12:50 pm, Thursday, 9 July 2026

ঠাকুরগাঁওয়ে বট–পাকুড়ের বিয়ে

আধুনিক যুগে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। কুসংস্কার নয়, বরং পরম মমতা ও শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে ধুমধাম করে সম্পন্ন হলো একটি বট গাছ ও একটি পাকুড় গাছের বিয়ে।

প্রায় ৪০০ জন আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে উলুধ্বনিতে মুখর ছিল পুরো এলাকা। বিয়ের প্যান্ডেল, মন্ত্রপাঠ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ছিল না কোনো কমতি। তবে এই বিয়ের পাত্র–পাত্রী কোনো মানুষ নয়, বরং একটি বট ও একটি পাকুড় গাছ।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে গ্রামবাংলার বিলুপ্তপ্রায় এই লোকজ ঐতিহ্যের সাক্ষী হন শত শত মানুষ। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী কনে ‘বট’ গাছের পিতার দায়িত্ব পালন করেন পরিমল চন্দ্র এবং বর ‘পাকুড়’ গাছের পক্ষে ছিলেন বলরাম সরকার।

প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় এবং প্রবীণদের পরামর্শে এই আয়োজন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী মিলিয়ে প্রায় ৪০০ পরিবারকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ ও ধর্মীয় আচার শেষে আয়োজন করা হয় এলাহি ভোজের।

আধুনিক সময়ে নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের প্রবণতার বিপরীতে প্রকৃতির প্রতি মানুষের এই সযত্ন মমত্ববোধ সবার নজর কেড়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এমন আয়োজন শুধু বিনোদন নয়—বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের এক অনন্য স্মারক।

শু/সবা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four + two =

Popular Post

সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় যুবদলের ৩০০ নেতা–কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে: যুবদল সভাপতি

ঠাকুরগাঁওয়ে বট–পাকুড়ের বিয়ে

Update Time : ০৪:৪৫:১৮ pm, Saturday, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আধুনিক যুগে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। কুসংস্কার নয়, বরং পরম মমতা ও শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে ধুমধাম করে সম্পন্ন হলো একটি বট গাছ ও একটি পাকুড় গাছের বিয়ে।

প্রায় ৪০০ জন আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে উলুধ্বনিতে মুখর ছিল পুরো এলাকা। বিয়ের প্যান্ডেল, মন্ত্রপাঠ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে ছিল না কোনো কমতি। তবে এই বিয়ের পাত্র–পাত্রী কোনো মানুষ নয়, বরং একটি বট ও একটি পাকুড় গাছ।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে গ্রামবাংলার বিলুপ্তপ্রায় এই লোকজ ঐতিহ্যের সাক্ষী হন শত শত মানুষ। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী কনে ‘বট’ গাছের পিতার দায়িত্ব পালন করেন পরিমল চন্দ্র এবং বর ‘পাকুড়’ গাছের পক্ষে ছিলেন বলরাম সরকার।

প্রকৃতির মঙ্গল কামনায় এবং প্রবীণদের পরামর্শে এই আয়োজন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী মিলিয়ে প্রায় ৪০০ পরিবারকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠ ও ধর্মীয় আচার শেষে আয়োজন করা হয় এলাহি ভোজের।

আধুনিক সময়ে নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের প্রবণতার বিপরীতে প্রকৃতির প্রতি মানুষের এই সযত্ন মমত্ববোধ সবার নজর কেড়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এমন আয়োজন শুধু বিনোদন নয়—বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের এক অনন্য স্মারক।

শু/সবা