দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রতিবাদে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জোটের মুখপাত্র ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, সহিংসতা বন্ধ না হলে রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
একই বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩২টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিও জানায় ১১ দলীয় জোট। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তার দাবি, অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০০ পিস্তল এখনও উদ্ধার হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি কমিশনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলাফলের গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এতে অনেক প্রার্থী সময়মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে পারেননি বলে দাবি করেন।
ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জোটের এই নেতা। তার ভাষ্য, বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোট শেষ হলেও কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট হার দেখা গেছে, আবার শেষ মুহূর্তে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফল শিটে ঘষামাজা, পেনসিলে লেখা এবং এজেন্টের স্বাক্ষরে অসঙ্গতির অভিযোগও তোলেন তিনি।
বৈঠকটি বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়। এতে চার নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জোটের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ অন্যান্য নেতারা।
এর আগে শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন জোটের নেতারা।
শু/সবা






















