10:56 pm, Thursday, 21 May 2026

“যতক্ষণ সরকার চাইবে, সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করে যাবে” — সেনাপ্রধান

যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার সেনাবাহিনীকে প্রয়োজন মনে করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেনাসদস্যরা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী এখনো মাঠে মোতায়েন রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এবং বর্তমানে দেশের ৬২টি জেলায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা অনেক সেনাসদস্য প্রত্যাহার করেছি, তবে এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়নি। ইনশাআল্লাহ, কিছু সময়ের মধ্যে সবাই ব্যারাকে ফিরতে পারবে। তারপরও দেশের প্রয়োজনে আমাদের কিছু কাজ চালিয়ে যেতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, আমরা মাঠে থেকে বিভিন্ন কাজ করে যাব।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ফুয়েল ডিপোতেও সেনাবাহিনীর মোতায়েন রয়েছে এবং সময় অনুযায়ী বিভিন্ন জাতীয় প্রয়োজনে সরকারকে সহায়তা করতে হতে পারে।

সেনাপ্রধান জানান, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং সে লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের কারণে নিয়মিত ফায়ারিং অনুশীলন ব্যাহত হলেও সেনাসদস্যদের দক্ষতা কমেনি।

তিনি বলেন, “ফায়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন আমরা সেভাবে ফায়ারিং করতে পারিনি। এখন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো। ফলাফল ও দক্ষতা দেখে আমি আশান্বিত। দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার পরও আমাদের সক্ষমতা কমেনি, এটি ইতিবাচক দিক।”

পরে সেনাপ্রধান বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হয়।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শু/সবা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

5 × 5 =

About Author Information

জুওলজি ক্লাব অব তিতুমীরের উদ্যোগে ‘অ্যাস্ট্রোনমি টু প্যালিওন্টোলজি’ সেমিনার অনুষ্ঠিত

“যতক্ষণ সরকার চাইবে, সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করে যাবে” — সেনাপ্রধান

Update Time : ০৪:৫৭:৩৩ pm, Thursday, ২১ মে ২০২৬

যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার সেনাবাহিনীকে প্রয়োজন মনে করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেনাসদস্যরা মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী এখনো মাঠে মোতায়েন রয়েছে। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এবং বর্তমানে দেশের ৬২টি জেলায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমরা অনেক সেনাসদস্য প্রত্যাহার করেছি, তবে এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়নি। ইনশাআল্লাহ, কিছু সময়ের মধ্যে সবাই ব্যারাকে ফিরতে পারবে। তারপরও দেশের প্রয়োজনে আমাদের কিছু কাজ চালিয়ে যেতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের চাইবে, আমরা মাঠে থেকে বিভিন্ন কাজ করে যাব।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ফুয়েল ডিপোতেও সেনাবাহিনীর মোতায়েন রয়েছে এবং সময় অনুযায়ী বিভিন্ন জাতীয় প্রয়োজনে সরকারকে সহায়তা করতে হতে পারে।

সেনাপ্রধান জানান, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং সে লক্ষ্যে ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের কারণে নিয়মিত ফায়ারিং অনুশীলন ব্যাহত হলেও সেনাসদস্যদের দক্ষতা কমেনি।

তিনি বলেন, “ফায়ারিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন আমরা সেভাবে ফায়ারিং করতে পারিনি। এখন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো। ফলাফল ও দক্ষতা দেখে আমি আশান্বিত। দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার পরও আমাদের সক্ষমতা কমেনি, এটি ইতিবাচক দিক।”

পরে সেনাপ্রধান বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হয়।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শু/সবা