কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫ পদে লড়ছেন ১৭৭ জন
কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি পদে ৯ এবং জিএস পদে ৮ জন
হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৪৫ জন
ভোট গণনা নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে স্ক্রিনে মনিটর
ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণের জন্য ৮০টি সিসি ক্যামেরা
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫ পদে লড়ছেন ১৭৭ জন। হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৪৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে ভিপি পদে ৯ এবং জিএস পদে লড়ছেন ৮ জন। তবে শেষ মুহূর্তে জিএস পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া। অন্যদিকে হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর চেম্বার আদালতে ওই রায় স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায়।
এরইমধ্যে জাকসু নির্বাচনে প্রচারণা শেষ হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট আয়োজনে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুত। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ আবাসিক হলের প্রতিটিতেই ভোটকেন্দ্র থাকছে। এরমধ্যে ১১টিতে ছাত্র ও ১০টিতে ছাত্রীরা ভোট দেবেন। মোট ২২৪টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। পোলিং অফিসার ও সহকারী মিলিয়ে ১৩৪ জন ভোটের দায়িত্বে থাকবেন। নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর শিক্ষার্থীরা, একজন প্রার্থী কতটুকু কাজ করতে পারবেন। সেটি বিবেচনায় নিয়েই ভোট দেব। আরেকজন বলেন, প্রার্থী বাছাই করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিব। কোন প্যানেল থেকে দাঁড়িয়েছে সেটি বিবেচনায় নেব না। এদিকে, ভোটের নিরাপত্তায় অন্তত ১২০০ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি গেটেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন রেজিস্টার ভবনের সিনেট হলে ভোট গণনা হবে। ছাত্রী ভোটকেন্দ্রগুলোতে নারী গণমাধ্যমকর্মী পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ-জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে নির্বাচন কমিশন। জাকসু নির্বাচন কমিশন সদস্য সচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, ভোটের দিন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে প্রায় এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য বিভিন্ন হল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া জাকসু নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী ও বিজিপি মোতায়েন চেয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছে নির্বাচন কমিশন। ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ-জাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোট গ্রহণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পাস চত্বর শান্ত; চায়ের দোকান আর খাবারের হোটেলগুলোয় তেমন ভিড় নেই। বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে একাধিক পুলিশ ভ্যান টহল দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে কয়েকজন প্রার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ব্যালট বাক্সগুলো জড়ো করে রাখা হয়েছে কার্যালয়ে। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। ভোট কেন্দ্র পর্যবেক্ষণের জন্য ৮০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে; সেগুলো দিয়ে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রের পরিবেশ মনিটর করা হবে। জাকসু নির্বাচন কমিশন সদস্য সচিব রাশিদুল আলম বলেন, ভোটের দিন নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ফটক বন্ধ থাকবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ভোটার, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অনুমতিপ্রাপ্ত গণমাধ্যম কর্মী ও পর্যবেক্ষকরা (যাদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমতিপত্র থাকবে) প্রবেশ করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এ দিন পার্শ্ববর্তী এলাকার বহিরাগতদের চলাফেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে; যা ভোটের পর দিন বেলা ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানান তিনি। নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও মনিটরিং এরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোট গণনা ও ভোট কেন্দ্রগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে বড় স্ক্রিনে সরাসরি মনিটরিং করা হবে বলেও জানান রাশিদুল আলম। জাকসু নির্বাচনে ২১টি হলে ভোট কেন্দ্র থাকবে। ১১টি ছেলেদের হল ও ১০টি মেয়েদের হলে ২১ জন রিটানিং কর্মকর্তা ও ৬৭ জন পোলিং কর্মকর্তা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। ২২৪টি বুথে ১১ হাজার ৮৯৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।


























