12:16 am, Wednesday, 20 May 2026

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের জন্মভূমি পেকুয়া এখন পৌরসভা 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের জন্মভূমি পেকুয়া এখন নতুন পৌরসভা উন্নিত।  জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পৌরসভা’ হিসেবে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে পেকুয়া।
গত ১৭ মে, রবিবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক বিশেষ গেজেটের মাধ্যমে পেকুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (পৌর-২ শাখা) থেকে প্রকাশিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারার উপ-ধারা (২) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার পেকুয়া উপজেলাধীন নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে ‘পেকুয়া পৌরসভা’ প্রতিষ্ঠা করেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহার।
সূত্র জানায়, পেকুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই তিনি পেকুয়াকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি স্থানীয় সরকার সচিবকে একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রদানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তাঁর সেই শক্তিশালী তদবির ও নির্দেশনার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুততম সময়ে জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করে। এরপর আপত্তি-নিষ্পত্তিসহ সকল আইনি ধাপ পেরিয়ে মে মাসের মাঝামাঝিতেই পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশিত হলো। এ অবস্থায় স্থানীয়রা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছেন যে, ২০০২ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সালাহউদ্দিন আহমদই বৃহত্তর চকরিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে পেকুয়া উপজেলা গঠন করেছিলেন। এবার তাঁরই হাত ধরে উপজেলা সদরটি পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় উন্নীত হয়ে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করল।
গেজেটের তফসিল অনুযায়ী, পেকুয়া উপজেলার ৪নম্বর পেকুয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মৌজা নিয়ে এই পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পেকুয়া মৌজার (জে.এল. নম্বর–০৮) দাগ নং ১–৮৯৫, ১৫০১–৩৪৩৩, ৪০০১–৫১১১, ৭০২০–৭৮৪১, ১০০০১–১০১৭৬, ১১০০১–১১৩০৭ এবং ১২০০১–১২২০৮–এর সকল জমি ও এলাকাকে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মেহেরনামা মৌজার (জে.এল. নম্বর–০৭) দাগ নং ১–৪৫৮, ৫১১–৫১৫ এবং ৪০০১–৪০৩৭–এর সকল জমি ও এলাকা নতুন এই পৌরসভার সীমানায় পড়েছে। এর ফলে পেকুয়া সদরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, কবির আহমদ চৌধুরী বাজার এলাকা এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলো এখন থেকে আধুনিক পৌর সুযোগ-সুবিধার আওতায় চলে এলো।
চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই পুরো পেকুয়ায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে দেখা যায় অভূতপূর্ব জনউচ্ছ্বাস। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সালাহ উদ্দিন আহমদ যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করেন- পেকুয়া পৌরসভা তার এক অনন্য উজ্জ্বল উদাহরণ। এই অর্জনের ফলে পেকুয়া সদরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন নতুন গতি পাবে। পৌর কাঠামোর মাধ্যমে পরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত সড়কবাতি এবং সুপেয় পানি সরবরাহের মতো নাগরিক সেবাগুলো এখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। এছাড়া পার্ক ও খেলাধুলার মাঠসহ পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তোলার পথ সুগম হলো।
শু/সবা
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five × four =

About Author Information

Popular Post

ইরানে আবারও হামলার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের জন্মভূমি পেকুয়া এখন পৌরসভা 

Update Time : ০৮:২৮:৪৩ pm, Tuesday, ১৯ মে ২০২৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের জন্মভূমি পেকুয়া এখন নতুন পৌরসভা উন্নিত।  জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পৌরসভা’ হিসেবে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে পেকুয়া।
গত ১৭ মে, রবিবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এক বিশেষ গেজেটের মাধ্যমে পেকুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (পৌর-২ শাখা) থেকে প্রকাশিত এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারার উপ-ধারা (২) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার পেকুয়া উপজেলাধীন নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে ‘পেকুয়া পৌরসভা’ প্রতিষ্ঠা করেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহার।
সূত্র জানায়, পেকুয়া পৌরসভা প্রতিষ্ঠার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই তিনি পেকুয়াকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি স্থানীয় সরকার সচিবকে একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রদানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। তাঁর সেই শক্তিশালী তদবির ও নির্দেশনার পর স্থানীয় সরকার বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুততম সময়ে জরিপ ও সীমানা নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন করে। এরপর আপত্তি-নিষ্পত্তিসহ সকল আইনি ধাপ পেরিয়ে মে মাসের মাঝামাঝিতেই পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশিত হলো। এ অবস্থায় স্থানীয়রা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছেন যে, ২০০২ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সালাহউদ্দিন আহমদই বৃহত্তর চকরিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে পেকুয়া উপজেলা গঠন করেছিলেন। এবার তাঁরই হাত ধরে উপজেলা সদরটি পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় উন্নীত হয়ে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করল।
গেজেটের তফসিল অনুযায়ী, পেকুয়া উপজেলার ৪নম্বর পেকুয়া ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ দুটি মৌজা নিয়ে এই পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পেকুয়া মৌজার (জে.এল. নম্বর–০৮) দাগ নং ১–৮৯৫, ১৫০১–৩৪৩৩, ৪০০১–৫১১১, ৭০২০–৭৮৪১, ১০০০১–১০১৭৬, ১১০০১–১১৩০৭ এবং ১২০০১–১২২০৮–এর সকল জমি ও এলাকাকে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মেহেরনামা মৌজার (জে.এল. নম্বর–০৭) দাগ নং ১–৪৫৮, ৫১১–৫১৫ এবং ৪০০১–৪০৩৭–এর সকল জমি ও এলাকা নতুন এই পৌরসভার সীমানায় পড়েছে। এর ফলে পেকুয়া সদরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, কবির আহমদ চৌধুরী বাজার এলাকা এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলো এখন থেকে আধুনিক পৌর সুযোগ-সুবিধার আওতায় চলে এলো।
চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই পুরো পেকুয়ায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহলে দেখা যায় অভূতপূর্ব জনউচ্ছ্বাস। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সালাহ উদ্দিন আহমদ যে প্রতিশ্রুতি দেন, তা যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করেন- পেকুয়া পৌরসভা তার এক অনন্য উজ্জ্বল উদাহরণ। এই অর্জনের ফলে পেকুয়া সদরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন নতুন গতি পাবে। পৌর কাঠামোর মাধ্যমে পরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত সড়কবাতি এবং সুপেয় পানি সরবরাহের মতো নাগরিক সেবাগুলো এখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। এছাড়া পার্ক ও খেলাধুলার মাঠসহ পরিবেশবান্ধব নগরী গড়ে তোলার পথ সুগম হলো।
শু/সবা