরাও এগিয়ে যাবে। ছেলে-মেয়ে দুটো দলই আমাদের, তুলনা করার কিছু নেই। কিন্তু ঋতু আমাদের মেসি, এটার বলার অপেক্ষা নেই। ও যেভাবে বল টেনে নিয়ে যায়, মেসি ছাড়া আর কারও মতো নয়।’

ঋতুদের ওপর কিরণের প্রভাব যে কতটা, সেটা পরিস্কার হবে কিরণের কথায়, ‘আমার কথা মেয়েদের কাছে সংবিধানের মতো। ম্যাচের আগে আমি তাদের শপথ পড়াই, কথা বলি। আমি যা যা বলি, ওরা ঠিক সেগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করে। এ থেকেই বোঝা যায় ওদের নিবেদন ও শৃঙ্খলা কতটুকু আছে। মিয়ানমার ম্যাচের আগে যখন শপথ পড়িয়েছিলাম, একটা কথা বলেছিলাম তাদের ২০ মিনিটের ভেতর অবশ্যই গোল করবে। সেটার জন্যই মাঠে নামবে। এগিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ওরা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। ওদের মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য এটা তোমাদের করতে হবে। ঋতুপর্ণা কিন্ত ১৮ মিনিটে গোল করেছে, তারা সেই কথা রেখেছে এবং রূপনাকে যা বলেছি গোলপোস্টে ঠিক সেটাই করেছে। প্রতিটা জিনিস যা যা বলেছি সব খেলোয়াড় তা করেছে।’
তাই বলে কিরণ নিজেকে ‘কোচ’ দাবি করতে চান না। এক্ষেত্রে কৃতিত্ব দেন দলের কোচকেই, ‘ধন্যবাদ পিটার বাটলারকে। তিনি অনেক ভালো কোচ। তিনি জানেন ডাগআউটে থেকে কীভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হবে।’

এশিয়ান কাপে মূলপর্বে যাওয়ার অনুভূতি কিরণ জানান এভাবে, ‘এটা আমাদের জন্য অনেক বেশি সম্মানের। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা এশিয়া থেকে বার্তা পেয়েছি। কারণ আমি এএফসির নির্বাহী কমিটির সদস্য, ফিফা কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলাম। বিশ্বব্যাপী সবার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। এই সফলতার জন্য সবাই আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বলেছে আমাদের পরিশ্রমের জন্য এটা সম্ভব হয়েছে।’

২০২৬-এর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ হবে। এ প্রসঙ্গে কিরণ তার ভাবনা-পরিকল্পনার কথাও জানান, ‘ সেখানেও আমাদের অনেক সুযোগ আছে। সেরা ছয়টি দল চলে যাবে বিশ্বকাপে। পরের দুটি দল আবার খেলবে অলিম্পিকে। কাল-পরশুর ভেতরে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। অবশ্যই পরিকল্পনা আছে। কারণ সুযোগ বারবার আসে না। আমাদের যেহেতু সুযোগ এসেছে আমরা সেটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করব। আমরা অবশ্যই আরও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে চাই। কারণ এশিয়ান কাপ যখন খেলবো তখন কিন্তু অনেক শক্তিশালী দেশ খেলবে। জাপান, কোরিয়া, চীন, অস্ট্রেলিয়া থাকবে। তাই সেই প্রস্তুতি নিয়েই আমাদের যেতে হবে। যে কয় মাস পাব, সেটাকে সেভাবে ব্যবহার করব।’

এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য প্রসঙ্গে কিরণ বণেন, ‘আমাদের লক্ষ্য থাকবে সেরা ছয়ে থাকার। আমাদের তো অনেক বড় স্বপ্ন বিশ্বকাপ খেলা। সেটার জন্যই আমরা মাঠে নামব, সেটা জন্যই কাজ করব।

মেয়েদের নিয়ে অন্তত প্রতি সপ্তাহে একবার করে বসি। তাদের প্রেরণা দিই। ওরা জানে ভবিষ্যতের জন্য আরও কী কী করতে হবে। প্রেরণার পাশাপাশি আমরা অনেক বেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলব। এই সময়ের ভেতরে বেশ কিছু শক্তিশালী দলের সঙ্গে আমরা প্রীতি ম্যাচ খেলব নিজেদের তৈরি করার জন্য ঝালাই করার জন্য। যাতে করে এশিয়ান কাপে গিয়ে আমরা ভালো কিছু করতে পারি।’

বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা ইতোমধ্যে ভারত-মালদ্বীপ-ভুটানের লিগে গিয়ে খেলেছেন। আরও উন্নতির জন্য এশিয়ার বাইরের দেশের লিগগুলোতে খেলার প্রসঙ্গে কিরণের ভাষ্য, ‘ওরা যখন অস্ট্রেলিয়াতে যাবে, ঋতুপর্ণা এই লেভেলে খেললে তখন দেখবেন ইউরোপিয়ান ক্লাব থেকে ওর কাছে অফার আসবে। বিভিন্ন দেশ থেকে অফার আসবে। ভুটানে ওরা খেলছে নিজেদের ইচ্ছায় আমরা কিন্তু ভুটানের লিগে খেলানোর পক্ষে না। কারণ ভুটান ভালো কোন লিগ নয়। ওরা যেতে চাচ্ছে, আমরা চিন্তা করলাম ওদের মেন্টাল রিফ্রেশমেন্ট হবে, যাক খেলে আসুক। ভুটান লিগে খেলে তো অবশ্যই উন্নতি করবে না। ওদের ভালো লিগে খেলতে হবে।’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে পাস ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ বিল-২০২৬

কিরণের চোখে ঋতুপর্ণা ‘বাংলাদেশের মেসি’

সাফের গণ্ডি পেরিয়ে এবার স্বপ্ন বিশ্বকাপ

আপডেট সময় : ১২:০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

প্রবাদে আছে, ‘বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে সাগর অতল।’ ২০১০ সালে প্রথম ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল শুরুতে বিপক্ষ দলগুলোর কাছে কাঁড়ি কাঁড়ি গোল হজম করতো। সেই সঙ্গে তাদের নিয়ে হাসাহাসি হতো। হতো ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ। বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল থেকে একঝাঁক নতুন-প্রতিভাময়ী ফুটবলারকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এল বাফুফে। তাদেরকে একসঙ্গে বাফুফের ভবনে রেখে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলো। এর সুফল ধীরে ধীরে আসতে শুরু করলো। কয়েক বছরের মধ্যে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় একের পর এক চোখ ধাঁধাঁনো সাফল্য আসতে শুরু করলো কিংবদন্তী কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের কোচিংয়ে। জুনিয়র ফুটবলাররা ধীরে ধীরে পরিণত হয়ে সিনিয়র দলেও প্রতিভার ছাপ রাখতে শুরু করলেন। ২০২২ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়লো ছোটনের শিষ্যারা। ছোটন দায়িত্ব ছেড়ে দিলে নতুন কোচ হন পিটার বাটলার। অনেকেই ভেবেছিলেন এই ব্রিটিশ কোচ ব্যর্থ হবেন। কিন্তু ২০২৪ সাফেও তার অধীনে ব্যাক টু ব্যাক শিরোপা জেতে বাংলার বাঘিনীরা। এরপরেই ঘটে বিপত্তি। ১৮ ফুটবলার বিদ্রোহ করেন। তারা আপত্তি করলেন বাটলারের অধীনে খেলতে। বাফুফে সমর্থন করলো বাটলারকেই। বিদ্রোহীদের অধিকাংশকে বাদ দিয়েই বাটলার চ্যালেঞ্জ নেন পরবর্তী মিশনের, যার নাম ‘এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব।’

অনেকেই ভেবেছিল গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়বে বাংলাদেশ। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই এএফসি নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় বাটলারের বাহিনী! এই সুবাদে ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরের মূলপর্বে খেলবে লাল-সবুজ বাহিনী। সাফে চ্যাম্পিয়ন হবার পর এখন পর্যন্ত এটাই নারী দলের সেরা সাফল্য। চূড়ান্ত পর্বে খেলতে গিয়ে যদি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারে, তাহলে ২০২৭ ফিফা নারী বিশ্বকাপেও খেলার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে ঋতুপর্ণাদের। যার জোড়া গোলে মিয়ানমারকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত হয়েছে, সেই ঋতুপর্ণা চাকমার চাকমার ভূয়সী প্রশংসা করলেন বাফুফের নারী ফুটবল উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। গতকাল বাফুফে ভবনে নিজের অফিসরুমে বসে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতুপর্ণাকে ‘বাংলাদেশের মেসি’ বললেন তিনি!

মাহফুজা আক্তার কিরণ

কিরণের ভাষায়, ‘ঋতুপর্ণা বাংলাদেশের মেসি। হামজাও ভালো ফুটবলার কোনো সন্দেহ নেই। হামজা আমাদের দেশের জন্য গর্বের। সামনে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ আছে। আমার বিশ্বাস সেখানেও হামজা ভালো করবে। ছেলেরাও এগিয়ে যাবে। ছেলে-মেয়ে দুটো দলই আমাদের, তুলনা করার কিছু নেই। কিন্তু ঋতু আমাদের মেসি, এটার বলার অপেক্ষা নেই। ও যেভাবে বল টেনে নিয়ে যায়, মেসি ছাড়া আর কারও মতো নয়।’

ঋতুদের ওপর কিরণের প্রভাব যে কতটা, সেটা পরিস্কার হবে কিরণের কথায়, ‘আমার কথা মেয়েদের কাছে সংবিধানের মতো। ম্যাচের আগে আমি তাদের শপথ পড়াই, কথা বলি। আমি যা যা বলি, ওরা ঠিক সেগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করে। এ থেকেই বোঝা যায় ওদের নিবেদন ও শৃঙ্খলা কতটুকু আছে। মিয়ানমার ম্যাচের আগে যখন শপথ পড়িয়েছিলাম, একটা কথা বলেছিলাম তাদের ২০ মিনিটের ভেতর অবশ্যই গোল করবে। সেটার জন্যই মাঠে নামবে। এগিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ওরা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। ওদের মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য এটা তোমাদের করতে হবে। ঋতুপর্ণা কিন্ত ১৮ মিনিটে গোল করেছে, তারা সেই কথা রেখেছে এবং রূপনাকে যা বলেছি গোলপোস্টে ঠিক সেটাই করেছে। প্রতিটা জিনিস যা যা বলেছি সব খেলোয়াড় তা করেছে।’
তাই বলে কিরণ নিজেকে ‘কোচ’ দাবি করতে চান না। এক্ষেত্রে কৃতিত্ব দেন দলের কোচকেই, ‘ধন্যবাদ পিটার বাটলারকে। তিনি অনেক ভালো কোচ। তিনি জানেন ডাগআউটে থেকে কীভাবে দলকে এগিয়ে নিতে হবে।’

এশিয়ান কাপে মূলপর্বে যাওয়ার অনুভূতি কিরণ জানান এভাবে, ‘এটা আমাদের জন্য অনেক বেশি সম্মানের। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা এশিয়া থেকে বার্তা পেয়েছি। কারণ আমি এএফসির নির্বাহী কমিটির সদস্য, ফিফা কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলাম। বিশ্বব্যাপী সবার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। এই সফলতার জন্য সবাই আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বলেছে আমাদের পরিশ্রমের জন্য এটা সম্ভব হয়েছে।’

২০২৬-এর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ হবে। এ প্রসঙ্গে কিরণ তার ভাবনা-পরিকল্পনার কথাও জানান, ‘ সেখানেও আমাদের অনেক সুযোগ আছে। সেরা ছয়টি দল চলে যাবে বিশ্বকাপে। পরের দুটি দল আবার খেলবে অলিম্পিকে। কাল-পরশুর ভেতরে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। অবশ্যই পরিকল্পনা আছে। কারণ সুযোগ বারবার আসে না। আমাদের যেহেতু সুযোগ এসেছে আমরা সেটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করব। আমরা অবশ্যই আরও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে চাই। কারণ এশিয়ান কাপ যখন খেলবো তখন কিন্তু অনেক শক্তিশালী দেশ খেলবে। জাপান, কোরিয়া, চীন, অস্ট্রেলিয়া থাকবে। তাই সেই প্রস্তুতি নিয়েই আমাদের যেতে হবে। যে কয় মাস পাব, সেটাকে সেভাবে ব্যবহার করব।’

এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য প্রসঙ্গে কিরণ বণেন, ‘আমাদের লক্ষ্য থাকবে সেরা ছয়ে থাকার। আমাদের তো অনেক বড় স্বপ্ন বিশ্বকাপ খেলা। সেটার জন্যই আমরা মাঠে নামব, সেটা জন্যই কাজ করব।

মেয়েদের নিয়ে অন্তত প্রতি সপ্তাহে একবার করে বসি। তাদের প্রেরণা দিই। ওরা জানে ভবিষ্যতের জন্য আরও কী কী করতে হবে। প্রেরণার পাশাপাশি আমরা অনেক বেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলব। এই সময়ের ভেতরে বেশ কিছু শক্তিশালী দলের সঙ্গে আমরা প্রীতি ম্যাচ খেলব নিজেদের তৈরি করার জন্য ঝালাই করার জন্য। যাতে করে এশিয়ান কাপে গিয়ে আমরা ভালো কিছু করতে পারি।’

বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা ইতোমধ্যে ভারত-মালদ্বীপ-ভুটানের লিগে গিয়ে খেলেছেন। আরও উন্নতির জন্য এশিয়ার বাইরের দেশের লিগগুলোতে খেলার প্রসঙ্গে কিরণের ভাষ্য, ‘ওরা যখন অস্ট্রেলিয়াতে যাবে, ঋতুপর্ণা এই লেভেলে খেললে তখন দেখবেন ইউরোপিয়ান ক্লাব থেকে ওর কাছে অফার আসবে। বিভিন্ন দেশ থেকে অফার আসবে। ভুটানে ওরা খেলছে নিজেদের ইচ্ছায় আমরা কিন্তু ভুটানের লিগে খেলানোর পক্ষে না। কারণ ভুটান ভালো কোন লিগ নয়। ওরা যেতে চাচ্ছে, আমরা চিন্তা করলাম ওদের মেন্টাল রিফ্রেশমেন্ট হবে, যাক খেলে আসুক। ভুটান লিগে খেলে তো অবশ্যই উন্নতি করবে না। ওদের ভালো লিগে খেলতে হবে।’